ওবিওআরে অংশগ্রহণ: ইচ্ছা ও উদ্বেগ দুটিই আছে বাংলাদেশের

ওবিওআরে অংশগ্রহণ: ইচ্ছা ও উদ্বেগ দুটিই আছে বাংলাদেশের

আজম খান,
শেয়ার করুন
চীনের ‘এক অঞ্চল এক সড়ক’ (ওবিওআর) উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছে বাংলাদেশ

বেশ মুসকিলে পড়ে গেছে বাংলাদেশ। একদিকে চীনের ‘এক অঞ্চল এক সড়ক’ (ওবিওআর) উদ্যোগ, বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগের হাতছানি। অন্যদিকে, উল্টো অবস্থানে থাকা প্রতিবেশী ভারত। চীনের সঙ্গী হওয়াকে ব্যক্তিগত অপমান হিসেবে গণ্য করে তারা যে কোন ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি ‘সকলের প্রতি বন্ধুত্ব, কারো প্রতি বিদ্বেষ নয়’। কিন্তু দেশটি এই নীতি বাস্তবক্ষেত্রে কতটা প্রয়োগ করতে পারে তা একটি প্রশ্ন।

গত মাসে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হলো ওবিওআর ফোরামের শীর্ষ সম্মেলন। এতে বিশ্বের ২৯টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান যোগ দেন। আরো যোগ দেন ১৩০টি দেশ ও ৭০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা। সরকারের মধ্যে প্রচুর বিতর্ক ও আলোচনার পর বাংলাদেশও সম্মেলনে যোগ দেয়। আর সবার নজর কাড়ে ভারতের অনুপস্থিতি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে ব্যাপক উন্নতি ঘটেছি। গত বছর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফর ছিলো একটি মাইল ফলক। এসময় চীন বাংলাদেশে ২৪.৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয়, বাংলাদেশের সঙ্গে এ নিয়ে ২৭টি চুক্তি সই হয়। এ যাবত বাংলাদেশ তার সামরিক হার্ডওয়্যারের বেশিরভাগ চীন থেকে কিনছে। সম্প্রতি চীন থেকে দুটি সাবমেরিন কেনা দু’দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

তাই, চীন যখন খুবই সম্ভাবনাময় ও বাস্তবধর্মী ওবিওআর উদ্যোগ গ্রহণ করে তখন এ ব্যাপারে বাংলাদেশে একটি ইতিবাচক উৎসাহ তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক। এই উদ্যোগকে বৈশ্বিক যোগাযোগ, অর্থনীতির বিস্তার, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও আরো অনেক কিছুর গেটওয়ে হিসেবে কল্পনা করা হয়। ব্যবসায়ী, একাডেমিশিয়ান, পেশাজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষ এই উদ্যোগের ব্যাপারে বিপুল উৎসাহ বোধ করে। এই ‘ভবিষ্যতদর্শী ভিশন’ এখন বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে চলেছে।

তবে, সন্দেহবাদীরও অভাব নেই। ভারত এই পরিকল্পনার ব্যাপারে প্রকাশ্যে আপত্তি তুলেছে। এই প্রকল্প বিস্তৃত পরিসরে চীনের প্রভাব বলয় গড়ে তুলবে বলে দিল্লির আশংকা। বিশ্বব্যবস্থার শীর্ষ স্থানটি বহুদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের দখলে। আর সেখানে চীনের দ্রুত উঠে আসার বিষয়টিও যুক্তরাষ্ট্র খুব সস্তির সঙ্গে গ্রহণ করতে পারছে না। ফলে তারাও এই উদ্যোগ নিয়ে সন্দিহান। তবে, নিছক ভৌগলিক দূরত্বের কারণে এটা তাদের কাছে এখনো সম্ভবত বড় আকারের কোন সমস্যা নয়।

বাংলাদেশ ও ওবিওআর

দেশের ভেতরে ও বাইরে নানা সন্দেহ-সংশয় থাকার পরও বাংলাদেশ গত মে মাসে ওবিওআর ফোরামের বৈঠকে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে, দেশটির প্রতিনিধিত্বে কিছুটা রাখঢাক ছিলো। সম্প্রতি ঢাকায় ওবিওআর ফোরামের এক আলোচনা সভায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মানিত ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “ভারত যায়নি। তবে ইতস্তভাবে আমরা গিয়েছি। যদিও আমাদের আরো হাই প্রফাইল প্রতিনিধিত্বের প্রয়োজন ছিলো। কিন্তু আমরা গিয়ে ভালো করেছি। এটা ছিলো একটি ভালো নীতি সিদ্ধান্ত।”

সরকার বুঝতে পেরেছে যে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্য-আয়ের দেশের পরিণত হতে হলে তাকে এখন থেকেই তার নীতি সঠিক পথে সাজাতে হবে। শুধু নির্দিষ্ট কিছু মিত্রকে খুশি করার মধ্যে নিজেকে আটকে রেখে সে চলতে পারবে না। দেশের স্বার্থের প্রশ্নে দূরদর্শী ও বিচক্ষণ নীতি গ্রহণের বিকল্প নেই। ওবিওআর উদ্যোগে যোগদানের সিদ্ধান্ত একটি অনস্বীকার্য বাস্তবতা। এর ফলে দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা হবে, আসবে বিনিয়োগ আর সুযোগের দ্বার উন্মুক্ত হবে।

মজার ব্যাপার হলো, বাংলাদেশ সরকার যখন চীনের সঙ্গে মিলে সেতু তৈরি করছে তখন ভারত আক্ষরিক অর্থে তার উপস্থিতির কথা বারবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। ভারত তার কোন মিত্রকে চীনের সঙ্গে লেনদেন করতে দিতে চায় না। অর্থনীতি, নিরাপত্তা, ভৌগলিক বা অন্য যেকোন কারণেই হোক না কেন ভারত সবসময় চায় যে বাংলাদেশ তার পক্ষে থাকবে, সম্ভব হলে একচেটিয়াভাবে। হয়তো তারা মুখে এ কথা বেশি বলছে না, কিন্তু দেয়ালের লেখা সুস্পষ্ট। আমরা এর উদাহরণ দেখতে পাই চীনের কাছ থেকে কেনা সাবমেরিনগুলো যখন বাংলাদেশে এসে পৌছালো। বাংলাদেশে এরপর একের পর এক ভারতীয় কর্মকর্তা সফরে আসতে শুরু করেন। দেশটির সেনাপ্রধানও বাদ যাননি। এরপর চলতি বছরের গোড়ার দিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরে গেলেন। সেখানে অনেকগুলো চুক্তি করলেন। এসব চুক্তির মধ্যে নজিরবিহীনভাবে ভারত থেকে সামরিক হার্ডওয়্যার কেনার জন্যও চুক্তি করলেন তিনি।

সম্ভবত এ কারণেই বাংলাদেশ ওবিওআর-এর ব্যাপারে বেশি উৎসাহ দেখাতে ইতস্তত করছিলো। তবে, শুধু ব্যবসায়ীরাই নয়, অন্যরাও চীনের ওবিওআর উদ্যোগ শামিল হতে আগ্রহভরে অপেক্ষা করছেন। মন্ত্রিসভার অনেক সদস্য এর পক্ষে কথা বলতে গিয়ে কোন রাখঢাক করছেন না।

খ্যাতনামা ব্যবসায়ী বাংলাদেশের পরিকল্পনা মন্ত্রী এএইচএম মোস্তফা কামাল ‘অঞ্চল ও সড়ক উদ্যোগে’র ব্যাপারে প্রকাশ্যে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশের একটি শীর্ষস্থানীয় দৈনিক পত্রিকা আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি বলেন, “এটা নতুন কিছু নয়। এই উদ্যোগ সেই প্রাচীন বাণিজ্যপথের সম্প্রসারণ মাত্র। আমাদেরকে বিষয়টি উন্নয়নের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করতে হবে। এটি একটি উইন-উইন পরিস্থিতি। খুশি হওয়ার মতো কারণ আছে এতে।”

বাংলাদেশে একটি বড় বিদেশী ব্যাংকের প্রধান আবরার এ আমিন বলেন, “ওবিওআর একটি সুযোগ। এতে আছে অবকাঠামো কানেকটিভিটি, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সুবিধা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা।”

এটি বাংলাদেশের জন্য অবশ্যই একটি উইন-উইন সুযোগ। ওবিওআর সফল করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ চীন সম্ভাব্য ওবিওআর দেশগুলোতে বিপুল অংকের অর্থ বিনিয়োগ করছে। তারা তাদের বিনিয়োগ উদীয়মান বাজারগুলোতে ছড়িয়ে দিচ্ছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে বাংলাদেশের অবশ্যই পরিস্থিতির সুযোগ গ্রহণ করা উচিত বলে অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা মনে করেন।

বর্তমানে চীন বাংলাদেশে বছরে ১২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের রফতানি ১ বিলিয়ন ডলারের মতো। তাই দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি বিপুল। কিন্তু যাতায়াতের অবাধ সুবিধা তৈরি হলে রফতানি সুবিধাও বাড়বে। এতে বাংলাদেশের রফতানি আরো বিচিত্রমুখি করার সুযোগ তৈরি হবে। বাংলাদেশকে এখন তার রফতানিকে বিচিত্রমুখি করার দিকে মনযোগ দিতে হবে। তৈরি পোশাক ও বস্ত্র শিল্প চীনাদেরই রয়েছে। তাই বাংলাদেশকে অন্যান্য শ্রমঘন শিল্পের প্রতি নজর দিতে হবে।

কানেকটিভিটি প্রতিষ্ঠার পর যে সুযোগগুলো তৈরি হবে তার সুফল আদায়ের জন্য আমাদের এখনই প্রস্তুতি শুরু করা উচিত বলে সিপিডি’র অর্থনীতিবিদ মোস্তাফিজুর রহমান মনে করেন। তার মতে, বাংলাদেশের ২০৪১-পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনায় ওবিওআর সংযুক্ত করা উচিত।

তবে, ওবিওআর ফোরামের মতো নিরুৎসাহব্যাঞ্জক অংশগ্রহণ বাংলাদেশের জন্য কোন সুফল বয়ে আনবে না। এর জন্য এখন থেকেই পুরোদস্তুর অংশগ্রহণ প্রয়োজন। এই উদ্যোগ যে বাণিজ্য সুবিধার হাতছানি দিচ্ছে তাতে স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন, হারমোনাইজেশন, ইলেক্ট্রটিক উপাত্ত বিনিময় ও আরো অনেক কিছু করার জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে। রুটগুলো চূড়ান্ত ও স্থির হওয়ার আগে এখন থেকেই তা শুরু করতে হবে।

তবে এর জন্য বিপুল অংকের বিনিয়োগ প্রয়োজন। এটা শুধু একটি পরিবহন করিডোর হবে না। এটা হবে একটি অর্থনৈতিক করিডোর। কানেকটিভিটি তৈরির পর চীন তার বহু শিল্প স্থানান্তর করতে চাইবে। এই সুযোগ লুফে নেয়ার জন্য বাংলাদেশের আগ বাড়িয়ে প্রস্তুত থাকা প্রয়োজন। করিডোরের পূর্ণ সুবিধা গ্রহণের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে পর্যাপ্তরূপে সজ্জিত থাকতে হবে। প্রতিযোগিতা তীব্র, তাই দক্ষতা ও বিশেষজ্ঞ জ্ঞান দিয়ে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে হবে। সুযোগের সদ্ব্যবহারের জন্য সুশাসনও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

গত এক দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার দ্বিগুণ হয়েছে। গত ১৫ বছরে চীনা অর্থনীতির আয়তন বেড়েছে বহুগুণ। তার জন্য দেশের বাইরে বাজারের প্রয়োজন। অন্যদিকে আমাদের অবকাঠামো ও অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ প্রয়োজন। চীন বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত হয়ে আছে, প্রস্তুত হয়ে আছে প্রযুক্তি হস্তান্তরের জন্য। তাই সহযোগিতার যে ক্ষেত্রটি তৈরি হয়েছে তা উভয়ের জন্য লাভজনক। চীনের পক্ষ থেকে তাড়াও আছে। বাংলাদেশের শুধু ওই তাড়ায় একটু সাড়া দান প্রয়োজন।

বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীরাও উৎসাহ নিয়ে ওবিওআর উদ্যোগ পর্যবেক্ষণ করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভলপমেন্ট স্টাডিজে’র অধ্যাপক রশেদ আল মামুন তিতুমীর বলেন, “চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় প্রতিটি রাজনৈতিক দল ও রাজনীতিক আগ্রহভরে এগিয়ে আসে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে তখন এক বিরল ঐক্যমত্য দেখা গিয়েছিলো।” এর মানে হলো এগিয়ে যেতে প্রস্তুত হয়ে আছে আধুনিককালের সিল্ক রুট, প্রয়োজন শুধু কিছু বিচক্ষণ ও স্বাধীন চিন্তার রাজনীতিবিদ।

বিলম্ব আত্মঘাতি হতে পারে। বলা হয়, লাফ দেয়ার আগে দেখে নাও। কিন্তু তুমি যদি লাফ দিতে যাবে তাহলে অনেক দূরে তাকিও না। চীনের বৈচিত্রকরণ প্রচেষ্টার অংশ হবে কিনা ভাবতে গিয়ে বাংলাদেশ দেশটির ‘প্লাস ওয়ান’ সুযোগটি হারিয়েছে। এখন ওবিওআর ইস্যুতে ভাবনা চিন্তার নামে বিলম্ব করতে গিয়ে আরেকটি সুবর্ণ সুযোগ হারানোর ক্ষতি বাংলাদেশ পোষাতে পারবে না। বাজির দান অনেক বড়।

বাংলাদেশের ভাবনা চিন্তা করতে গিয়ে বিলম্ব করার কোন কারণ নেই। বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এন্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস)’র চেয়ারম্যান ও চীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফাইজ আহমাদ বলেন, “ওবিওআর সবার জন্য লাভজনক। সবাই স্বেচ্ছায় এতে যোগ দেবে।” তিনি বলেন, চীনের উদ্দেশ্য পরিষ্কার। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য একটি বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি এর উদ্দেশ্য। তাদের সার্বভৌমত্ব হুমকিগ্রস্ত না হলে কোন সংঘাতে জড়ানোর ইচ্ছা দেশটির নেই।

অর্থনৈতিকভাবে বলতে গেলে চীনের পণ্যসম্ভার আর বিস্তৃত হচ্ছে না। এই খাত সম্পৃক্ত হয়ে গেছে। এখন অবকাঠামো তাদের মূল রফতানি পণ্য। তারা খনিজ লোহা, কয়লা সয়াবিনসহ আরো অনেক কিছু আমদানি করছে। তাই নিরবিচ্ছিন্ন কানেকটিভিটি শুধু চীনকেই উপকৃত করবে না, এই উদ্যোগে যোগ দেয়া সব দেশকেই তা লাভবান করবে। আহমাদ বলেন, “কোন দেশের যদি আপত্তি বা আশংকা থাকে, তাহলে বলবো এসব আশংকার কোন ভিত্তি নেই।”

ভারত ফ্যাক্টর

ভারত শেষ পর্যন্ত এই সুযোগ হারাবে চাইবে না — এমন সেই সম্ভাবনা এখনো বাতিল করা যায় না। বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমারকে নিয়ে বিসিআইএম করিডোর তৈরির চিন্তাভাবনা চলছে। ভারত এই প্রকল্পেও আগ্রহ দেখাচ্ছে না। কে-টু-কে নামে এই প্রকল্প চীনের কুনমিংকে কলকাতার সঙ্গে সংযুক্ত করবে। এই করিডোর থেকেও বাংলাদেশ বিপুলভাবে লাভবান হতে পারে।

ওবিওআর নিয়ে ভারতে বর্তমান অবস্থান ভবিষ্যতে বদলে যেতে পারে বলে বাংলাদেশের আশংকা। ভারত এখনই হয়তো যোগ দিচ্ছে না, তার মানে এই নয় যে দেশটি পুরোপুরি বাইরে থেকে যাবে। বাইরে বিদ্বেষ থাকলেও, চীন ও ভারতের মধ্যে মজবুত ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। ভারতে ব্যবহৃত প্রধান চারটি স্মার্টফোনই চীনের তৈরি। চীনের ই-কমার্স কোম্পানি আলিবাবা ভারতের সবচেয়ে বড় অনলাইন শপিং ব্যবসায়ী। দুই দেশের মধ্যে এমন ব্যবসায়িক সম্পর্কের অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। তাই বাস্তবিক পরিকল্পনা তৈরির সময় চীন ও ভারতের রাজনৈতিক বিরোধ না মিটিয়ে ফেলার কোন কারণ নেই।

আগামীর পথ

একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে তার পরিপক্কতার প্রমাণ দেয়া ও তার জনগণের জন্য সবচেয়ে ভালো কিছু করার সময় এসেছে। ওবিওআর এখন বাস্তবতা এবং বাংলাদেশও উইন-উইন ফ্যাক্টর সম্পর্কে সচেতন। তাই তাকে এখন দক্ষতা বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ তৈরির দিকে মনযোগ নিবিষ্ট করতে হবে। ‘এক অঞ্চল এক সড়ক’ শুধু একটি উপসংহারেই উপনীত হতে পারে। আর তা হলো — নিরবিচ্ছিন্ন সফলতা।

print
শেয়ার করুন