৯৩ হাজার পাকিস্তানী যুদ্ধবন্দীর মুক্তি: পর্দার আড়ালের কথা

৯৩ হাজার পাকিস্তানী যুদ্ধবন্দীর মুক্তি: পর্দার আড়ালের কথা

শেয়ার করুন

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর শেষ হয় ১৩-দিনের পাক-ভারত যুদ্ধ। এর আট মাস পর ১৯৭২ সালের ২ আগস্ট ভারত ও পাকিস্তান সিমলা চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই চুক্তি অনুযায়ী ভারত যুদ্ধের সময় আটক করা ৯৩ হাজার পাকিস্তানী যুদ্ধবন্দীকে ছেড়ে দিয়ে রাজি হয়। কেন প্রধানমন্ত্রী এসব যুদ্ধবন্দী ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন? কি চলছিল পর্দার আড়ালে? এমন কোন পরিস্থিতি কি তৈরি হয়েছিলো যা কেউ জানে না? যদি তা থেকে থাকে তাহলে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ইতিহাস শিক্ষার জন্য প্রকাশ করা উচিত। এসব ঘটনা প্রবাহ ভেতর থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিলো আমার। তাই একজন অবসরপ্রাপ্ত কূটনীতিক হিসেবে আমি এসব ঘটনা প্রকাশের গুরুত্ব অনুভব করছি। যদিও ঘটনা সংগঠনের পর চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে। তবে, দু’দেশের (ভারত ও বাংলাদেশ) সশস্ত্রবাহিনী যখন এক নাছোড় উৎপীড়কের বিরুদ্ধে তাদের বিজয় এবং একটি নতুন রাষ্ট্রের জন্ম উযযাপন করছিলো তখন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী মগ্ন ছিলেন ভারতের সামনে হাজির হওয়া অনেক সঙ্কটপূর্ণ সমস্যা মোকাবেলা নিয়ে চিন্তাভাবনায়।

শুধু যুদ্ধের বিপুল ব্যয়ভারই নয়, পূর্ব পাকিস্তান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে যে এক কোটি উদ্বাস্তু ভারতের মাটিতে আশ্রয় নেয় তাদের দেখভাল করার আর্থিক বোঝাটিও ভারতকে বহন করতে হয়। অন্য বড় চ্যালেঞ্জগুলোর সঙ্গে জটিল কূটনৈতিক প্রক্রিয়া জড়িত ছিলো। এগুলোর সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা ও বৈদেশিক নীতি ইস্যু জড়িত ছিলো। আরো জটিল ছিলো যুদ্ধবন্দী হিসেবে গ্রহণ করা ৯৩ হাজার পাকিস্তানী সৈন্যকে দেখভাল করার বিষয়। এর জন্য বাজেটে আর্থিক সংস্থানের কোন সুযোগ ছিলো না।

সেসময় ইন্দিরা গান্ধীর সবচেয়ে বড় চিন্তা ছিলো বাংলাদেশের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে কিভাবে জীবিত অবস্থায় ও ভালোভাবে তার দেশের মাটিতে ফিরিয়ে আনা যায়। তার জীবনের বিনিময়ে যে কোন মূল্য দিতে প্রস্তুত ছিলেন ইন্দিরা। মনের এই গোপন ইচ্ছাটি কথিত ‘কিচেন ক্যাবিনেট’র অন্তত একজন সদস্যের কাছে ব্যক্ত করেছিলেন তিনি। সেই লোকটি ছিলেন রাম নাথ কাও। তৎকালিন ‘র’ প্রধান। ইন্দিরা জানতেন যে পাকিস্তানের সামরিক আদালতে মুজিবের বিচার হয়েছে এবং রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধে তাকে ফাঁসির দন্ড দেয়া হয়েছে।

পাকিস্তান সেনাবাহিনী যদি ওই মৃত্যুদন্ড কার্যকর করে বাংলাদেশকে একটি এতিম রাষ্ট্রে পরিণত করতো তাহলে তা ইন্দিরার জন্য দু:স্বপ্ন হয়ে দেখা দিতো। ভারত মনেপ্রাণে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে সমর্থন দিয়েছে। কিন্তু মুজিবের মৃত্যু দেশটির জন্য হতো এক অপূরণীয় বিপর্যয় এবং স্বপ্ন ভেঙ্গে যাওয়ার মতো। তাই ভারতের স্বার্থেই মুজিবের জীবন রক্ষায় তিনি কোন প্রচেষ্টা বাদ রাখেননি।

এদিকে, আজন্ম শত্রু ভারতের হাতে পরাজয়কে প্রতিবেশি দেশটি এক অসহনীয় অপমান হিসেবে বিবেচনা করতে থাকে। এই বিপর্যয়ের দংশনে জর্জরিত হয়ে জেনারেল ইয়াহিয়া খান তাৎক্ষণিকভাবে দায়ভার নিজের কাধে তুলে নিয়ে পদত্যাগ করেন। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সম্মেলনে অংশ নিতে নিউ ইয়র্ক অবস্থান করা জুলফিকার আলি ভুট্টোকে অবিলম্বে দেশে ডেকে পাঠান তিনি। ইয়াহিয়া খান ভুট্টোকে নিজের পদত্যাগ এবং তাকে (ভুট্টোকে) পাকিস্তানের প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক পদে নিয়োগের কথা জানান। তবে রাওয়ালপিন্ডি ফেরার আগে ভুট্টোকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের সঙ্গে সাক্ষাত করে আসার নির্দেশ দেয়া হয়।

অনেকটা রোমাঞ্চ কাহিনীর চূড়ান্ত পর্বের মতো ভুট্টোর ওয়াশিংটন-রাওয়ালপিন্ডি ফ্লাইট লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে জ্বালানী গ্রহণের জন্য যাত্রাবিরতি করবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়। গোপনসূত্রে ভুট্টোর দেশের ফেরার খবর জানতে পেরে ইন্দিরা গান্ধি দিল্লির সাউথ ব্লকে তার বাসভবনে যুদ্ধকালিন মন্ত্রিসভার এক জরুরি বৈঠক ডাকেন। তিনি জরুরি ভিত্তিতে হিথ্রোতে ভুট্টো’র সঙ্গে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করতে চাইলেন। ভারত শুধু একটি খবরের জন্যই উদগ্রিব ছিলো: পাকিস্তানের সামরিক আদালতে মৃত্যুদ- পাওয়া শেখ মুজিবের ব্যাপারে ভুট্টো কি ভাবছেন? বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পলিসি প্লানিং বিভাগের প্রধান দুর্গা প্রসাদ ধর, ‘র’ প্রধান রাম নাথ কাও, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব পি এন হাকসার ও পররাষ্ট্রসচিব টিএন কাউল উপস্থিত ছিলেন।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পূর্ব পাকিস্তান পতনের সময় ঢাকায় থাকা পাকিস্তান সরকারের সর্বোচ্চ পদমর্যাদার আমলা সাবেক মুখ্যসচিব মোজাফ্ফর হোসেনও ছিলেন যুদ্ধবন্দীদের মধ্যে। ইন্দিরার নির্দেশে তাকে ভিআইপি অতিথির মর্যাদায় ডি পি ধরের সরকারি বাসভবনে রাখা হয়। অন্যদিকে, ৩ ডিসেম্বর যখন পাক-ভারত যুদ্ধ শুরু হয় তখন হোসাইনের স্ত্রী লায়লা লন্ডনে সফর করছিলেন। ফলে সেখানেই আটকা পড়েন তিনি।

দিল্লি ও লন্ডনে স্বামী ও স্ত্রী দু’জনেই কূটনৈতিক চ্যানেলে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। আমাকে দায়িত্ব দেয়া হলো ভিআইপি বার্তা পরিবহনের। দু’জনের সঙ্গে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের পর আমি লাইলা হুসাইনের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে সক্ষম হই।

প্রধানমন্ত্রী জানতেন যে লাইলা ও ভুট্টো দীর্ঘ দিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং এখনো তাদের বন্ধুত্ব অটুট রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দফতর অনুধাবন করতে পারলো যে হিথ্রো বিমানবন্দরের আলকক এন্ড ব্রাউন স্যুইটে একক ব্যক্তির ‘সামিট’ আয়োজন করা গেলে সেখানে লাইলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলার নয় মাস সময়ে আমি বহুবার লন্ডন গিয়ে ধর-এর সঙ্গে সাক্ষাত করেছি। এর ফলে আমাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। তিনি ছিলেন একজন সাহিত্যমনা ব্যক্তিত্ব। উর্দু কবিতার ওপর তার চমৎকার দখল ছিলো। হায়দ্রাবাদের ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় উর্দু কবিতার প্রতি আমার অনুরাগ জন্মায়। সরকারি পদমর্যাদার দিক থেকে বিস্তর ফারাক থাকা সত্ত্বেও এই উর্দু কবিতা আমাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠায় সহায়ক হয়। ডিপি ধর যেখানে একজন ক্যাবিনেট মন্ত্রী, সেখানে আমি নিতান্তই একজন আমলা।

বাম থেকে ডানেঃ শেখ মুজিবুর রহমান, ইন্দিরা গান্ধী, প্লেনে শেখ মুজিবুর রহমান ও শশাঙ্ক ব্যানার্জি, দুর্গা প্রসাদ ধার এবং জুলফিকার ভুট্টো

ভুট্টো লন্ডনে আসার ঠিক দু’দিন আগে আমি দিল্লিতে ডিপি ধরের কাছ থেকে একটি ফোন কল পেলাম। তিনি আমাকে বললেন আমি যেন লাইলাকে জানাই যে, ভুট্টোকে পাকিস্তানের প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে এবং তিনি ওয়াশিংটন থেকে ইসলামাবাদ যাচ্ছেন। তার ফ্লাইট জ্বালানী গ্রহণের জন্য হিথ্রো বিমান বন্দরে থামবে। আমি যেন লাইলাকে ভুট্টোর সঙ্গে দেখা করতে অনুরোধ করি এবং তিনি যেন ভুট্টোকে বলেন যে তার প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের ক্ষমতা বলে তার স্বামীকে দিল্লি’র হাত থেকে ছাড়ানোর ব্যবস্থা করেন। লাইলা শুধু জানতো যে ভুট্টোর সঙ্গে তার অতীত সম্পর্কটুকুই আমি জানি।

আলোচনার ফল কি দাঁড়াচ্ছে তা জানা আমাদের জন্য ছিলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভারত শুধু একটি বিষয়ই জানতে আগ্রহী ছিলো: শেখ মুজিব সম্পর্কে ভুট্টো কি ভাবছেন। তাকে কি মুক্তি দিয়ে দেশে ফেরত পাঠানো হবে, নাকি সামরিক আদালতে রায় বাস্তবায়ন করা হবে।

বৈঠকটি আয়োজনে আমি সফল হই। ফলে হিথ্রো বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে সাক্ষাত করেন বহু পুরনো দুই বন্ধু। অত্যন্ত আন্তরিকতাপূর্ণ ছিলো সেই বৈঠক। এই একান্ত শীর্ষ সম্মেলনটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব ছিলো অপরিসীম, তাতে কোন সন্দেহ নেই। সত্যিকারের রোমাঞ্চ কাহিনীর মতোই এক ‘গ্রান্ড ফিনালে’ ছিলো এই বৈঠক।

ভুট্টো দ্রুত বিষয়টি অনুধাবন করতে পারেন। ভারতের হাত থেকে স্বামীকে মুক্ত করতে সাহায্যের জন্য লাইলার আবেগে সাড়া দেয়ার পাশাপাশি তিনি এও বুঝতে পারেন যে এই মহিলা আসলে ভারত সরকারের পক্ষেই কাজ করছে।

চোখের পলকে প্রসঙ্গ পরিবর্তন করেন তিনি। তিনি তাকে পাশে টেনে নিয়ে লাইলার কানে কানে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর জন্য খুবই গোপনীয় একটি বার্তা শুনিয়ে দেন।

লাইলার কাছ থেকে জানতে পেরে আমি লিখি: “লাইলা, আমি জানি তুমি কি চাও। আমার মনে হয় তুমি ইন্দিরা গান্ধীর কাছ থেকে একটি বার্তা বহন করছো। দয়া করে এ বার্তাটি তার কাছে পৌঁছে দাও যে দেশে ফিরে দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই আমি শেখ মুজিবকে মুক্তি দিয়ে তাকে দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেব। এর বদলে আমি যা চাই তা আমি আরেকটি চ্যানেলে ইন্দিরা গান্ধিকে জানাবো। তুমি এখন যেতে পারো।”

বৈঠকের পর লায়লা আমাকে বিষয়টি জানানোর পর তাৎক্ষণিকভাবে আমি দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর দফতরকে এই গোপন বার্তাটি অবহিত করি।

প্রত্যাশিতভাবেই ভুট্টোর কাছ থেকে ট্রাক-২ চ্যানেলের মাধ্যমে পাওয়া এই ইতিবাচক বার্তায় ইন্দিরা স্বস্তি বোধ করেন। এরপরও তার সন্দেহ ছিলো ভুট্টোকে বিশ্বাস করা যায় কিনা। প্রধানমন্ত্রী সতর্কতার সঙ্গে আশাবাদি হয়েছিলেন, তবে ওইটুকুই। ভুট্টো কি ভারতকে বিভ্রান্ত করতে চাইছে? তার কি কোন খারাপ উদ্দেশ্য রয়েছে? তিনি পাকিস্তানে আমাদের কূটনৈতিক মিশনের কাছ থেকে যত দ্রুত সম্ভব লাইলার বক্তব্যের স্বীকৃতি চাইছিলেন। কয়েক ঘন্টার মধ্যেই লাইলা’র রিপোর্ট নিশ্চিত করে ইসলামাবাদ মিশন। এই অবস্থায় ইন্দিরা বিষয়টি নিজের হাতে তুলে নেন। তিনি ঘটনাপ্রবাহকে আমলাতন্ত্র থেকে রাজনৈতিক পর্যায়ে উন্নীত করেন।

তার পর্যায় থেকে ইন্দিরা জানতে পারেন যে শেখ মুজিব প্রথমে লন্ডন যাবেন এবং সম্ভবত সেখান থেকে দিল্লি হয়ে ঢাকা যাবেন। তিনি তার কিচেন ক্যাবিনেট’র একজন সদস্যকে গোপন খবরটি জানান। মুজিবের মুক্তির বিনিময়ে ভুট্টো তার কাছ থেকে কি চান এ বিষয়ে তার কাছে নিশ্চিত তথ্য এসেছে।

সবার আগে শেখ মুজিবকে মুক্তি দেয়া ছাড়া ভুট্টোর কোন উপায় ছিলো না। এরপর আসবে যুদ্ধবন্দী মুক্তির প্রশ্ন। স্পষ্টতই ভুট্টো ইন্দিরার শিষ্টাচার জ্ঞানের ওপর আস্থা রাখছিলেন। তখনই স্পষ্ট হচ্ছিল যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী তার মনোস্থির করতে শুরু করেছেন। ভুট্টো ব্যক্তিগতভাবে যুদ্ধবন্দী মুক্তির কথা বললে ইন্দিরা তাতে সম্মতি জানাতে কোন ইত:স্তত করতেন না।

ভূ-রাজনৈতিক প্রদর্শনী, পাকিস্তানে যাকে ‘বিরিয়ানি কূটনীতি’ বলা হয়, তার অংশ হিসেবে ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি শেখ মুজিবের মৃত্যুদ- রদ করে তাকে মুক্তি দেয়া হয়। ১৯৭২ সালের ১০ জানুযারি দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন শেখ মুজিব।

বাংলাদেশের জাতির জনক শেখ মুজিবের জীবন রক্ষার জন্য কৃতজ্ঞতার নিদর্শনস্বরূপ তার মুক্তির আট মাসের মাথায় ১৯৭২ সালের ২ আগস্ট সিমলা চুক্তির মধ্য দিয়ে ভারত ৯৩ হাজার পাকিস্তানী যুদ্ধবন্দির সবাইকে মুক্তি দেয়ার নির্দেশ দেয়।

[শশাঙ্ক এস ব্যানার্জি ১৯৭১-৭২ ভারতের লন্ডন মিশনে কূটনীতিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে ২০১৩ সালের অক্টোবরে ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বন্ধু’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা জনান]

print
শেয়ার করুন