মালদ্বীপে অভিবাসীদের উপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিতর্ক

মালদ্বীপে অভিবাসীদের উপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিতর্ক

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন

মালদ্বীপের প্রবাসী সম্প্রদায়ের উপর ইহাভানধু পরিষদ দ্বারা আরোপিত কারফিউ এবং অন্যান্য বিধিনিষেধ দেশটিতে অভিবাসী কর্মীদের প্রতি আচরণ  সম্পর্কে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। দেশটির উত্তরাঞ্চলের একটি দ্বীপে বরফের কারখানায় দায়িত্বে থাকা মালদ্বীপের একজন লোক তার বাংলাদেশী সহকর্মীর হাতে নিহত হলে এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। কাউন্সিল পাঁচ দিনের মধ্যে সব বিদেশী শ্রমিককে নিবন্ধন করার নির্দেশ দেয়, রাত ১০ টার পর কারফিউ জারি হয়, এবং  শুক্রবার বিকেল ছাড়া অন্য সময়ে পাবলিক স্পেসে তাদের একত্রিত হওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

এছাড়া বিদেশী কর্মীদের মাছ ধরা, কাঠ, ফ্রেম বা নারকেল সংগ্রহ করা এবং আমন্ত্রণ ছাড়া কোন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ  নিষিদ্ধ করা হয়।

তবে স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ, পৌর কাউন্সিলের তত্ত্বাবধানকারি সংস্থা আইনি বিবেচনায় এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে। ট্রান্সপারেন্সি মালদ্বীপের সিনিয়র প্রজেক্ট সমন্বয়কারী আহমেদ থোলাল জানান যে, এলজিএ’র হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও বিদেশীদের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব ও অনুভূতির বজায় রয়েছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ” রাজনীতিবিদরা অভিবাসী শ্রমিকদেরকে ভিলেন বানাচ্ছে এবং অপরাধের হার বৃদ্ধি করার জন্য তাদের দায়ী করছে অথচ পরিসংখ্যান সেটি প্রমাণ করতে পারে না। এর ফলে অভিবাসী কর্মীদের প্রতি নেতিবাচক আচরণ বৃদ্ধি পাবে।”

তিনি বলেন, “মানুষকে পরিসংখ্যান দেখতে হবে, কিন্তু মানুষের কাছে তথ্য যাচাইয়ের সময় নেই। তারা রাজনীতিবিদদের অনুসরণ করে। এটা খুবই স্পষ্ট যে এই পদ্ধতিটি একটি নেতিবাচক উৎস থেকে এসেছে। মালদ্বীপ বাংলাদেশী কর্মীদের সাথে খারাপ আচরণ করে এবং তাদের অপরাধ আমাদের সমাজে তুলনামূলকভাবে বড় করে দেখার কারণ তাদের প্রতি নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে। ”

তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, অপরাধের মোকাবেলা করার পদক্ষেপগুলি জাতি বা জাতীয়তার বিবেচনায় বৈষম্যমূলক হতে পারে না। এই বিতর্কটি স্থানীয় গণমাধ্যমগুলির প্রতিবেদন দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়। যেমন সান অনলাইনে অভিবাসী শ্রমিকদের “জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি” নামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এই রিপোর্টে পুলিশের একটি বেনামী সূত্র উদ্ধৃত করে বলা হয় যে,   “যদি আমরা অতীতের দিকে তাকাই তাহলে দেখব মালদ্বীপবাসির অপরাধ প্রবণতা ছিল না, তবে এখন এই ধরনের বিদেশী কর্মীর কারণে, মালদ্বীপে অপরাধ দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।”

print