পানিসংকটে মৃত্যু পথযাত্রী ভুটানের গ্রামীণ জনপদ

পানিসংকটে মৃত্যু পথযাত্রী ভুটানের গ্রামীণ জনপদ

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন

প্রতিবেশিদের কাছ থেকে চেয়েচিন্তে পানি এনে গত এক বছর ধরে জীবন ধারণ করছেন সত্তরোর্ধ বয়সী শেরিং। ধামফিজুকে পানির একমাত্র উৎস পুকুরটি অনেক আগেই শুকিয়ে গেছে। এতদিন যারা পানি দিয়ে তাকে সাহায্য করেছে তারাও এখন আর দিতে চাইছে না। তাই খাবার ও ধোয়ামোছার জন্য শেরিংয়ের একমাত্র সম্বল বৃষ্টির পানি।

পুনাকা জেলার তালো এলাকার লাপসকা চুইং গ্রামে ৮১ পরিবারের বাস। গ্রামের অধিবাসীরা খাবার পানির তীব্র সংকটে ভুগছে। ধামফিজুক-এর পুকুরটি শুকিয়ে যাওয়ায় পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

২০১৫ সাল পর্যন্ত পুকুরটি ছিলো গুংথারমো গ্রামের ১৫টি পরিবারের একমাত্র পানির উৎস। এখন ধামফিজুক-এ কোন পুকুর নেই।

শেরিং বলেন, প্রতিবছর ঝরনা ও ছড়াগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। কেন এমনটা হচ্ছে তা জানি না। আমাদের কোন অন্যায়ের কারণে হয়তো প্রকৃতি রুষ্ট হয়েছে।

ভুটানে মাইলের পর মাইল কোন পানির উৎসের দেখা মিলছে না। বৃষ্টি এলে পানি ধরার জন্য ৮ সন্তানের জননী শেরিংকে এলুমিনিয়ামের পাত্র নিয়ে উঠানে এসে দাঁড়াতে হয়।

তিনি বলেন, বৃষ্টি না হলে ঘরে কোন পানি থাকে না। শীতকালে বৃষ্টি হয় না। তখন যে কি হবে তা জানি না।

বৃষ্টির পানি ধরে রাখতে জেরিক্যান, কৃত্রিম পুকুর, সিনটেক্স ও কূপ ব্যবহার করছে ভুটানের গ্রামবাসীরা। তবে, এসব পদ্ধতি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর নয়।

দেশটির বহু গ্রামে এখন পানি সংকট। বর্ষাকালে বিভিন্ন এলাকায় ঝরনা সৃষ্টি হয়। এগুলো থেকে মানুষ পানি সংগ্রহ করে। অনেক গ্রামেই পানির নির্দিষ্ট কোন উৎস নেই। বর্ষাকালে অস্থায়ী ঝরনাগুলো এসব গ্রামবাসীর পানি সংগ্রহের একটি বড় উৎস। শীতে এসব ঝরনা শুকিয়ে যায়।

ভুটানের এই পানি সংকটের জন্য পরিবেশ বিজ্ঞানীরা জলবায়ুর পরিবর্তনকে ব্যাপকভাবে দায়ি করছেন। সময়মতো বৃষ্টি না হওয়া, তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া, বন্যা, ভূমিধস ও ঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেশটিতে সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

print
SOURCEকুয়েনসেল
শেয়ার করুন