মিয়ানমারে সাংবাদিক গ্রেফতার: বাক স্বাধীনতা সুরক্ষায় ইইউ’র আহ্বান

মিয়ানমারে সাংবাদিক গ্রেফতার: বাক স্বাধীনতা সুরক্ষায় ইইউ’র আহ্বান

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন

সাংবাদিকদের ভীতি প্রদর্শন, গ্রেফতার ও সংবাদ প্রকাশের জন্য জেল-জরিমানা করা থেকে বিরত থাকতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের বেশকিছু ঘটনা ও গত সপ্তাহে সেনাবাহিনী তিন সাংবাদিককে গ্রেফতারের পরিপ্রেক্ষিতে ইইউ এ আহ্বান জানায়।

ওই তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ঔপনিবেশিক আমলের ‘অবৈধ সমাবেশ আইন’ ভঙ্গের অভিযোগ আনে সেনাবাহিনী। মাদক সেবনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপনকালে মাদক পোড়ানোর খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে ওই সাংবাদিকরা নাকি আইন ভঙ্গ করে।

সাংবাদিক ও মানবাধিকার গ্রুপগুলোর অভিযোগ, এক বছরের বেশি হয়ে গেছে অং সাং সুচি’র নেতৃত্বাধিন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি’র সরকার ক্ষমতায়।

অথচ এখন মনে হচ্ছে দেশটি ফের কঠোর সামরিক শাসনের দিকে ফিরে যাচ্ছে।

এক বিবৃতিতে ইইউ জানায়, মত প্রকাশ ও বাক স্বাধীনতা সকল মানুষের জন্মগত অধিকার। একটি গণতান্ত্রিক সমাজের এটা একটি অপরিহার্য ভিত্তি।

ইইউ বিবৃতিতে সাংবাদিকরা যেন ভীতি, গ্রেফতার বা বিচারের সম্মুখিন হওয়ার মতো পরিবেশ থেকে মুক্ত হয়ে অবাধ ও স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে তা নিশ্চিত করতে তাদেরকে প্রয়োজনীয় আইনী সুরক্ষা দিতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়।

গত সপ্তাহে সেনাবাহিনী হিসপাও শহর থেকে ডেমোক্রেটিক ভয়েস অব বার্মা’র সাংবাদিক আয়ে নাই ও পিআই ফুনি নাইং এবং ইরাবতি ম্যাগাজিনের লাউই ওয়েংকে গ্রেফতার করে। আগামী ১১ জুলাই তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রথম শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

সাংবাদিক আটকের ব্যাপারে সুচি’র মুখপাত্র জাও থায় বলেন, সবাইকে আইনের দৃষ্টিতে বিবেচনা করা হবে।

তবে এই তিন সাংবাদিক বা আগে সাংবাদিক গ্রেফতারের ব্যাপারে সুচি নিজে কোন মন্তব্য করেননি।

সেনাবাহিনীর দাবি ওই তিন সাংবাদিকের নাকি বর্তমান শাসনের বিরোধী সশস্ত্র গ্রুপগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে।

ইইউ জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমারে সাংবাদিক গ্রেফতার ও বিচারের মুখোমুখি করা উদ্বেগজনক পর্যায়ে উপনীত হয়েছে।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কথিত টেলিযোগাযোগ আইনের ধারা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়। ওই ধারাটিকে বাক স্বাধীনতার পরিপন্থী হিসেবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এর তীব্র সমালোচনা করে।

SOURCEরয়টার্স
শেয়ার করুন