জাকির নায়েককে সৌদি নাগরিকত্ব প্রদান

জাকির নায়েককে সৌদি নাগরিকত্ব প্রদান

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন
ড. জাকির নায়েক

ভারতের প্রখ্যাত ইসলামপ্রচারক ড. জাকির নায়েককে সৌদি আরবের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়েছে। সন্ত্রাসী কার্যক্রমে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ভারতে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।

আরব সূত্রগুলো জানিয়েছে, খোদ বাদশাহ সালমান উদ্যোগী হয়ে জাকির নায়েককে সৌদি নাগরিকত্ব প্রদানের ব্যবস্থা করেন যাতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল তাকে গ্রেফতার করতে না পারে।

গত মাসে ভারতীয় আদালতে তার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দফায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। সন্ত্রাস-সম্পর্কিত একটি মামলা এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

৫১ বছর বয়স্ক জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে ঢাকার গুলশান হামলার পর অভিযোগ ওঠে। তার পিস টিভি বন্ধ করে দেওয়া হয। ওই সময় তিনি মালয়েশিয়া সফর করছিলেন। এরপর তিনি আর ভারতে ফেরেননি। মালয়েশিয়ায় তার স্থায়ী রেসিডেন্সি মর্যাদা রয়েছে। মালয়েশিয়া সরকার তাকে পাঁচ বছর আগে ওই মর্যাদা দেয়।

জাকির আব্দুল করিম নায়েক ( জন্মঃ ১৮ অক্টোবর ১৯৬৫, মুম্বাই, ভারত) হলেন একজন ভারতীয় ইসলামী চিন্তাবিদ, ধর্মপ্রচারক, বক্তা ও লেখক যিনি ইসলাম ও তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব বিষয়ে কাজ করেন। তিনি ‘ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশন’ নামক একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা যেটি পিস টিভি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে থাকে, যার মাধ্যমে তার বক্তৃতা প্রায় দশ কোটি দর্শকের নিকট পৌঁছে যায়। তাকে “তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের একজন বিশেষজ্ঞ” হিসাবে বিবেচনা করা হয়। বহু ইসলামী ধর্মপ্রচারকদের সাথে তার ভিন্নতা হল, তার বক্তৃতাগুলো পারস্পারিক আলাপচারিতা ও প্রশ্নোত্তরভিত্তিক, যা তিনি আরবি কিংবা উর্দুতে নয় বরং ইংরেজি ভাষায় প্রদান করেন, এবং অধিকাংশ সময়েই তিনি ঐতিহ্যগত আলখাল্লার পরিবর্তে স্যুট-টাই পরিধান করে থাকেন।

পেশাগত জীবনে তিনি একজন ডাক্তার হলেও ১৯৯১ সাল থেকে তিনি ইসলাম ধর্ম প্রচারে মনোনিবেশ করেন। ইসলাম এবং তুলনামূলক ধর্মের উপর তিনি তার বক্তৃতার বহু পুস্তিকা সংস্করণ প্রকাশ করেছেন। যদিও প্রকাশ্যে তিনি ইসলামে শ্রেণীবিভাজনকে অস্বীকার করে থাকেন, তবুও অনেকে তাকে সালাফি মতাদর্শের সমর্থক বলে মনে করেন।

জাকির আবদুল করিম নায়েক ১৮ অক্টোবর ১৯৬৫ সালে ভারতের মহারাষ্ট্রের মুম্বাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মুম্বাইয়ের সেন্ট পিটার্স হাই স্কুলের ছাত্র ছিলেন। এরপর তিনি কিশিনচাঁদ চেল্লারাম কলেজে ভর্তি হন। তিনি মেডিসিনের ওপর টোপিওয়ালা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড নাইর হসপিটালে ভর্তি হন। অতঃপর, তিনি ইউনিভার্সিটি অফ মুম্বাই থেকে ব্যাচেলর অব মেডিসিন সার্জারি বা এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৯১ সালে তিনি ইসলাম-ধর্ম প্রচারের কার্যক্রম শুরু করেন এবং আইআরএফ প্রতিষ্ঠা করেন। নায়েকের স্ত্রী, ফারহাত নায়েক, ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনের নারীদের শাখায় কাজ করেন।

ডাঃ জাকির বলেন তিনি আহমেদ দিদাতের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছেন, যার সাথে তিনি ১৯৮৭ সালে সাক্ষাত করেন। ডাঃ জাকিরকে অনেক সময় ‘‘দিদাত প্লাস’’ বলা হয়, এই উপাধি দিদাত নিজে দেন।

এছাড়াও তিনি মুম্বাইয়ের ইসলামিক ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এবং ইউনাইটেড ইসলামিক এইডের প্রতিষ্ঠাতা, যা দরিদ্র ও অসহায় মুসলিম তরুণ-তরুণীদের বৃত্তি প্রদান করে থাকে।

২০১৬ সালে, একটি প্রেস কনফারেন্সে, জাকির নিজেকে নন-রেজিস্ট্যান্ট ইন্ডিয়ান (এনআরআই) বা বছরের অর্ধেকের বেশী সময় প্রবাসে বসবাসকারী ভারতীয় হিসেবে দাবি করেন।

SOURCEকম্পাইল্ড
শেয়ার করুন