সরকারের ভেতরের উত্তেজনায় নতুন রাজনৈতিক শক্তি আত্মপ্রকাশ করছে আফগানিস্তানে

সরকারের ভেতরের উত্তেজনায় নতুন রাজনৈতিক শক্তি আত্মপ্রকাশ করছে আফগানিস্তানে

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন

জাতীয় ঐক্যের সরকারের নেতৃবৃন্দের মধ্যে অব্যাহত উত্তেজনার মধ্যেই – কিছু ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা দেশ ও বিদেশে বার বার আলোচনার আয়োজন করছেন যেখান থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে  একটি নতুন রাজনৈতিক শক্তি খুব শীঘ্রই  আবির্ভূত হতে যাচ্ছে আফগানিস্তানে। প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি এবং প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুল রশিদ দোস্তামের মধ্যকার বিরোধই মূলত এধরণের একটি সুযোগ করে দিচ্ছে বলে আপাত দৃষ্টিতে মনে করা হচ্ছে।

আলোচনার অংশ হিসেবে বাল্খের গভর্নর আতা নূর এবং আফগানিস্তানের জমিয়াত-ই-ইসলামি পার্টির প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ মোহাকিক, এনইউজি’র দ্বিতীয় উপ-প্রধান নির্বাহী এবং পিপলস অফ আফগানিস্তান ইসলামী ঐক্য পরিষদের প্রধান তুরস্কে দোস্তামের সাথে আলাদা আলাদাভাবে সাক্ষাৎ করেছেন।  আতা নূর মঙ্গলবার এবং মোহাকিক সোমবার দোস্তামের সঙ্গে দেখা করেন। এদিকে, ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন রব্বানী বুধবার তুরস্কের উদ্দেশ্য দেশ ছেড়েছেন, তবে তিনি এখনও দোস্তামের সাথে দেখা করেননি।

তুরস্ক যাওয়ার আগে নূর এবং মোহাকিক দুইজনই সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর জন্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তবে ঐক্য সরকারের প্রধান নির্বাহী আবদুল্লাহ আবদুল্লাহর একজন মুখপাত্র জায়েদ ফয়সাল বলেন, “মোহাকিকের সফরটি ছুটির মধ্যে ছিল এবং তা একটি ব্যক্তিগত যাত্রা। এর সাথে কিছু জড়িত বলে আমি মনে করি না।”

অন্যদিকে কয়েক মাস আগে, বাল্খ গভর্নর নুর প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করেন যেখানে তারা বেশ কিছু বিষয়ে চুক্তিতে রাজি হয়েছিলেন। গনি-নূরের আলোচনার সম্পূর্ণ ফলাফল অস্পষ্ট কিন্তু কিছু কিছু প্রতিবেদন ইঙ্গিত দেয় যে এই আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। এই অসন্তোষ থেকেই নূর গত সপ্তাহে একটি সমাবেশে বলেন “যদি দেশের সমস্যাগুলো সমাধান করা হয়, তাহলে আমাদের কোনো ব্যক্তিগত সমস্যা নেই। অন্যথায়, আমরা শক্তিশালী এবং বিপজ্জনক নাগরিক আন্দোলন শুরু করতে বাধ্য হব। ”

প্রেসিডেন্ট এর মুখপাত্র শাহ্‌ হুসাইন মুরতাজায়ি  গনি ও নুরের মধ্যে আলোচনার উপর মন্তব্য করেন, “আমরা আশা করছি সংবিধানের প্রতি সম্মান দেখিয়ে এবং নীতির পর্যবেক্ষণ করে প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলগুলো বর্তমান পরিস্থিতিতে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে।”

এছাড়া অন্য রিপোর্টগুলিতে দেখা যায় যে জমিয়াতের সদস্য এবং মোহাকিকের সাথে  দোস্তামের  আকস্মিক বৈঠকগুলি সরকারকে চাপে রেখে একটি যুক্ত রাজনৈতিক মঞ্চ গঠন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে যাতে তাদের দাবিগুলি গ্রহণ করতে সরকার পিছপা না হয়। আফগানিস্তানের আইনজীবী ইউনিয়নের একজন সদস্য আনিউদ্দিন বাহাদুরী বলেন, ” সরকারের অভ্যন্তরীণ ব্যক্তিদের একত্রিত করে একটি জোট গঠন করা হচ্ছে কারণ তারা সরকারের প্রতি অসন্তুষ্ট।”

তবে জমিইয়াত-ই-ইসলামি ও ইসলামী জাতীয় আন্দোলনের কোন নেতা এই দাবী সম্পর্কে মন্তব্য করেনি। এই দলগুলোর মধ্যে ২০১৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেও একটি জোট হয়েছিল, যদিও তা বেশিদিন টিকতে পারেনি।

SOURCEটলো নিউজ
শেয়ার করুন