গাইয়ুমের সহকারীকে অভিযুক্ত করতে চাইছে পুলিশ

গাইয়ুমের সহকারীকে অভিযুক্ত করতে চাইছে পুলিশ

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন
আহমদ সফওয়ান

মালদ্বীপের পুলিশ সাবেক প্রেসিডেন্ট মামুন আবদুল গাইয়ুমের ব্যক্তিগত সহকারী আহমদ সফওয়ানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করতে চাইছে। মামুনের ছেলে এমপি ফরিস মামুনের সাথে মিলে আইনপ্রণেতাদের কথিত ঘুষ প্রদানের বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইলেও তিনি তা অস্বীকার করে আসছেন। এই প্রেক্ষাপটে পুলিশ তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নিতে চাচ্ছে। তিনি এখন দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।

প্রসিকিউটর জেনারেলের অফিস জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আহমদ সফওয়ানকে কয়েকবার তলব করলেও তিনি তাতে সাড়া দেননি। পুলিশ সোমবার রাতে টুইটারের মাধ্যমে এ তথ্য জানায়।

গত মার্চে স্পিকার আবদুল্লাহ মাসিহ মোহাম্মদের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেয়ার জন্য আইনপ্রণেতাদের ঘুষ প্রদানের সাথে ফরিস জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। প্রসিকিউটর জেনারেলের অফিস এ নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের ঘোষণার পর ফারিস টুইটে বলেন, সরকার তার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা অভিযোগ এনেছে। হুমকি এবং ভীতিপ্রদর্শনে আমার কাজে কোনো পরিবর্তন ঘটাবে না।

গাইয়ুমের ছেলে এবং এমপি ফারিসকে ইতোপূর্বে অনেক বার ঘুষের ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। গত মে মাসে তাকে তার এক মুমূর্ষু আত্মীয়কে দেখার জন্য ভারতে যাওয়ার সুযোগ দিতে অস্বীকার করে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফারিস মামুনকে বিদেশে যেতে দিলে তিনি সম্ভবত দেশের বাইরে থেকে তদন্তে বাধা সৃষ্টি করে যাবেন।

গত ১৪ মে ভারতে যাওয়ার সময় বিমানবন্দরে তাকে বাধা দেয়া হয়। তখনই তিনি তার বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি বুঝতে পারেন। এরপর থেকে তাকে বিদেশে যেতে দেয়া হচ্ছে না।

ফারিস বলেন, মালদ্বীপ পুলিশের কথিত অপরাধমূলক কোনো বিষয়ে জবাব দিতে আমি বাধ্য নই।

সাফওয়ানকে দেশে ফেরাতে গত এপ্রিলে মালদ্বীপ পুলিশ ইন্টারপোলের সাহায্য চেয়েছিল। তার পাসপোর্টও বাতিল করা হয়েছে।

পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রতিষ্ঠা করার জন্য গাইয়ুম সম্মিলিত বিরোধী দলে যোগ দিয়েছিলেন। তারা মনে করেছিলেন, স্পিকারকে সরিয়ে দিতে পারলে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রতিষ্ঠা করে প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিনের (তিনি গাইয়ুমের সৎ ভাই) সরকারের পতন ঘটাতে পারবেন। তবে অল্পের জন্য তারা সফল হতে পারেননি। গত অক্টোবরে গাইয়ুমকে পার্টিপ্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার পর থেকে গাইয়ুম তার সৎভাইয়ের বিরুদ্ধে চলে গেছেন।