জোরপূর্বক অন্তর্ধানের আন্তর্জাতিক কনভেনশন শ্রীলংকাকে হুমকির মুখে ফেলেছে: রাজাপাকসে

জোরপূর্বক অন্তর্ধানের আন্তর্জাতিক কনভেনশন শ্রীলংকাকে হুমকির মুখে ফেলেছে: রাজাপাকসে

কলম্বো প্রতিনিধি,
শেয়ার করুন
শ্রীলংকার সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসা

শ্রীলংকার স্থানীয় আইনে ‘জোরপূর্বক অন্তর্ধান’ থেকে সকলের সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক কনভেনশন যদি অন্তর্ভুক্ত করা হয় তবে বাইরের দেশ বিশেষ করে পশ্চিমা দেশসমূহ শ্রীলংকায় সংঘটিত অপরাধের জন্য শ্রীলংকানদেরকে গ্রেফতার করতে পারবে। সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসে বিলটি বাতিল করার জন্য এক বিবৃতিতে শ্রীলংকার সংসদকে এভাবে সতর্ক করে দিয়েছেন।

রাজাপাকসে তার বিবৃতিতে বলেন, “প্রস্তাবিত আইনে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীকে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধের বিচারের আওতায় আনার প্রচেষ্টা রয়েছে এবং এখানে ‘যুদ্ধাপরাধ’ শব্দটি ব্যবহার না করে সেটাকে ‘অন্তর্ধান’ বা গুম  হিসেবে নামকরণ করা হচ্ছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার জন্য ‘অন্তর্ধান’ শব্দটি ব্যবহার করার মাধ্যমে এর একটি নিরপরাধ চেহারা দেয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু এই প্রস্তাবিত আইনটির উদ্দেশ্য নিখোঁজ ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা নয় বরং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যারা জয়ী হয়েছে তাদের চিহ্নিত করে বিচার করা”

রাজাপাকসে তার বিবৃতিতে প্রস্তাবিত বিলের ৮নং অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে বলেন, জোরপূর্বক অন্তর্ধান থেকে সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক কনভেনশনের কিছু বিধান  শ্রীলংকার আইনে অন্তর্ভুক্ত করার বিল গেজেট করার পরে তা বর্তমান সরকার কর্তৃক তাৎক্ষণিকভাবে স্বাক্ষর ও অনুমোদন করা হয়েছে। এই বিল অনুযায়ী বাইরের দেশগুলি ‘জোরপূর্বক অন্তর্ধানে’ সন্দেহভাজন, অভিযুক্ত বা দোষী সাব্যস্ত শ্রীলঙ্কানকে বন্দী করার অধিকার পাবে। যখন এই ধরনের একটি অনুরোধ আসবে  তখন শ্রীলংকার সরকার বাইরের দেশকে জানাতে বাধ্য হবে যে তারা সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন বা তাকে হস্তান্তর করতে প্রস্তুত আছে।

শ্রীলংকান সাবেক প্রেসিডেন্ট বলেন, অনুচ্ছেদ ১০ এবং ১১ অনুযায়ী সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে যে কাউকে গ্রেফতারের জন্য ক্ষমতায়ন করে, এমনকি অন্য কোন দেশে অন্তর্ধানে জড়িত থাকার সন্দেহ হলে বিদেশী নাগরিককে তার আওতায় আনতে পারবে। এই ধরনের গ্রেফতারের পরে রাষ্ট্রটি সন্দেহভাজন বিদেশী নাগরিককে তার নিজের দেশে হস্তান্তর না করে সরাসরি বিচার করতে পারবে।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এইভাবে আটককৃত সন্দেহভাজনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও হস্তান্তর করা যেতে পারে এমনকি সন্দেহভাজনের নিজস্ব দেশ আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনাল এর অধীনে না পড়লেও। তিনি আরো বলেন যে, আন্তর্জাতিক কনভেনশন এর ৩২ ধারা (যা শ্রীলংকার সরকারের একটি পৃথক ঘোষণায় গৃহীত হয়েছে) জেনেভাতে দশ সদস্যের “জোরপূর্বক অন্তর্ধানের কমিটি”তে অভিযোগ করার জন্য সকল সদস্য রাষ্ট্রকে ক্ষমতা দেয়। উদাহরণস্বরূপ সদস্য রাষ্ট্রগুলো খুব সহজেই অভিযোগ তুলতে পারে যে, শ্রীলংকার এই কনভেনশনের অধীনে তার বাধ্যবাধকতা পূরণ করছে না এবং তাতে কমিটি এই ধরনের অভিযোগ তদন্ত করতে পারবে।

রাজাপাকসে উল্লেখ করেন যে,  “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার মতো দেশ কখনো এই কনভেনশনে স্বাক্ষর করেনি। ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন, আয়ারল্যান্ড এবং ভারত দশ বছর আগে ২০০৭ সালে স্বাক্ষর করলেও তা অনুমোদন করেনি।”

তিনি বলেন, “বেশিরভাগ দেশই এই কনভেনশন থেকে পুরোপুরি দূরে সরে এসেছে যার সুস্পষ্ট কারণ হলো, এই কনভেনশনের প্রবিধানে এতে যোগদানকারী দেশের নাগরিকদের স্বতন্ত্র অধিকার লঙ্ঘন হওয়ার একটি আশঙ্কা তৈরি করে।”

রাজাপাকসে তার বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলেন যে,  ‘জোরপূর্বক অন্তর্ধান’ এর বিরুদ্ধে শ্রীলঙ্কার আইনগুলি সব দিক দিয়েই পর্যাপ্ত।

রাজাপাকসে দাবী করেন, “জোরপূর্বক অন্তর্ধানের সাথে সম্পর্কযুক্ত – অপহরণ, অবৈধভাবে আটক রাখা,  খুন এবং মৃতদেহ গুম করার মত ইত্যাদি অপরাধ শ্রীলংকার বিদ্যমান ফৌজদারি আইন ও দণ্ডবিধির আওতায় যথেষ্টভাবে নিরীক্ষিত আছে। এই প্রস্তাবিত আইনটির একমাত্র বাস্তব উদ্দেশ্য হল আগ্রহী বিদেশী দলগুলিকে শ্রীলংকার বিচার ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করার সুযোগ করে দেওয়া”।

print
শেয়ার করুন