পদ্মা সেতুর ব্যয় দিয়ে হবে ১৯টি ভুপেন হাজারিকা সেতু

পদ্মা সেতুর ব্যয় দিয়ে হবে ১৯টি ভুপেন হাজারিকা সেতু

ফারাহ মাসুম,
শেয়ার করুন

বাংলাদেশ পদ্মা সেতুর জন্য যে অর্থ ব্যয় করছে তা দিয়ে ভারত সেদেশের বৃহত্তম ভুপেন হাজারিকা সেতুর মতো ১৯টি সেতু নির্মাণ করতে পারবে। যদিও পদ্মা সেতুর ৬.১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘের বিপরীতে ভারতের সদ্য উদ্বোধন করা আসামের ভুপেন হাজারিকা সেতুর দৈর্ঘ প্রায় দেড়গুণ (৯.১৫ কিলোমিটার)। প্রশস্ততার ক্ষেত্রে পদ্মা সেতু ১৮.১ মিটার আর ভুপেন হাজারিকা সেতু ১২.৯ মিটার। পদ্মা সেতুর ব্যয় বিশ্বের সেতু নির্মাণের গড় ব্যয়কে ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে।

বাংলাদেশে পদ্মা সেতু নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৩ বিলিয়ন ডলার। অন্য দিকে ভারতের ভুপেন হাজারিকা সেতুর নির্মাণ ব্যয় ১৫৫ মিলিয়ন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ ১ হাজার কোটি রুপি। পদ্মা সেতুটি হচ্ছে বাংলাদেশের মুন্সিগঞ্জের মাওয়া ও শরিয়তপুরের জাজিরায়। অন্য দিকে ভুপেন হাজারিকা সেতু হচ্ছে আসাম ও অরুণাচলের ধুলা সাদিয়ার মধ্যে। সেতুটি নির্মিত হচ্ছে ব্রহ্মপূত্রের শাখা নদী লুহিতের উপর। এর নির্মাণ শুরু হয় ২০১১ সালের নভেম্বর মাসে আর এর উদ্বোধন করা হয় ২৬ মে ২০১৭ সালে। পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৪ সালে । এর কাজ ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পদ্মা সেতুর মূল কাঠামো নির্মাণেই ১২ হাজার কোটি টাকার উপরে খরচ হচ্ছে। আর নদী শাসনের জন্য খরচ হচ্ছে পৌনে ৯ হাজার কোটি টাকার মতো। দুই সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য ১৩০০ কোটি টাকার মতো। উচ্ছেদকৃতদের পুনর্বাসনের জন্য ৫ শ কোটি টাকার উপরে ব্যয় ধরা হয়েছে।

পদ্মা এবং ব্রহ্মপূত্র দুটিকেই বিশ্বের অন্যতম খরস্রোতা নদী হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়। পদ্মা সেতুর ভার বহনের ক্ষমতা স্বাভাবিক। অন্য দিকে ভারতের ভুপেন হাজারিকা সেতুটিকে প্রতিরক্ষার ভারি যান বাহন উপযোগি করে তৈরি করা হয়েছে। বিতর্কিত অরুণাচলে ভারত-চীন দু’দেশের মধ্যে যুদ্ধ লেগে গেলে যাতে ভারতের অর্জুন এবং টি-৭২ প্রধান যুদ্ধ ট্যাংক এর উপর চলাচল করতে পারে তার জন্য এর ৬০ টনের যান বাহনের ভার বহনের মতো করে এটি তৈরি করা হয়েছে।

ভারতের ভুপেন হাজারিকা সেতুটি তৈরি করেছে সেদেশের নাভাইউগা ইঞ্জিনীয়ারিং কোম্পানি। বাংলাদেশের পদ্মা সেতু নির্মাণ করছে চায়না মোটর ব্রিজ ইঞ্জিনীয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড। ভুপেন হাজারিকা সেতু দিয়ে শুধু মোটর যান চলাচল করবে। আর পদ্মা সেতু দিয়ে মোটর চলাচলের নিচে সিঙ্গেল ট্যাক ট্রেন চলাচলের জন্য পৃথক লেন রয়েছে।

বাংলাদেশে সরকারি খাতের সব নির্মাণে ব্যয় হয় তুলনামূলক ভাবে বেশি। এখানে গড় প্রতি কিলোমিটার রাস্তা তৈরিতে যে ব্যয় হয় তা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ। সেতু নির্মাণের অবস্থাও একই।

শেয়ার করুন