রাঙামাটিমুখী ফখরুলদের গাড়িবহরে রাঙ্গুনিয়ায় হামলা

রাঙামাটিমুখী ফখরুলদের গাড়িবহরে রাঙ্গুনিয়ায় হামলা

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন
হামলার পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত রাঙামাটিতে যাওয়ার পথে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় হামলার মুখে পড়েছে বিএনপির গাড়িবহর।

এতে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন। ফখরুল বলছেন, এই হামলা ‘গণতন্ত্রের উপর আঘাত’।

রোববার সকালে এই ঘটনার পর রাঙামাটি না গিয়ে চট্টগ্রামে ফিরে সংবাদ সম্মেলন করে হামলার জন্য আওয়ামী লীগের স্থানীয় সংসদ সদস্য হাছান মাহমুদকে দায়ী করেছেন বিএনপি নেতারা।

হাছান মাহমুদ হামলায় আওয়ামী লীগের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না করায় ক্ষোভ জানিয়ে সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, এর পরিণতি শুভ হবে না।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিএনপি নেতাদের গাড়িতে হামলা ‘ঠিক হয়নি’ মন্তব্য করে বলেছেন, হামলাকারীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ প্রধানকে বলেছেন তিনি।

সম্প্রতি রাঙামাটিসহ চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচটি জেলায় পাহাড় ধসে দেড় শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। শুধু রাঙামাটিতে নিহত হয় ১১৫ জন।

বাংলাদেশের ইতিহাসে পাহাড় ধসে সর্বাধিক প্রাণহানির এই ঘটনায় সরকারের বিরুদ্ধে দায়িত্বহীনতার অভিযোগ তুলে আসা বিএনপি পরিস্থিতি সরেজমিন দেখতে রোববার প্রতিনিধি দল নিয়ে রওনা হয়।

মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে সাত সদস্যের এই প্রতিনিধি দলটিতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান রুহুল আলম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীমও ছিলেন।

তারা সকালে চট্টগ্রাম থেকে সড়ক পথে কাপ্তাইয়ের উদ্দেশে রওনা হন। সেখান থেকে নৌপথে তাদের রাঙামাটি যাওয়ার কথা ছিল।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইছাখালী এলাকায় হামলার মুখে পড়ে ফখরুলদের এই গাড়িবহর।

হামলায় ভেঙে যায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়ির সামনের কাচ

ঘটনার পরপরই আমীর খসরু টেলিফোনে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “একদল লোক রড ও দা নিয়ে আমাদের গাড়ি বহরে হামলা চালায়। তারা বৃষ্টির মতো পাথর মারছিল। আমাদের গাড়ি চুরমার করে ফেলেছে।”

গাড়ির কাচ ভেঙে শরীরে লেগে ফখরুল ও আমীর খসরু আহত হন। আহত হন রুহুল আলম চৌধুরী, মাহবুবুবর রহমান শামীম ও ছাত্রদল নেতা গোলাম নবীও।

আমীর খসরু তখনই বলেন, “আওয়ামী লীগের হাছান মাহমুদের লোকজন এই হামলা চালিয়েছে বলে আমাদের ধারণা।”

হামলার পর রাঙামাটি যেতে না পেরে বিএনপি প্রতিনিধি দলের সদস্যরা চট্টগ্রাম ফিরে এসে দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন।

হামলার পর চট্টগ্রামে ফিরে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল বলেন, “এ আঘাত গণতন্ত্রের প্রতি আঘাত। যারা মুক্ত চিন্তার কথা বলে, এ সরকারের খারাপ কাজগুলোর বিরোধিতা করে এবং গণতন্ত্রের পক্ষে সোচ্চার- তাদের প্রতি এ আঘাত। যারা জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন- এ আঘাত তাদের প্রতি।

“আওয়ামী লীগের চরিত্র আবার উদঘাটিত হয়েছে। সবসময় মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে এলেও তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। ভিন্নমতেও তারা বিশ্বাস করে না। সহনশীলতা বলতে তাদের মধ্যে কিছু নেই।”

সংবাদ সম্মেলনে আমীর খসরু বলেন, “একদিকে দেশ ও জাতির সমস্ত রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে। অন্যদিকে দুর্গত মানুষের পাশেও আমরা দাঁড়াতে পারব না। আপনি এখন ত্রাণও দিতে পারবেন না।

ফখরুল বলেন, “আমরা তো সেখানে কোনো জনসভা করতে যাইনি। আমাদের পার্টির মিটিংও করতে যাইনি। যারা নিহত হয়েছেন সেসব পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানাতে যাচ্ছিলাম।”

চট্টগ্রামের সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল বলেন, জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে ‘এই ফ্যাসিস্ট সরকারকে’ পরাজিত করতে পারাটাই হবে এর প্রতিবাদ।

পাহাড়ে দুর্যোগের ঘটনায় সরকারের বিরুদ্ধে দায়িত্বহীনতার অভিযোগ পুনর্বার তুলে তিনি বলেন, পাহাড়ে এত প্রাণহানির পর সরকারের উচিৎ ছিল রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা। কিন্তু জনগণের প্রতি তাদের কোনো মায়া-মমতা-দরদ নেই।

পাহাড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দলের পক্ষ থেকে ত্রাণ সহায়তা পরে পৌঁছে দেওয়া হবে বলেও জানান বিএনপি মহাসচিব। সংবাদ সম্মেলনের পর তিনি ঢাকায় রওনা হন।

অন্যদিকে সন্ধ্যায় এক ইফতার অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া বলেন, “আমি জানতে চাই, মহাসচিবের উপর এই হামলা হল, তারপর কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে? অথচ আমাদের লোকজন কিছু না করলেও সঙ্গে সঙ্গে ধরে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়।”

এই ঘটনাটিকে সারাদেশের মানুষের নিরাপত্তাহীনতার নজির হিসেবে দেখিয়ে তিনি বলেন, “ওদের ধরতে হবে, শাস্তি দিতে হবে, জেলে পুরতে হবে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

print