সীমান্ত হত্যা: গোবিন্দ পেলো শহীদের মর্যাদা, ফেলানী শুধুই স্মৃতি

সীমান্ত হত্যা: গোবিন্দ পেলো শহীদের মর্যাদা, ফেলানী শুধুই স্মৃতি

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন

বাংলাদেশ-ভারত সীমন্তের কাঁটাতারের বেড়ায় আটকে পড়ে ১৫ বছর ফেলানি যখন ছাড়া পাওয়ার জন্য ছটফট করছিলো তখন ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী – বিএসএফ তাকে গুলি করে হত্যা করে। তার কোন দোষ ছিলো না। বাবা নুরুল ইসলামের সঙ্গে বাড়ি ফিরছিলো সে, তখনই ঘাতকের বুলেট তার জীবন কেড়ে নেয়। কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলতে থাকা ফেলানীর নিথর দেহের ছবি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় সমালোচনা ঝড় তোলে।

২০১১ সালের ৭ জনুয়ারি ফেলানীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এরপর ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও মানুষের স্মৃতিপটে ওই ছবি এখনো জীবন্ত। তবে, ওই পর্যন্তই।
ওই সময় প্রবল প্রতিবাদের মুখে বিএসএফ ঘটনাটি তদন্তের জন্য বিশেষ আদালত গঠন করে। কিন্তু কুচবিহার সীমান্তে ফেলানীকে হত্যাকারী বিএসএফ জওয়ান অমীয় ঘোষকে নির্দোষ বলে রায় দেয় বিএসএফ’র আদালত। তার বিরুদ্ধে নাকি অভিযোগের যথেষ্ঠ প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আদালতে ফেলানীর বাবা ও চাচা স্বাক্ষ্য দিয়েছেন। বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বিজিবি’র লে. কর্নেল জিয়াউল হক খালেদ ও কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর আব্রাহাম লিংকন তাদেরকে আদালতে নিয়ে গিয়েছিনে স্বাক্ষ্য দেয়ার জন্য। বাংলাদেশ সীমান্তে হত্যাকান্ড এখনো চলছে।

ভিন্ন দৃশ্য নেপালে
গত ৯ মার্চ কাঞ্চনপুরের পুনারবাস সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীরা গুলি করে গোবিন্দ গৌতম নামে এক নেপালী নাগরিককে হত্যা করে। গোবিন্দকে ‘শহীদ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে নেপালের সরকার। নিহতের পরিবারকে ১০ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। যথাযথ মর্যাদায় তার অন্তেষ্ট্যিক্রিয়া সম্পন্ন হবে এবং তার সন্তানদের লেখাপড়ার খরচও রাষ্ট্র বহন করবে।

নেপাল সরকার এই হত্যাকান্ডের নিন্দা জানিয়েছে। দেশটির উপ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এই ঘটনার ব্যাপারে তার সরকারের অবস্থান ইতোমধ্যে স্পষ্ট করা হয়েছে। তিনি জানান, মোদি’র জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল প্রধামন্ত্রী পুষ্প কমল দহলকে টেলিফেন করে এই ঘটনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের নিরপরাধ নাগরিকদের বিএসএফ যখন একের পর এক গুলি করে হত্যা করে তখন বাংলাদেশ সরকারকে চুপ করে থাকতে দেখা যায়। মাঝে মধ্যে পতাকা বৈঠক করে দায়সারা গোছের প্রতিবাদ জানানো হয়। কিন্তু এতে কিছুতেই কমছে না হত্যাকান্ড।

২০১৩ সালে সীমান্তে বিএসএফ ২৯ জন বাংলাদেশী নাগরিককে হত্যা করে। ২০১৪ সালে এই সংখ্যা বেড়ে ৩৫ এবং ২০১৪ সালে ৪৪-এ দাঁড়ায়। ২০১৬ সালে এমন হত্যাকা- হয়েছে ২৯টি। ২০১৭ সালের প্রথম দুই মাসে বিএসএফ ৪ বাংলাদেশীকে গুলি করে হত্যা করে।

গোবিন্দ গৌতম হত্যাকান্ড নিয়ে নেপাল সরকারের প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে – তাহলে ফেলানীকে কেন শহীদ ঘোষণা করা হবে না? সীমান্ত এলাকায় প্রতিবেশী দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর নৃশংসতা তুলে ধরবে তার আত্মদান। একই সঙ্গে তা ভবিষ্যতে এমন হত্যকান্ডের বিরুদ্ধে প্রতিরোধকের ভূমিকাও পালন করতে পারে।

শেয়ার করুন