প্রতিক্রিয়াঃ “শেখ হাসিনার ‘র’ বিষোদগারের নেপথ্যে”

প্রতিক্রিয়াঃ “শেখ হাসিনার ‘র’ বিষোদগারের নেপথ্যে”

ডেভিড বার্গম্যান,
শেয়ার করুন

বাংলাদেশ ভিত্তিক ব্রিটিশ অনুসন্ধানী সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান সাউথ এশিয়ান মনিটরে সম্প্রতি প্রকাশিত সুবির ভৌমিকের “শেখ হাসিনার ‘র’ বিষোদগারের নেপথ্যে” নামে প্রকাশিত কলাম সম্পর্কে তার ফেসবুক প্রোফাইলে ভিন্নমত প্রকাশ করে মন্তব্য করেছেন। তার বক্তব্যটি নিচে তুলে ধরা হলো

“গত কয়েক বছর ধরে বিএনপি/আওয়ামী লীগের সাথে ভারতের সম্পর্ক নিয়ে এই লেখাটি বেশ চমকপ্রদ ও বিস্তারিত এবং সত্যিই এটি পড়া উচিত। তবে, একই সময়ে আমার জানা আছে এমন একটি বিষয়ের যথার্থতা এবং বিশ্লেষণে কিছুটা সমস্যা রয়েছে। কলামটিতে বলা হয় “বিএনপির যদিও (২০১৪) নির্বাচনে জয়ের বিরাট সম্ভাবনা ছিল তবুও তারা নির্বাচনে অংশ নেয়নি। বিএনপি রাজপথে সহিংস আন্দোলনের আশ্রয় নেয়। দলটির নেতা জয়ের দ্বারপ্রান্তে থেকে পরাজয়কে মেনে নিয়েছিলেন। সম্ভবত: মোজেনার উপদেশে খালেদা জিয়া ভুল কার্ড খেলেছিলেন।”
এখানে সমস্যা হল যে, বিভিন্ন জনমত জরিপে যদিও বলা হয় একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জেতার ভালো সুযোগ বিএনপির ছিল, কিন্তু প্রত্যেক নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকই বলবে যে আওয়ামী লীগ সরকার এটা কখনই ঘটতে দিত না। বিএনপির কাছে ২টি পথ খোলা ছিল, এক: নির্বাচনে অংশ নিয়ে কারচুপির মুখে পরাজিত হওয়া, দুই: নির্বাচনে অংশ না নেয়া আর পরবর্তিতে সরকারের ‘অবৈধতা’র কার্ড খেলা। তাই এটি কোনভাবেই “বিজয়ের মুখ থেকে পরাজয়ের ছিনতাই” ছিল না বরং বিএনপির পরাজয়ের দুটি পথের একটি বেছে নেয়া ছিল মাত্র।
লেখক এখানে যদিও ঠিক বলেছেন যে, বিএনপির সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত ভুল ছিল, তার ন্যায্যতা যাই হোক এবং তা তৎক্ষণাৎ ভুলই হোক বা দীর্ঘমেয়াদের জন্যই হোক। এটা স্পষ্ট যে দেশের এবং বিএনপির জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার চেয়ে “পূর্ব-নির্ধারিত” নির্বাচনী পরাজয় মেনে নেয়াই মঙ্গলজনক ছিল। উপরন্তু, এটা প্রায় অসম্ভব মনে হয় যে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মজিনা কোন উপায়ে খালেদা বা বিএনপির অন্য কাউকে নির্বাচনে অংশ না নিতে পরামর্শ দেবেন। নির্বাচন পরিদর্শনের সময় আমি কোথাও শুনিনি যে আমেরিকান সরকার বিএনপিকে নির্বাচন বয়কট করার পরামর্শ দিয়েছে।”

print
শেয়ার করুন