দ্রুত সীমান্তে সেনা ও রসদ পৌঁছাতে বিশ্বের সর্বোচ্চ রেল লাইন তৈরি করছে...

দ্রুত সীমান্তে সেনা ও রসদ পৌঁছাতে বিশ্বের সর্বোচ্চ রেল লাইন তৈরি করছে ভারত

কলকাতা প্রতিনিধি,
শেয়ার করুন
ছবিঃ প্রতীকি

চীনের কুইনঘাই-তিব্বত রেল লাইনকে টেক্কা দিতে ভারত এবার বিশ্বের সর্বোচ্চ রেল লাইন তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ও রেলওয়ে মন্ত্রক যৌথভাবে হিমাচল প্রদেশের বিলাসপুর থেকে মানালি হয়ে সরাসরি জম্মু ও কাশ্মীরের লাদাখ অঞ্চলের লেহ পর্যন্ত এই রেল লাইন তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ৩৩০০ মিটার উচ্চতায় এটি হবে বিশ্বের সর্বোচ্চ রেল লাইন। গত ২৭ জুন ৪৯৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ওই লাইনের সমীক্ষার  কাজ শুরু করার সবুজ সঙ্কেত দিয়েছেন ভারতের রেলমন্ত্রী সুরেশ প্।

প্রতিরক্ষা সুত্রে জানা গেছে, পর্যটনের সুবিধার চেয়ে প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় এই রেল লাইন পাতা হচ্ছে। এটি তৈরি হয়ে গেলে জরুরি পরিস্থিতিতে সেনাবহিনী তাদের রসদ নিয়ে দ্রুত পৌঁছে যেতে পারবে চীন-পাকিস্তান লাগোয়া সীমান্তে।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, পাকিস্তান বা চীনের সঙ্গে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সীমান্তে যাতে দ্রুত সেনা ও রসদ পৌঁছনো যায়, তার জন্য ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ রেল লাইন পাতার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। এর মধ্যে জম্মুর সঙ্গে শ্রীনগরের রেললাইন পাতার কাজ অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। লাইন পাতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে অসমের মিসামারি থেকে চিন সীমান্তবর্তী তাওয়াং, উত্তর লখিমপুর-বামে-শীলাপাথর ও পাসিঘাট-তেজু-রুপাই পর্যন্ত। হিমাচলের বিলাসপুর থেকে লেহ-লাদাখ পর্যন্ত লাইন পাতার কাজ শেষ হলেই এক ধাক্কায় পাকিস্তান ও চিন সীমান্তের কাছে পৌঁছবে ভারতীয় রেল।

পরিবেশবিদরা অবশ্য লেহ পযৃন্ত রেল লাইন তৈরি নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। পরিবেশবিদদের আশঙ্কা, এই রেললাইন পাতা হলে হিমালয়ের ওই এলাকার পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে রেল এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কর্তারা জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিকে এক্ষেত্রে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

ধস ও ভূমিকম্পপ্রবণ ওই জমিতে কোন পথে, কী প্রযুক্তির সাহায্যে লাইন পাতা হবে, সেটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ ভারতীয় রেলওয়ের কাছে। সমীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রেলেরই অধীনস্থ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা রাইটসকে (RITES)। তবে এই সমীক্ষার জন্য যে ১৫৮ কোটি রূপি খরচ হবে  তা মেটাবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।

বিলাসপুর থেকে লেহ পর্যন্ত ৪৯৮ কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন তৈরি হবে শিবালিক,  গ্রেট হিমালয় ও জাঁসকর পাহাড়ের বুক চিরে। ওই এলাকায় পাহাড়ের উচ্চতা ৬০০ মিটার থেকে ৫৩০০ মিটার পর্যন্ত। রেল জানিয়েছে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে গড়ে প্রায় ৩৩০০ মিটার উপরে চলবে ওই প্রকল্প রূপায়ণের কাজ। গোটা এলাকাটি সিসমিক জোন ৪ ও ৫-এর মধ্যে পড়ে। ফলে এই প্রকল্পে রেল টানেল, সেতু কিংবা লাইন পাতার ক্ষেত্রে ভূমিকম্পের সম্ভবনাকে মাথায় রেখেই সমীক্ষায় নামছে রাইটস।

বেলওয়ে সুত্রে বলা হযেছে, বিলাসপুর থেকে মান্ডি-কুলু-মানালি হয়ে খোকসার, কেলং, প্যাং হয়ে লেহ পৌঁছবে ওই লাইন। একই সঙ্গে চলছে শিমলা থেকে বেরি  হয়ে বিলাসপুরের সঙ্গে রেল লাইন পাতার কাজও। ওই কাজ শেষ হলে দিল্লি-কালকা লাইনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করে দেওয়া সম্ভব হবে বিলাসপুর-লেহ লাইনকে। ২০১৯ সালের মধ্যে রাইটসকে সমীক্ষা রিপোর্ট  জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

print
শেয়ার করুন