প্রধান দলগুলোই জয়ী হচ্ছে পশ্চিম তরাইয়ে?

প্রধান দলগুলোই জয়ী হচ্ছে পশ্চিম তরাইয়ে?

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন

নেপালের পশ্চিম তরাইয়ের স্থানীয় পর্যায়ের ভোটের প্রাথমিক প্রবণতায় দেখা যায়, মূল ধারার দলগুলো  অনেক বেশি ভালো ফল করছে।

এর আগে নির্বাচনী ফলাফলের উপর প্রভাব বিস্তারের জন্য বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল গঠিত হয়। আঞ্চলিক দলগুলি শুধুমাত্র কয়েকটি স্থানীয় ফেডারেল এককে বিজয়ী হচ্ছে বলে মনে হয়। তরাই জেলায় যেখানে থারুর উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে সেখানে এই সম্প্রদায়ের জনপ্রিয় প্রার্থীরা নেতৃত্বে আসছেন। বৃহস্পতিবার থারু-সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলার মধ্যে বারদিয়া (৫৩ শতাংশ) এবং কৈলালীর (৪১.৫ শতাংশ) মতো জেলায় জাতিগত গোষ্ঠীর প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে মূল ধারার দলগুলো।

ডাঙ্গে ১৪টি ওয়ার্ড চেয়ারপারসন নির্বাচিত হয়েছেন সিপিএন (মাওবাদী কেন্দ্র) থেকে। এখানকার জনসংখ্যার ২৯.৫ শতাংশ হলো থারু। তাদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হয়েছেন তিন জন।

শুক্রবার সন্ধ্যায়, উপেন্দ্র যাদব-নেতৃত্বাধীন সংঘ সমাজবাদী ফোরাম, বাবুরাম ভট্টরাই-এর নেতৃত্বে নয়া শক্তি নেপালের জোট তিনটি স্থানীয় ইউনিট- ব্যাংকের নারায়ণপুর এবং রুহি ও রূপান্দিহির সায়াদেবিতে অগ্রগামি ছিল। বিজয় গচ্ছারের নেপাল লোকতান্ত্রিক ফোরাম থারু-আধিপত্যপূর্ণ ভেজানি ও কৈলালী জেলার তিকাপুর পৌরসভার অগ্রগামি ছিল।

কপিলভস্তুর কৃষ্ণনগর, নেপালগঞ্জ উপ-মহানগরী এবং ব্যাংকের জনাকী গ্রামীণ পৌরসভার মধ্যে রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টির প্রার্থীরা এগিয়ে ছিলেন।

নির্বাচন বয়কটকারী রাষ্ট্রীয় জনতা পার্টি নেপালের একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী লুমবিনি সাস্কৃতিক পৌরসভায় অগ্রগামী ছিলেন।

সংযুক্ত থারু রাষ্ট্রীয় মোর্চার সদস্য চন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী জানান যে, শক্তিশালী দলগুলোর বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় থারু প্রার্থী ভোটে জয়ী হয়েছেন।

নেপালের ভোটার প্যাটার্নের উপর সমীক্ষাকারী  গবেষক সঞ্জয় মাহাতো বলেন, যখন নির্বাচনী এলাকায় থারু, মাধেশি এবং লিম্বাসের মত জাতিগত গোষ্ঠীর প্রভাবশালী উপস্থিতি থাকে তখন জাতিগত বিষয় ভোটে নির্ণায়ক ভূমিকা রাখে।

তার মতে, দলের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের স্তরটি উচ্চতর হলে নির্বাচনে ভোট পাওয়া এবং জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। স্থানীয় নির্বাচনে জাতিগত অনুভূতির উত্থানের ফলে নেপালি কংগ্রেস, সিপিএন ইউএমএল এবং মাওবাদীর মতো বড় বড় দলগুলি প্রভাবশালী জাতিগত সম্প্রদায় থেকে প্রার্থী বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে।

এই পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এটি কেবল “উচ্চ বর্ণের হিন্দু পুরুষের অভিজাতদের” প্রাধান্যকে খর্ব করছে না একইসাথে জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের স্বল্প প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিও সামনে নিয়ে আসছে।

পশ্চিম তরাইয়ের ৮টি জেলায় নেতৃস্থানীয় দলগুলোর মধ্যে ইউএমএল -২৩, এনসি -১৯, এমসি -১০, আরপিপি -৩, এসএসএফ -৩, এনএলএফ -২, এবং স্বতন্ত্র একটি আসনে জয় পায়।

print