আইএস’র উত্থান ও বিস্তারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ি করলেন হামিদ কারজাই

আইএস’র উত্থান ও বিস্তারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ি করলেন হামিদ কারজাই

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন

আইএস’র জন্ম, শক্তিশালী হওয়া ও বিস্তারের পেছনে হাত থাকার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা করলেন আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। তিনি গত কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কার্যকলাপের সমালোচনা করে আসছেন। তবে, তার সময়েই আফগানিস্তানে ব্যাপকভাবে সামরিক উপস্থিতি তৈরি করতে সক্ষম হয় যুক্তরাষ্ট্র।

তুরস্কের একটি টিভি চ্যানেলকে দেয়া স্বাক্ষাতকারে কারজাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতিতেই আফগানিস্তানে বেশ কিছু জঙ্গি সংগঠন সৃষ্টি করা হয়। তিনি বলেন, দায়েশ এসে আমাদের গ্রামাঞ্চলে নৃশংস হত্যাকাণ্ড শুরু করে। এরা আমাদের পরিচয় ধ্বংস করার চেষ্টা চালায়। জনগণকে তাদের বাড়িঘর থেকে তাড়িয়ে দেয়। এই গোষ্ঠী আফগান জনগণের ওপর অবিশ্বাস্যরকম নৃশংসতা চালায়। নানাগারহার প্রদেশের শিনওয়ার জেলায় দায়েশের প্রথম দেখা মেলে। এই প্রদেশের রাজধানী জালালাবাদে তখন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সেনা উপস্থিতি। তারা শুধু চেয়ে চেয়ে দেখেছে। সেখানকার জনগণ আমাদের কাছে এসে দায়েশের নৃশংসতার বিবরণ দিতো।

কারজাই আরো অভিযোগ করেন যে মার্কিন সেনারা দায়েশের বিস্তার শুধু চেয়ে চেয়ে দেখেনি হেলিকপ্টারে করে তাদের কাছে রসদও পৌঁছে দিয়েছে। স্থানীয়রা দায়েশের অধিকৃত এলাকাগুলোতে মার্কিন হেলিকপ্টার ওঠা-নামা করতে দেখেছে।

সাবেক আফগান প্রেসিডেন্ট বলেন, আমাদের আকাশ সীমা মার্কিন বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। তাদের রাডার আছে। বিমান আছে। আমাদের আকাশসীমার মালিক আমরা নই, আমেরিকানরা। তাই হেলিকপ্টার এলে তা মার্কিন রাডারে ধরা পড়েছে। সেগুলো কোথা থেকে আসে তা তারা জানতো। এগুলো যদি ন্যাটো বা আমেরিকানদের না হবে, তাহলো কার? তাই তারা এ ব্যাপারে কিছু জানে না তা বলতে পারবে না। ওই এলাকার ওপর তাদের পুরো নজরদারি রয়েছে। তাই কোন অযুহাতে তারা এসব অভিযোগ এড়াতে পারে না।

আরেক প্রশ্নের জবাবে কারজাই জানান যে, তিনি আফগানিস্তানের নিয়ে মার্কিন সরকারের নীতির বিরোধী। তিনি বলেন, “আমি মার্কিন সরকারের নীতির বিরুদ্ধে। আমেরিকার জনগণের বিরুদ্ধে নই। তারা আফগানিস্তানকে সাহায্য করায় আমরা তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। কিন্তু আফগানিস্তানের ব্যাপারে মার্কিন সরকারের নীতি উল্টো ফল বয়ে আনছে।”

গত এপ্রিলে নানাগরহরে মোয়াব বোমা ফেলার পরও সেখানে আইএস’র বিস্তার ঘটছে। আফগানিস্তানে আইএস’কে মার্কিনীরা সহায়তা দিচ্ছে বলে সম্প্রতি রাশিয়াও অভিযোগ করেছে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, তোরাবোরা এলাকায় অভিযানের আগে চিহ্নবিহীন হেলিকপ্টারে করে ৫০ জন সশস্ত্র জঙ্গিকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয় আইএস’র শক্তি বৃদ্ধির জন্য। এছাড়া সেখানে অস্ত্র ও গোলাবারুদভর্তি কনটেইনার সরবরাহ করা হয়।

তবে রাশিয়ার এই অভিযোগের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র নিরবতা অবলম্বন করে।

print
শেয়ার করুন