তামিলনাড়ুর সংস্কৃতি ‘জাল্লিকাত্তু’

তামিলনাড়ুর সংস্কৃতি ‘জাল্লিকাত্তু’

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন

ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে পোঙ্গাল নামে যে উৎসব উযযাপিত হয় তার একটি খেলা এই ষাড় বশিকরণ বা ‘জাল্লিকাত্তু’। চারদিনব্যাপী পোঙ্গাল উৎসবের তৃতীয় দিনে শুরু হয় এই খেলা। দুটি তামিল শব্দ ‘জাল্লি’ ও ‘কাত্তু’ মিলে জাল্লিকাত্তু শব্দটি তৈরি। জাল্লি’র মানে হলো স্বর্ণ বা রৌপ্য মুদ্রা। আর কাত্তু মানে বেধে দেয়া। দুটি শব্দ এক হয়ে যে অর্থ দাঁড়ায় তা হলো ষাড়ের শিংয়ের সঙ্গে স্বর্ণ বা রৌপ্য মুদ্রাভর্তি থলি বেধে দেয়া। যে ষাড়টিকে পরাস্ত করতে পারবে এটা তার পুরস্কার। আর ষাড়টি যদি বিজয়ী হয় তাহলে তা রেখে দেয়া হবে প্রজননের কাজে ব্যবহারের জন্য। প্রায় আড়াই হাজার বছর ধরে তামিল সংস্কৃতির অংশ এই খেলা। তবে এই খেলার কারণে অনেক সময় মৃত্যুর ঘটনা ঘটে বলে এর বিরোধিতা করেন অনেকে।

তামিলনাড়–র ইউনাইটেড প্রগ্রেসিভ পার্টি (ইউপিএ) সরকারের পরিবেশ মন্ত্রণালয় ২০১১ সালে জারি করা আগের এক নির্দেশনা সংশোধন করে গত বছর নতুন নির্দেশনা জারি করে। এতে বলা যত নিষেধাজ্ঞাই থাকুক জাল্লিকাত্তু খেলার আয়োজন করা যাবে। এই নির্দেশনা ছিলো সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং প্রাণিরক্ষা আন্দোলনগুলো এই নির্দেশনাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মামলা করে। ফলে আদালত রাজ্য সরকারের নির্দেশনা স্থগিত করে। প্রাণিরক্ষা আন্দোলন পিপল ফর দ্যা ইথিকাল ট্রিটমেন্ট অব এনিমেল (পিইটিএ)’র এক গবেষণায় দেখানো হয় খেলায় অংশ নেয়া ষাড়গুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে অঙ্গহানি করা হচ্ছে। ষাড়ের লেজ মোচড়ানো হয়, ষাড়কে ছুরিকাঘাত বা মুষ্ঠাঘাত করে মাটিতে ফেলা হয়। জন আব্রাহাম ও হেমা মালিনির মতো খ্যাতিমান চিত্র তারকারা পিইটিএ’র প্রচারণাকে সমর্থন দেয়। এই সংগঠনটি জাল্লিকাত্তু নিষিদ্ধের জন্য আন্দোলন শুরু করে।

পিইটিএ’র আন্দোলনের কারণ
তামিলনাড়ু সরকারের এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছর জানুয়ারিতে কেন্দ্রিয় সরকার জাল্লিকাত্তু খেলার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। এর বিরুদ্ধে পিইটিএসহ বেশি কিছু সংগঠন সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে। পিইটিএ’র যুক্তি হলো কেবল জবাই করলেই নিষ্ঠুরতা হয় না, মানুষের বিনোদনের জন্য পশুর ওপর নির্যাতন ও অহেতুক দুর্ভোগ সৃষ্টিও এর অন্তর্ভুক্ত।

জাল্লিকাত্তু বহাল রাখার পক্ষে তামিলনাড়ু বাসী
এই খেলাকে তামিলনাড়ু’র গৌরবময় ইতিহাসের অংশ বলে মনে করা হয়। এটি একটি প্রাচীন ঐতিহ্য। হাজার হাজার মানুষ এই খেলা দেখতে ভীড় জমায়। প্রতিযোগীরা শিং ধরে ষাড়টিকে কাবু করার চেষ্টা চালায়। দ্রাবিড় সাহিত্যে এই খেলার অসংখ্য উল্লেখ পাওয়া যায়। প্রাচীনকাল থেকেই তামিলনাড়ু’র মানুষ প্রতিবছর এই খেলার আয়োজন করে আসছে। জাল্লিকাত্তুর ওপর নিষেধাজ্ঞা তামিলনাড়ু’র সাংস্কৃতিক পরিচয়ের ওপর হামলা বলে মনে করছে রাজ্যবাসী। তাই তারা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

বিক্ষোভকারীদের দাবি
তারা বলছেন এই ষাড়ের লড়াইয়ের খেলা তামিল গৌরব ও সংস্কৃতির অংশ। ষাড়ের ওপর নৃসংশতা চালানোর কথাও অস্বীকার করেন তারা। যেসব প্রাণীঅধিকার আন্দোলন জাল্লিকাত্তু নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছে তাদেরকে রাজ্য থেকে বহিস্কারের দাবি তুলেছেন বিক্ষোভকারীরা।

সূত্র: এনডিটিভি

print
শেয়ার করুন