স্থায়ী কর্মসংস্থান তৈরি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে ভুটানের জন্য

স্থায়ী কর্মসংস্থান তৈরি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে ভুটানের জন্য

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন

বর্তমানে ভুটানের মুখোমুখি হওয়া সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলির মধ্যে একটি হল ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব। দেশের ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী জনসংখ্যা রয়েছে প্রায় ১,৪১,০০০ জন। যত বেশি তরুণরা স্নাতক শেষ করে চাকরির বাজারে প্রবেশ করছে ততই বেকারত্বের সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে।

একটি সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় ১৮,০০০ তরুণ প্রতিবছর চাকরির বাজারে প্রবেশ করে; সরকারী ও বেসরকারী খাতে প্রায় ৬,০০০  চাকরির সুযোগ রয়েছে। সিভিল সার্ভিস, সশস্ত্র বাহিনী এবং সরকারী করপোরেশন থেকে গত ৫ বছরে ৫ হাজার ৭৮০ টি চাকরির সুযোগ ছিল যার মধ্যে মাত্র ৩,৫৯৩ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ভুটানের ছোট বেসরকারি খাতে নতুন কর্মশক্তি গ্রহণ ক্ষমতা কম। এর বাইরে গত চার বছরে, প্রায় ৬০,০০০ যুবককে বিভিন্ন চাকরি ও প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। যারা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়েছে, এমনকি তাদের দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও, আজ তারা বেকার থাকছে। তরুণদেরকে উপলব্ধ চাকরির সুবিধা গ্রহণের আহ্বান জানানো সহজ, কিন্তু চাকরি ও আয় ছাড়া দক্ষতা অর্জন করলে তা দেশের বেকারত্বের অবস্থা হ্রাসে সাহায্য করার জন্য সামান্যই কাজ করে।

এর মধ্যে সরকার থেকে কিছু উল্লেখযোগ্য হস্তক্ষেপ আছে, কিন্তু এখনও প্রয়োজনের অনেক দাবি পূরণ করা যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে সরাসরি কর্মসংস্থান শুধু মাত্র সীমিত কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে পারে আবার স্ব-কর্মসংস্থানের নিজস্ব একটি চ্যালেঞ্জ আছে। যখন অর্থায়নের সুবিধা কঠিন হয়ে পরে তখন, স্ব-কর্মসংস্থান শুরুর কোন সুযোগ পায় না।

সরকারের বৈদেশিক কর্মসংস্থান কর্মসূচী (ওইপি) সম্প্রতি বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তবে রয়্যাল অডিটিং কর্তৃপক্ষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রচারের উদ্যোগের রিপোর্ট পাওয়া গেছে যে ওইপির অপর্যাপ্ততা এবং ব্যর্থতার চিত্র।  ২০১৩থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে মাত্র ২,৫৩৫ জনকে চাকরি দিয়ে বিদেশে পাঠানো হয়েছিল যা শ্রম মন্ত্রণালয়ের ওইপি’র জন্য নির্ধারিত ৩০ হাজার লক্ষ্যমাত্রার ৭.৮ শতাংশ পূরণ করেছে মাত্র। প্রতিবেদন মতে, শ্রম মন্ত্রণালয় একটি সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ না করেই ওইপিকে বাস্তবায়ন করেছে। এও দেখা গেছে যে ভুটানের এজেন্টদের মাধ্যমে ভুটানীদের বিদেশে পাঠানো হলে তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে অস্বাভাবিক ও শোষণমূলক বেতন এবং অত্যধিক কাজের চাপের সমস্যা দেখা দেয়।

স্বল্পমেয়াদী হস্তক্ষেপের দেশে বেকারত্বের সমস্যা মোকাবেলা যথেষ্ট নয়। কর্মসংস্থানের সুযোগ আসলে টেকসই হতে হবে এবং এই  জন্য সরকারের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগুলি বিবেচনা করা প্রয়োজন।

print
SOURCEকুয়েনসেল
শেয়ার করুন