মিয়ানমারে মাদ্রাসা বন্ধ: ফের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার আশঙ্কা

মিয়ানমারে মাদ্রাসা বন্ধ: ফের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার আশঙ্কা

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন
 ইয়াংগুনের একটি মসজিদে মাগরিবের নামাজের পর এক মুসল্লির মুনাজাত, ছবি: রয়টার্স

মিয়ানমারের ইয়াংগুনের মুসলিম বাসিন্দা চিত তিন সেখানকার একটি মাদ্রাসা সংলগ্ন মসজিদে নামাজ পরেই জীবনের ৫৫টি বছর পার করেছেন। যৌবনকালে তিনি দেখেছেন বিরোধী দলের ওপর সামরিক জান্তার ভয়াবহ নিপীড়ন। যা দেশটির অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেয়। আন্তর্জাতিকভাবে মিয়ানমার একটি সমাজচ্যুত রাষ্ট্রে পরিণত হয়।

এরপরও চরম দারিদ্র ও বিচ্ছিন্নতার মধ্যে বসবাসকারি চার সন্তানের জনক চিতি তিনের কাছে এক মাস আগ পর্যন্ত মসজিদ সংলগ্ন মাদ্রাসাটি ছিলো স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি মিলন কেন্দ্র। এক মাসে চরমপন্থী বৌদ্ধরা সেখানে গিয়ে মসজিদটি বন্ধ করে দিতে কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করে। তাদের দাবি ওই জায়গা ধর্মীয় কাজে ব্যবহারের কোন অনুমতি নেই।

রমজান শুরু হওয়ার পর স্থানীয় মুসলমানরা মসজিদের পাশে সড়কটিকেই বেছে নিয়েছেন নামাজ পড়ার জন্য। প্রবল বর্ষণ উপেক্ষা করে সেখানে প্রতিদিন শত শত মুসল্লি নামাজ পড়তে জড় হন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সড়কে নামাজ পড়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করে এবং কেউ নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করলে জেলে পোড়ার হুমকি দেয়।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হয়েছেন এমন হাতে গোনা কয়েজন মুসলমানের একজন চিতথিন জানান, কর্তৃপক্ষের এহেন আচরণে তিনি চরম ক্ষুব্ধ। যেমন মাথার ওপর আকাশ ভেঙ্গে পড়েছে। শাস্তির ভয়ে কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কেউ কথা বলতে রাজি হয়নি।

বিনা অনুমতিতে নামাজের ব্যবস্থা করায় মুসলিম সম্প্রদায়ের তরুণ সদস্য মোয়ে জাও’কে আদালত তলব করেছে। এ কাজের জন্য তাকে জরিমানা বা ছয় মাসের জেল দেয়া হতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমারের বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়াংগুনে যে ধর্মীয় উত্তেজনা চলছে এই মাদ্রাসা বন্ধ তার সর্বশেষ ঘটনা।

এই ঘটনার জন্য কিছু বৌদ্ধ চরমপন্থীকে আটক করা হলেও মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন অং সান সুচির ১৪ মাস বয়সি বেসামরিক প্রশাসন মুসলমানদের বিরুদ্ধে যে ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ করছে এটা তার উদাহরণ।

২০১৫ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে সুচি’র দল ‘ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমক্রেসি’ (এনএলডি) কোন মুসলিম প্রার্থী দেয়নি। দেশকে আধুনিক রূপে গড়ে তোলা ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার করে দলটি ক্ষমতায় আসে।

২০১২ ও ২০১৩ সালে মুসলমানদের বিরুদ্ধে বৌদ্ধদের নির্মূল অভিযানে হাজার হাজার মানুষ নিহত ও বহু বাস্তচ্যুত হওয়ার পর থেকে দেশটিতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা চলছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ফিল রবার্টসন বার্তা সংস্থাকে বলেন, “যেসব মসজিদ ও মাদ্রাসা জোরপূর্বক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সেগুলো অবিলম্বে খুলে দিতে হবে। ধর্ম পালনের বিরুদ্ধে হুমকি দেয়া ও ধর্ম পালনের কারণে দণ্ড দেয়া বন্ধ করতে হবে।”

এ ব্যাপারে বারবার অনুরোধ জানিয়েও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ইয়াংগুনে যে মাদ্রাসাটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে তা প্রায় অর্ধশতক বছরের পুরনো। এর মসজিদে প্রতি জুমায় হাজারের বেশি মুসল্লি নামাজ পড়তে আসতো। মাদ্রাসায় ছাত্র সংখ্যা ছিলো ৩শ’র মতো।

কর্তৃপক্ষ এখন দ্বিতল ভবনটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে দরজায় তালা মেরে দিয়েছে।

চিত দিনের দুই নাতি এক বছর থেকে ওই মাদ্রাসায় পড়ছে। এখন ওদের পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিলো।

এই মাদ্রাসা ও মসজিদ বন্ধ করে দেয়ায় মহল্লার লোকজনকে ২০ মিনিটের হাটা পথ পেরিয়ে আরেকটি মসজিদে যেতে হয়। বৌদ্ধ চরমপন্থীরা স্থানীয় আরেকটি মসজিদ বন্ধ করে দেয়ার পায়তারা করছে বলে জানা গেছে।

print
SOURCEরয়টার্স
শেয়ার করুন