ট্রানজিট বাণিজ্য রুটগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে সিপিইসি

ট্রানজিট বাণিজ্য রুটগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে সিপিইসি

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন

সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও অবকাঠামো প্রকল্পগুলো পূর্ণ গতিতে এগুতে থাকায় মধ্য এশিয়ার সাথে রাশিয়াকে সংযুক্তকারী ট্রানজিট বাণিজ্য রুটগুলো যেখানে মিলিত হয়েছে, সেখানে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

পাকিস্তান সব বিপদ থেকে সিপিইসিকে রক্ষা করার জন্য একটি বিশেষ নিরাপত্তা ডিভিশনও দিয়েছে। চীনা সরকারি ওয়েবসাইট ‘china.org.cn’ মঙ্গলবার এই অভিমত ব্যক্ত করেছে।
সিপিইসির সাথে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ (বিঅ্যান্ডআর)-এর যাত্রা শুরু হয়েছে। এটা হলো সিপিইসির ছয়টি করিডোরের প্রথমটি এবং ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ কৌশলের অপরিহার্য অংশ। এটা মধ্য এশিয়াকে খুলে দেবে, জিনজিয়াংকে যুক্ত করবে, গোয়াদর বন্দর দিয়ে আফ্রিকা, ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের দিকে এগুতে থাকবে।

এই অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সবই চীন-রাশিয়া-পাকিস্তান শক্তিত্রয়ের আকারে একটি প্রধান ভূ-রাজনৈতিক নতুন জোট সৃষ্টি করতে যাচ্ছে। এই সমীকরণটি অর্থনৈতিক কল্যাণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পারস্পরিক নিরাপত্তা উদ্বেগও দূর করবে।

এটা যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কের নতুন মাত্রার প্রেক্ষাপটে পুরো অঞ্চলকে সুসংহত করার কাজও করবে। ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগটি ভূ-অর্থনীতি ও ভূ-কৌশলের অপরিহার্য সমন্বয়।

ওয়েবসাইটটি জানায়, ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ বৈশ্বিক একীভূত করার দুর্দান্ত দৃষ্টান্ত। ৬৫টি দেশ, বিশ্বের জিডিপির এক তৃতীয়াংশ, বিশ্ব জনসংখ্যার ৬৫ ভাগ এবং সব পণ্য ও পরিষেবার এক চতুর্থাংশের সাথে জড়িত এই উদ্যোগ।

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিঙ ২০১৩ সালের শেষ দিকে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেন। এতে থাকা ‘বেল্ট’ শব্দটি দিয়ে বিশ্বজুড়ে সড়কগুলোর নেটওয়ার্ক এবং ‘রোড’ দিয়ে জাহাজ চলাচল ও বন্দরগুলোর নেটওয়ার্ক বোঝানো হয়েছে।

প্রকল্পটিতে চীনের অর্থনৈতিক লক্ষ্যকে এগিয়ে নেয়া এবং এর শিল্প সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ভূ-কৌশলগত উপাদান রয়েছে। এটা তেল আমদানির জন্য মালাক্কা প্রণালীর ওপর চীনের নির্ভরশীতা দূর করবে, বাণিজ্যিক কানেকটিভিটির উন্নতি ঘটাবে, চীনা পররাষ্ট্রনীতি এগিয়ে নেবে এবং বিশ্বকে নতুন করে সংযুক্ত করার মাধ্যমে সঙ্ঘাত ন্যূনতম করবে।

শতাব্দী-সেরা এই প্রকল্পটি ২০১৩ সাল থেকে ট্রান্স-আটলান্টিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার বিপর্যয় প্রতিরোধ করে বিশ্ব অর্থনীতিকে সজীব রেখেছে।

প্রাইসওয়াটারহাউজকুপারর্স-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনা অর্থনীতির ‘প্রকৃত মূল্য’ এবং বিভিন্ন দেশে এর বিনিয়োগের পাশাপাশি বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগে অবকাঠামোতে পরিবর্তন ঘটছে এবং দ্রুতগতিতে বিকাশ বাড়ছে।

সিল্ক রোড তহবিল এবং এশিয়া অবকাঠামো ব্যাংকের অর্থায়নে মূলত বেল্ট অ্যান্ড রোড নির্মিত হবে। এছাড়া ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ বাতিল এশিয়ান বিনিয়োগ নতুন করে একীভূত করার জন্য বেইজিংয়ের কাছে নিখুঁত সুযোগ এনে দিয়েছে।

বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পটি চীনের নতুন সংস্কারের অখন্ড অংশ এবং দেশটির পররাষ্ট্রনীতির অনিবার্য অংশ হওয়ায় এই উদ্যোগের আরো সম্ভাবনা ও নির্দেশনা ‘দুটি অধিবেশনে’ নির্ধারিত হবে।

চীন চলতি মে মাসে বেল্ট অ্যান্ড রোড ফোরাম আয়োজন করতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত যদি এতে অংশ নেয় কিংবা এই ফোরামে তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার ইঙ্গিত দেয়, তবে তা হতে পারে চীনের জন্য বিরাট সাফল্য। আসলে মহাখেলা কখনো শেষ হয় না। ইউরেশিয়ান শতকে চীনা বিচক্ষণতা ও শান্তিপূর্ণ বিশ্বায়নের আরো অনেক সুযোগ থাকবে।

শেয়ার করুন