চীনের দুই স্থল ও তিন সমুদ্র বন্দরে প্রবেশ সুবিধা চায় নেপাল

চীনের দুই স্থল ও তিন সমুদ্র বন্দরে প্রবেশ সুবিধা চায় নেপাল

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন

ইউরোপের সঙ্গে কানেকটিভিটি গড়ে তুলতে চীনের দুটি স্থল ও তিনটি সমুদ্র বন্দর ব্যবহারের জন্য বেইজিংয়ের কাছে প্রস্তাব পাঠাচ্ছে নেপাল। কাঠমান্ডুর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে প্রস্তাবটি তৈরি করে পরামর্শের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠিয়েছে।

দু’দেশের মধ্যে ট্রানজিট ট্রান্সপোর্ট এগ্রিমেন্ট (টিটিএ)-এর একটি প্রটোকল তৈরির জন্য কাঠমান্ডুতে কর্মকর্তাদের আসন্ন বৈঠকে ওই প্রস্তাব পেশ করা হবে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়।

গত বছর সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি’র বেইজিং সফরকালে দু’দেশের মধ্যে ওই টিটিএ সই হয়। চুক্তিটি বাস্তবায়নের জন্য প্রটোকল তৈরি জরুরি। এর ফলে নেপাল চীনের মধ্য দিয়ে তৃতীয় দেশের সঙ্গে বাণিজ্য করতে পারবে।

বর্তমানে দেশটি শুধু ভারতের মধ্য দিয়ে তৃতীয় কোন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য করে থাকে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রবি শঙ্কর সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, এই প্রস্তাব পুরোপুরি নেপালের স্বার্থে এবং শিগগিরই তা চীনা পক্ষের সঙ্গে আলোচনার জন্য পেশ করা হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতামত পাওয়ার পর প্রস্তাবটি চূড়ান্ত করা করা হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রী নিয়োগের পর কাঠমান্ডুতে চীনা দূতাবাস কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা বলে ওই কর্মকর্তা জানান।

গত জুনের প্রথম সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর শের বাহাদুর দেউবা এখনো সবগুলো মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিয়োগ শেষ করতে পারেননি।

গত ১২ মে নেপাল চীনের ‘এক অঞ্চল এক সড়ক’ প্রকল্পে যুক্ত হতে চুক্তি করে। এই চুক্তি ছিলো টিটিএ প্রটোকলের প্রাথমিক অংশ। এই চুক্তি তৃতীয় রাষ্ট্রের জন্য বাণিজ্য সম্পর্ক গড়ে তুলতে স্থলবেষ্টিত নেপালের জন্য সহায়ক হবে বলে কর্মকর্তারা মনে করেন।

নেপাল চীনের মধ্য দিয়ে ইরানের সঙ্গে সংযোগ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে বলেও জানা গেছে।

১০,৩৯৯ কি.মি. দীর্ঘ রেল পথের মাধ্যমে কাজাখস্তান ও তুর্কমেনিস্তানের মধ্য দিয়ে ইরানের সঙ্গে চীনের রফতানি হাব ঝেঝিয়াং প্রদেশের আইয়ু’র সংযোগ রয়েছে। এই রেলপথ ধরে মাত্র ১৪ দিনে চীনের পূর্ব উপকূল থেকে পণ্য ইরানে পৌঁছানো যায়। কিন্তু সমুদ্র পথে আইয়ু বা সাংহাই থেকে পণ্যের চালান ইরানে পৌছাতে ৪৫ দিন সময় লাগে। এর পাশপাশি চীনের কয়েকটি পণ্যবাহী রেলসড়ক রয়েছে যা সরাসরি ইউরোপের সঙ্গে যুক্ত। টিটিএ চুক্তি’র ফলে নেপাল কাছাকাছি থাকা চীনের তিয়ানজিন বন্দর ব্যবহার করতে পারবে। এরফলে ভারতের ওপর দেশটির নির্ভরশীলতা কমবে।