বাংলাদেশের অর্থনীতির বিকাশের ভিত্তি টেকসই হবে?

বাংলাদেশের অর্থনীতির বিকাশের ভিত্তি টেকসই হবে?

এসএএম রিপোর্ট,
শেয়ার করুন

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উচ্চ-মাঝারি হারে অর্থনীতি’র বিকাশ ঘটলেও এর টেকসই উন্নয়ন ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সরকার ৭.২ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। কিন্তু বিশ্বব্যাংক বলেছে, বৈদেশিক খাত বিশেষত রফতানি ও রেমিটেন্স খাতে দুর্বলতার কারণে প্রবৃদ্ধি ৬.৮ শতাংশের বেশি হবে না। এই হার ২০১৬ অর্থবছরে যে ৭.১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে সরকার উল্লেখ করেছে তার চেয়ে বেশ খানিকটা নিচে। আবার সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর তৈরি উপাত্তে যে তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে সেগুলোর মধ্যে বৈপরিত্য দৃশ্যমান হওয়ায় এগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন যে সব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি তার মধ্যে রয়েছে, রেমিটেন্সের বড় ধরনের ঋণাত্বক প্রবৃদ্ধি, রফতানি আয়ের প্রবৃদ্ধি আমদানি প্রবৃদ্ধির প্রায় অর্ধেকে নেমে আসায় চলতি হিসাবের ঘাটতি বৃদ্ধি, অনুন্নয়ন খাতের ব্যয় আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি বিশেষত দেশি-বিদেশি ঋণের দায় দেনা বেড়ে যাওয়ায় বাজেটে চাপ বাড়া। আর সেই সাথে রয়েছে রাজস্ব খাতের জন্য নির্ধারণ করা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বাস্তব অর্জন বেশ খানিকটা পিছিয়ে থাকা। দেশটিতে ব্যাংক আমানতের উপর যে সুদ বা মুনাফা দেয়া হচ্ছে তার চেয়ে মূল্যষ্ফীতির হার বেশি হওয়ায় প্রকৃত মূল্যে জনগণের সঞ্চয় সংকুচিত হচ্ছে। এতে বিড়ম্বনার মুখে পড়ছে অবসরভোগী ও স্থির আয়ের লোকজন।
পাশাপাশি অর্থনীতির বিকাশ সেবা খাত নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় দীর্ঘ মেয়াদে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি-হারের ধারাবাহিকতা ক্ষুণ্ন  এবং কর্মসংস্থান নিয়ে সঙ্কট সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া বিশ্ববাজারে জালানি তেলের দাম কমার কারণে এ খাতে বিপুল অর্থ সাশ্রয়ের যে অবকাশ ছিল দাম আবার উর্ধ্বমুখি হওয়ায় সে অবস্থা আর থাকছে না। এর বাইরে শ্রীলঙ্কার মতো লা-লিনা এল-নিনোর প্রভাবে বৈরি কোন আবহাওয়া দেখা দিলে কৃষির উপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। যা সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হারের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে।
বাংলাদেশে গত প্রায় এক দশক ধরে রাজনৈতিক স্থিরতা নানা কারণে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষত রাজনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রণমূলক নীতি গ্রহণ এবং বিরোধি মত প্রকাশের সুযোগ সীমিত করে দেয়ার ‘রেজিমেন্টেড অবস্থা’র প্রভাব অর্থনীতির বেশকিছু ক্ষেত্রেও পড়েছে। টানা ছয় বছর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশের উপরে থাকলে দেশের অভ্যন্তরীণ কর্মকান্ডে যে ধরনের গতি থাকার কথা ছিলো তা দেখা যাচ্ছে না। অর্থনীতির স্বাভাবিক নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটিয়ে কিছু কিছু জনতুষ্টিমূলক পদক্ষেপ নেবার বিরূপ প্রভাব পড়ছে কয়েকটি মৌলিক অর্থনৈতিক সূচকে। এক দশকের বেশি সময় ধরে মার্কিন ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশ টাকার বিনিময় হার এক স্থানে স্থির রয়েছে। অথচ এ সময়ে বাংলাদেশে গড়ে ৭ শতাংশ হারে মূল্যষ্ফীতি হয়েছে। জিডিপি’র প্রকৃত মূল্য হিসাব করার যে মূল্য-সংকোচক বা ডিপ্লেটর রয়েছে তার হারও মূল্যষ্ফীতির হারের সাথে মিল রয়েছে।
এই পদক্ষেপের কারণে আমদানি করা জিনিসপত্রের অভ্যন্তরীণ বাজার মূল্য স্থির থাকছে। কিন্তু প্রবাসি বাংলাদেশিরা দেশে যে আয় পাঠাচ্ছেন তাতে তারা প্রকৃত মূল্য কম পাচ্ছেন। ফলে তারা ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ প্রেরণে নিরুৎসাহিত হয়ে হুন্ডির মতো অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলের আশ্রয় নিচ্ছেন। এসব কারণে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রেমিটেন্স প্রবৃদ্ধির হার ইতিবাচক ধারার পরিবর্তে ঋণাত্বক ধারায় চলে গেছে। এ সময় রেমিটেন্স কমেছে ২.৫২ শতাংশ। চলতি ২০১৬-১৭ অর্র্থবছরে এসে অবস্থার আরো অবনতি ঘটেছে। জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে রেমিটেন্স ১৭.৬৩ শতাংশ কমে গেছে। সর্বশেষ গত ডিসেম্বরে আগের বছরের একই মাসের তুলনায় রেমিটেন্স কমেছে ২৭ শতাংশ। এ ধারা অব্যাহত থাকলে অর্থ বছর শেষে বাংলাদেশের প্রবাস আয় এক চতুর্থাংশের বেশি কমে যেতে পারে।
প্রকৃত কার্যকর বিনিময় হারকে বিবেচনায় না এনে পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণমূলক বিনিময় হার বজায় রাখার বিপদ সম্পর্কে আগেই সতর্ক করেছিলো আইএমএফ। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সে পরামর্শ আমলে নেয়া হয়নি। ফলে ১০ বছর ধরে মার্কিন ডলারের বিনিময় ৭৮/৭৯ টাকায় অপরিবর্তিত রয়েছে। অথচ একই সময়ে প্রতিবেশি ভারতে স্থানীয় মুদ্রার বিনিময় হার ডলারের বিপরীতে ১০ শতাংশের বেশি কমেছে। এর প্রভাব এখন আরো মারাত্মকভাবে দেখা যাচ্ছে রফতানি আয়ে। রফতানিকারকরা ডলারের দাম কমিয়ে রাখায় স্থানীয় মুদ্রায় রূপান্তরের পর তাদের রফতানি পণ্যের প্রকৃত দাম পাচ্ছে না। এতে অনেকের দেশে অপ্রত্যাবাসিত রফতানি আয় বেড়ে যাচ্ছে। নানা অজুহাতে রফতানি মূল্য দেশের বাইরে রেখে দেয়া হচ্ছে। গত কয়েক বছরের রফতানি চিত্রে এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে। এক সময়ের ২০ শতাংশের বেশি রফতানি প্রবৃদ্ধি এখন এক অঙ্কের নিচে চলে এসেছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের রফতানি প্রবৃদ্ধি ৯.৭২ শতাংশ থেকে কমে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে অর্ধেকে নেমেছে। অথচ এ সময়ে বিশ্ববাজারের বিশেষত ইউরোপীয় অর্র্থনীতি পুনরুদ্ধারের কারণে সেখানে ভোগ্য পণ্যের বাজার চাঙ্গা হয়েছে। এতে বাংলাদেশি পোশাকের চাহিদাও বাড়ছে। কিন্তু এই বর্ধিত চাহিদার বড় অংশ প্রতিযোগী ভারত, পাকিস্তান ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো পেয়ে যাচ্ছে।
বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের দু’টি প্রধান খাত রেমিটেন্স ও রফতানিতে শ্লথগতির পর আমদানি ব্যয়ের সাথে এর ব্যবধান বেড়ে যাওয়ায় চলতি হিসাবে ঘাটতি বাড়ছে। চলতি অর্থ বছরের প্রথম ৬ মাসে যখন রফতানি আয় হয়েছে ৪.৪ শতাংশ তখন আমদানি ব্যয় বেড়েছে সাড়ে ৯ শতাংশ। আর ১৮ শতাংশের কাছাকাছি রেমিটেন্স কমেছে। ফলে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে ৫ মাসে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭২৬ মিলিয়ন ডলার। অথচ আগের অর্থবছরে লেনদেনের ভারসাম্যে ৩ হাজার ৭০৬ মিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্ত ছিল। প্রধানত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে চীনা অর্থ বিনিয়োগ আসায় সার্বিক লেনদেনের ভারসাম্যের অবস্থা তত খারাপ হয়নি। তবে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানি ব্যয় বাড়তে থাকবে।
বাংলাদেশ সরকারের সামনে আরেকটি বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হলো রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন। ২০১৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের যে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছিলো জুন শেষে বাস্তব আদায় তা থেকে ৬ হাজার কোটি টাকা কম হয়েছে। ফলে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ৪২ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তা অর্জন করতে হলে রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে ৪১.৬৪ শতাংশ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড প্রথম ৪ মাসে পৌনে ১৮ শতাংশের মতো রাজস্ব আদায় বাড়াতে পেরেছে। এ অবস্থায় রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সরকারের পক্ষে কোনভাবেই সম্ভব হবে না। রাজস্ব ঘাটতির কারণে উন্নয়ন বাজেটের বাস্তবায়নে ব্যাপক কাটছাট করতে হবে।
টাকার বিনিময় হার কৃত্রিমভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখার একটি সুফল হলো ডলারের হিসাবে বাংলাদেশের জাতীয় আয় বাড়ছে। বলা হচ্ছে কয়েক বছরের মধ্যে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে শ্রীলঙ্কা এখন যে তিক্ত অভিজ্ঞতার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশে তা বিবেচনায় আনা হচ্ছে না। শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. ইন্দ্রজিৎ কুমারাস্বামি কয়েকদিন আগে জানিয়েছেন, ২০১৬ সালে তার সরকারের রাজস্বের প্রায় ৯০ শতাংশ ঋণ বাবদ পাওনা পরিশোধে চলে যাচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ রাজস্ব চলে যায় সরকারের নেয়া ঋণের সুদ পরিশোধে। আর অতিরিক্ত ৫৬ শতাংশ রাজস্ব ব্যয় হয় ঋণের কিস্তি পরিশোধে। গভর্নর উল্লেখ করেন, সমস্যা হলো শ্রীলঙ্কার মাথাপিছু আয়ের কারণে নিম্ন-মাঝারি আয়ের অর্থনীতি হয়ে উঠেছে। আর এতে দাতাদের কাছ থেকে অ-রেয়াতি বাজেট অর্থায়ন ধীরে ধীরে কমে এসেছে। আর অ-রেয়াতি বাণিজ্যিক ঋণের দায় মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সরকারের উচ্চ ঋণ অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যয়ের চাপ সৃষ্টি করে। এতে সুদের হার বৃদ্ধি পায় বলে বেসরকারি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হয় এবং রাজস্ব নমনীয়তা সীমিত হয়ে পড়ে। বড় অঙ্কের রাজস্ব ও চলতি হিসাবের ঘাটতি শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক কাঠামোতে দু’টি প্রধান সমস্যা হয়ে চেপে আছে।
শ্রীলঙ্কা এখন যে সমস্যার মধ্যে আছে বাংলাদেশও সে দিকে যাচ্ছে। বাংলাদেশে এখন বাণিজ্যিক শর্তে সরকারি ও রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টিযুক্ত বেসরকারি খাতের ঋণ বাড়ছে। ২০১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশকে ২৯ হাজার ৪৪৮ কোটি টাকার সুদ দিতে হয়েছে অনুন্নয়ন বাজেট থেকে। এই অঙ্ক প্রতিবছরই বাড়ছে। এ বেপরোয়া অবস্থা চলতে থাকলে একসময় শ্রীলঙ্কা এবং পরে গ্রীসের অবস্থা হতে পারে বাংলাদেশের।
বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি অন্তর্নিহিত দুর্বল দিক হচ্ছে কর্মসংস্থানমুখি খাতগুলোতে এর বিকাশ কম হচ্ছে। বাংলাদেশ অর্থনীতির অবয়ব ক্রমে পরিবর্তন হয়ে কৃষি খাতের অবদান এখন ১৫ শতাংশে নেমে গেছে। অথচ দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠি এ খাতের উপর নির্ভরশীল। সমাপ্ত অর্থবছরে এখাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২.৭৯ শতাংশ। দুই অঙ্কের বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে শিল্প, জনপ্রশাসন-প্রতিরক্ষা ও শিক্ষা খাতে। শিল্প খাতে ১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হিসাব করা হয়েছে। কিন্তু গ্যাস বিদ্যুতের সংযোগ বন্ধ ও নিয়ন্ত্রণের পর নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠা বা সম্প্রসারণ একেবারে কমে গেছে। আর দেশের ৪ শতাংশ রফতানি আয় প্রবৃদ্ধির সাথেও ১১ শতাংশ শিল্প প্রবৃদ্ধির হিসাবের কোন মিল পাওয়া যায় না।
বাংলাদেশের জাতীয় হিসাব প্রণয়নের দায়িত্ব পালন করে পরিসংখ্যান ব্যুরো। এক সময় ব্যুরোর হিসাব নিকাশে যতটা আস্থা উন্নয়ন অংশীদারদের দেখা যেত সেটি এখন সেভাবে নেই। যেসব মাঠ পর্যায়ের পরিসংখ্যান নিয়ে জাতীয় হিসাব তৈরি করা হয় অর্থনীতির আকর্ষণীয় চেহারা দেখাতে গিয়ে সেখানে নয়-ছয় করার অভিযোগ আছে। ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ নিয়েও বিরাট ফাঁকির কথা মাঝে মধ্যে প্রকাশ হয়ে পড়ে। ব্যাংকের উপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে প্রশ্ন সাপেক্ষ বিনিয়োগের মাধ্যমে বড় অঙ্কের টাকা বের করার বিষয়টি বাংলাদেশে এখন আলোচিত বিষয়। একদিকে ব্যাংকে রক্ষিত আমানতের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা, অন্য দিকে আমানতের উপর প্রদেয় সুদ বা মুনাফা মূল্যষ্ফীতির চেয়ে ২/৩ শতাংশ কম থাকা সঞ্চয়কে নিরুৎসাহিত করছে। এর প্রভাব এক সময় বিনিয়োগের জন্য লভ্য তহবিলের উপর পড়বে। এভাবে চলতে থাকলে এক পর্যায়ের অর্থনীতির একটি সূচকের সাথে অন্য সূচকের ব্যবধান এবং অসঙ্গতি প্রকট হয়ে উঠবে। তখন অর্থনীতিকে সামলাতে গ্রীসের মতো পুরো হিসাব-নিকাশ ঢেলে সাজাতে হবে।

print
শেয়ার করুন