পড়ালেখা জানে না মিয়ানমারের ৫ লাখ তরুণ

পড়ালেখা জানে না মিয়ানমারের ৫ লাখ তরুণ

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন
মিয়ানমারের মান্দালায় ইরাবতী নদীর তীর ঘেঁষে স্কুলে যাচ্ছে শিশুরা ছবি: হেন হিতেত / ইপিএ

মিয়ানমারের ৫ লাখ তরুণ লিখতে বা পড়তে জানে না। জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) পরিচালিত সর্বশেষ আদমশুমারি রিপোর্টে এ তথ্য উঠে এসেছে। তবে দেশটির নতুন প্রজন্মের মধ্যে শিক্ষার হার তুলনামূলক বেশি বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়।

নিরক্ষরতার এই উচ্চহারের কারণ হিসেবে স্কুলে অনুপস্থিতিকে দায়ী করা হয়। রিপোর্টে বলা হয়, ৭ থেকে ১৫ বছর বয়সি প্রায় ৫০ লাখ শিশু কখনো স্কুলে যায়নি। বিভিন্ন বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে স্কুলে উপস্থিতির হার ভিন্ন হলেও নয় বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে তা সর্বোচ্চ ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত। অন্যদিকে, ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে তা মাত্র ১ শতাংশ।

মিয়ানমার উন্নয়নের পথে যখন দ্রুত অগ্রসর হতে চাইছে তখন শিক্ষার এই করুণ চিত্র প্রকাশ পেলো। জাতিসংঘ রিপোর্টে দেশটির প্রতিটি স্তরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়।

এতে বলা হয়, সরকার, নাগরিক সমাজ, বুদ্ধিজীবী মহল ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে সম্মিলিতভাবে মিয়ানমারে শিক্ষিতের হার বাড়ানোর চেষ্টা চালাতে হবে। দেশটির নতুন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের স্বার্থে শিক্ষাকে একটি প্লাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

জাতিসংঘ রিপোর্টে বলা হয়, আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য শিক্ষিত জনগণ অপরিহার্য। মিয়ানমারে বয়স্ক শিক্ষার হার ৮৯.৫ শতাংশ। কিন্তু এই হার জনসংখ্যার বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষাগত বৈষম্যকে চাপা দিয়ে রেখেছে। যেমন, ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত পুরুষ ও নারী শিক্ষার হার তুলনামূলক নিচু। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে লৈঙ্গিক বৈষম্য প্রকট হয়ে ওঠে। বয়স্ক নারীদের মধ্যে শিক্ষার নিম্নহার থেকে বুঝা যায় অতীতে দেশটিতে স্কুলে উপস্থিতির হার ছিলো নিম্ন। শহরের চেয়ে গ্রামাঞ্চলে শিক্ষিতের হার কম। তাছাড়া রাজ্য ও অঞ্চলভেদে এর ব্যাপক তারতম্য রয়েছে। শান রাজ্যে ৬৪.৬ শতাংশ মানুষ লিখতে পড়তে জানে। কিন্তু প্রাপ্তবয়স্কদের ৪৪.৯ শতাংশ কখনো স্কুলে যায়নি।

জাতিসংঘ রিপোর্টে দেখা যায় মিয়ানমারে ২৫ বছর বয়সী জনসংখ্যার মাত্র ৬১.৩% স্কুলে গিয়েছে। ২৫ বছর বা তার চেয়ে বেশি বয়সীদের মাত্র ৭.৩ শতাংশে’র বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি রয়েছে। তবে, পুরুষদের চেয়ে মেয়েরা উচ্চশিক্ষায় তুলনামূলকভাবে এগিয়ে। পোস্টগ্রাজুয়েটদের মধ্যে ৬৩ শতাংশ নারী ও ৩৭ শতাংশ পুরুষ।

print
SOURCEমিজিমা
শেয়ার করুন