দক্ষিণ এশিয়ার ৮ দেশের বিদেশি দায় ভারতের মাত্র ৩১ শতাংশ

দক্ষিণ এশিয়ার ৮ দেশের বিদেশি দায় ভারতের মাত্র ৩১ শতাংশ

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন

দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে সর্বাধিক বিদেশি দায় দেনা রয়েছে ভারতের। দক্ষিণ এশিয়ার বাকি ৮ দেশ মিলিয়ে যে বিদেশি দায় রয়েছে তার মোট পরিমাণ ভারতের বিদেশি ঋণের ৩১ শতাংশ। বিদেশি দায় দেনার ক্ষেত্রে ভারতের পর অনেক বড় ব্যবধানে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার স্থান। আর মাথাপিছু সবচেয়ে বেশি বিদেশি ঋণ রয়েছে মালদ্বীপের। এক্ষেত্রে মালদ্বীপের পরে রয়েছে শ্রীলঙ্কা ও ভুটান।
উইকিপিয়া ও অন্যান্য সূত্রের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে ভারতের মোট বিদেশি দায় দেনা রয়েছে ৪৮৫.৬০ বিলিয়ন ডলার। আর দক্ষিণ এশিয়ার বাকি ৮ দেশ মিলিয়ে বিদেশি দায় রয়েছে ১৫০ বিলিয়ন ডলারের মতো। তবে এই বিপুল দায় দেনার পরও দেশটির অনেক বেশি জনসংখ্যা থাকার কারণে মাথাপিছু বিদেশি দেনার অঙ্ক হলো ৩৮৮ ডলার। তুলনামূলকভাবে মাথাপিছু স্বল্প আয় হওয়ার পরও বিপুল প্রতিরক্ষা ব্যয় ও অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে ঋণ নির্ভর বিপুল বিনিয়োগের কারণে ভারতের দায় দেনা ক্রমেই বেড়ে চলেছে।
ভারতের পরে সবচেয়ে বেশি বিদেশি দেনা রয়েছে পাকিস্তানের। এই দায়ের পরিমাণ হলো ৬৭ বিলিয়ন ডলার। তবে মাথাপিছু হিসাব করা হলে পাকিস্তানের দেনার পরিমাণ ৩৬৬ মার্কিন ডলার।
মোট ঋণের ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ায় ৩ নাম্বার স্থানে রয়েছে শ্রীলঙ্কা। ২০১১ সালেও দেশটির বিদেশি ঋণের পরিমাণ ছিল ৬৪ বিলিয়ন ডলার কিন্তু এর মধ্যে বেশ কিছু বড় অঙ্কের ঋণকে ইকুইটিতে রূপান্তর করে দেশটি মোট বিদেশি ঋণের অঙ্ক ৪৬ বিলিয়ন ডলারে নামিয়ে এনেছে। এর পরও মাথাপিছু ঋণ হিসাবে দেশটি দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় স্থানে। প্রতিটি শ্রীলঙ্কানের এখন মাথাপিছু বিদেশি দেনার অঙ্ক হলো ২,১৯৭ ডলার। দেশটি প্রতিবছর যে রাজস্ব আয় করে তার ৯০ শতাংশ বিদেশি দায় দেনা মেটাতে চলে যায়।
শ্রীলঙ্কার পরই উদীয়মান বিদেশি দায় দেনার দেশ হলো বাংলাদেশ। প্রতি বছরই দেশটির বিদেশি দায় বাড়ছে। সর্বশেষ হিসাব অনুসারে বাংলাদেশের বিদেশি দায় হলো ২৫.৯৬ বিলিয়ন ডলার। আর মাথাপিছু ঋণের অঙ্ক হলো ১৪৯ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে আসার কথা চলছে। একই সাথে দেশটির রেয়াতি ঋণের পরিবর্তে বাণিজ্যিক ধরনের ঋণ বাড়ছে। ফলে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ যে হারে বাড়ছে তার চেয়ে বেশি বাড়ছে সুদের চাপ। এভাবে বাংলাদেশ আস্তে আস্তে শ্রীলঙ্কার অবস্থার দিকে যাচ্ছে।
মিয়ানমার ও নেপাল বিদেশি ঋণের দায়ের বিবেচনায় বেশ স্বস্তিকর অবস্থায় আছে। মিয়ানমারের মোট বিদেশি ঋণ হলো ৫.৪৫ বিলিয়ন ডলার। মাথাপিছু হিসাবে যা দাঁড়ায় মাত্র ১১৭ ডলার। অন্য দিকে নেপালের মোট ঋণ হলো ৩.৭৭ বিলিয়ন ডলার। মাথাপিছু হিসাবে এই ঋণের অঙ্ক দাঁড়ায় ১৩৬ মার্কিন ডলার।
দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে দুর্ভাগা দেশ হলো আফগানিস্তান। যুদ্ধ আর হানাহানির মধ্যে তিন দশকের বেশি সময় পার করা এই দেশটির বিদেশি দায়ের অঙ্ক একবারে কম – মাত্র ১.২৮ বিলিয়ন ডলার। অবশ্য দেশটির ঋণ ফেরত দানের ক্ষমতা না থাকায় ধারের চেয়ে খয়রাত বা অনুদানই বেশি দেয়া হয়। আফগানিস্তানের মাথাপিছু বিদেশি দায় হলো দক্ষিণ এশিয়ার সর্বনিম্ন ৪২ ডলার।
আফগানিস্তানের প্রায় কাছাকাছি বিদেশি ঋণ রয়েছে ভুটানের। অল্প মানুষের এই দেশটির মোট ১.২৫ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি দায় মাথাপিছু হিসাব করার পর দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে তৃতীয় সর্বাধিক ১,৭৪৭ ডলারে দাঁড়ায়।
ভৌগোলিকভাবে আবহাওয়া পরিবর্তনে সবচেয়ে ভঙ্গুর রাষ্ট্র মালদ্বীপের মোট বিদেশি দায় দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে কম – ১.১৫ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু মাথাপিছ হিসাবে এ দেশটির মানুষের সবচেয়ে বেশি বিদেশি ঋণ রয়েছে। যার পরিমাণ হলো ২,৯৪৭ ডলার। বিদেশি ঋণের বোঝা এই দ্বীপ সর্বস্ব দেশের ক্রমেই বাড়ছে। মাঝে মধ্যে দ্বীপ ইজারা দিয়ে ঋণের অঙ্ক কমানো হয়। পরে উন্নয়নের নানা প্রকল্পে তা আবার বেড়ে যায়।

print
শেয়ার করুন