মালদ্বীপে স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব

মালদ্বীপে স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন

মালদ্বীপের বিরোধী জোট স্পিকার আবদুল্লা মাসিহ মোহামেদকে পদচ্যুত করার লক্ষ্যে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করেছে। ৮৫ সদস্যবিশিষ্ট পিপলস মজলিশের সংখ্যাগরিষ্ঠ আইনপ্রণেতা এই প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন দিয়েছেন।

প্রস্তাবটি সোমবার সকালে দাখিল করা হয়েছে। এতে ক্ষমতাসীন প্রগ্রেসিভ পার্টি অব মালদিভসের (পিপিএম) ১০ এমপিসহ ৪৫ জনের সই রয়েছে। এর ফলে প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিনির সংখ্যাগরিষ্ঠতার অবসান ঘটেছে বলে বিরোধী দলের সমর্থকরা মনে করছে। ইতোপূর্বে পার্লামেন্টে প্রেসিডেন্টের দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল।

স্পিকারকে অপসারণ করতে ৪৩ এমপির সমর্থন প্রয়োজন। ফলে বিরোধী জোট সহজেই স্পিকারকে পদচ্যুত করতে পারবে বলে আশা করছে।

স্পিকার বলেছেন, তিনি পার্লামেন্টের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

তবে পিপিএম প্রস্তাবটির বৈধতার চ্যালেঞ্জ করেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা আহমদ নিহান এবং অন্য সিনিয়র আইনপ্রণেতারা এক সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী দলের দাবিকে চ্যালেঞ্জ করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত কয়েকজন সদস্য দাবি করেন, তারা স্পিকারের বিরুদ্ধে আনীত অনাস্থা প্রস্তাবে সই করেননি।

এমপি আহমদ রশিদ বলেন, তার সই জাল হয়েছে। তিনি এ ব্যাপারে তদন্ত করার জন্য পার্লামেন্ট সচিবালয়ের প্রতি আহ্বান জানান।

কিন্তু এরপরপরই বিরোধী দলের পক্ষ থেকে একটি ছবি প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, ওই আইনপ্রণেতা এমপি ফরিস মামুনের উপস্থিতিতে একটি নথিতে সই করছেন।

পার্লামেন্টে ইয়ামেনির দলের ৪৮ জন সদস্য রয়েছে। তাদের মধ্য থেকে ১০ জন সরে গেলে এই দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকবে না। তবে এসব এমপি গত মার্চে মাসিহ’র বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছিলেন।

২৭ মার্চের ভোটাভুটি ছিল ইয়েমেনির তিন বছরের শাসনকালে প্রথম রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব। সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং ইয়েমিনের সৎভাই মামুন আবদুল গাইয়ুম নতুন বিরোধী জোটে যোগ দেয়ায় তারা এখন আগের চেয়ে বেশি শক্তিশালী হয়েছে।

এই জোট আশা করছে, ক্ষমতাসীন দল থেকে আরো কয়েকজন এমপি তাদের সাথে যোগ দেবে।

গত মার্চের ব্যর্থ অনাস্থা প্রস্তাবের পর পার্লামেন্টের আইন পরিবর্তন করা হয়। নতুন আইনে বলা হয়, স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে হলে অন্তত ৪২ জন এমপির সই লাগবে।

এ প্রেক্ষাপটে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গাইয়ুমের ছেলে এমপি ফারিস মামুন আশা প্রকাশ করেন, ক্ষমতাসীন দলের যারা এখনো অনাস্থা প্রস্তাবে সই করেননি, তারাও এবার তাদের সহযোগিতা করবে।

এদিকে সাবেক পুলিশপ্রধান এবং জামহুরি পার্টির উপনেতা এমপি আবদুল্লাহ রিয়াজ পার্লামেন্টের নতুন অবস্থার প্রতি নিরপেক্ষ আচরণ করার জন্য বিচার বিভাগ, নিরাপত্তা বাহিনী এবং স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি প্রবাসী প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদের বিরুদ্ধে আনা সন্ত্রাসবাদী অভিযোগ নতুন করে পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন।

print