দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় তামাক ও মারিজুয়ানা ব্যবহারে শীর্ষে ভুটান

দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় তামাক ও মারিজুয়ানা ব্যবহারে শীর্ষে ভুটান

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা সম্পর্কিত একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, এই অঞ্চলের মধ্যে ভুটানে সর্বোচ্চ সংখ্যক ধূমপায়ী আছে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে তামাক বিক্রয়ে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের মধ্যে ধূমপায়ীর সংখ্যা বেড়ে চলছে। মোট জনসংখ্যার ৯.৪ শতাংশ এই বয়সসীমায় পড়ে। এমনকি বিড়ি-সিগারেট ছাড়াও অন্যান্য তামাকজাত দ্রব্যের ব্যাবহারও ভুটানের কিশোরদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী। ২৯.৩ শতাংশ ভুটানি নিয়ে শীর্ষে থাকা এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছে পূর্ব তিমুর (২৭.১%) এবং থাইল্যান্ড (১৪%)।

প্রতিবেদনে ব্যবহৃত তথ্য বিশ্বব্যাপী স্কুল-ভিত্তিক শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবার সর্বশেষ জরিপ থেকে এসেছে যা ডব্লিউএইচও বা হু এর সদস্য রাষ্ট্রগুলো দ্বারা বাস্তবায়িত হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া এই অঞ্চলের প্রায় সব দেশগুলিতেই বৈধভাবে তামাক এবং এলকোহল বিক্রয়ের জন্য একটি নির্দিষ্ট বয়স ঠিক করে দেওয়া আছে যা মূলত ১৮ বা ২১ এবং এর চেয়ে কমবয়সীদের জন্য তা সরবরাহ করা আইনত দন্ডনীয়। তা সত্ত্বেও রিপোর্টে দেখা যায় যে, ১৩-১৭ বছর বয়সীদের মধ্যে তামাক এবং এলকোহল ব্যাবহার অনেক বেশী। এই বয়সসীমার প্রতি দশজনে একজন তামাকজাত দ্রব্য এবং প্রতি ১২ জনে ১ জন অ্যালকোহলে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে।

ভুটানের কিশোরদের ২৪.২ শতাংশ বর্তমানে অ্যালকোহল গ্রহণ করছে। অ্যালকোহল পান করার ফলে প্রায় ১০ শতাংশ কিশোর পরিবার বা বন্ধুর সাথে ঝগড়াঝাটি করে এবং স্কুল ফাঁকি দিচ্ছে। প্রতিবেদন মতে, বিষণ্নতা, উদ্বেগ বা অন্যান্য অবস্থার কারণে মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতিতে তামাক, অ্যালকোহল এবং মাদকদ্রব্য ব্যবহারের মত আচরণগত সমস্যা বাড়তে পারে। দিন দিন অ্যালকোহল ও সিগারেটে হাতেখড়ি দেওয়ার গড় বয়স কমছে।

এছাড়া বর্তমানে ভুটানের ১২ শতাংশের বেশি কিশোর মারিজুয়ানা ব্যবহার করে। এর পরে আছে  থাইল্যান্ডের ৫.৩ শতাংশ এবং মালদ্বীপ ৪ শতাংশের একটু বেশী। ১৩-১৭ বছর বয়সী ছাত্রদের মধ্য একাধিক মাদকদ্রব্য ব্যাবহারে শীর্ষে শ্রীলঙ্কার (২৬.৫%) পরে ভুটান (২০.৩%) এবং পূর্ব তিমুর (৯.৫%)।

ডব্লিউএইচও এর দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক ড. পুনাম খেত্রপাল সিং বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য এবং মাদক ব্যবহার বিশ্বব্যাপী রোগ ব্যাধি সৃষ্টিতে বৃহত্তম ভূমিকা রাখছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে যে কিশোররা একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও ডেমোগ্রাফিক গ্রুপ গঠন করে যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক পঞ্চমাংশ। ড. সিং বলেন “শিশু ও কিশোর বয়সে মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যাগুলি চিনতে ও সনাক্ত করতে ব্যর্থতার একটি একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সমস্যা যা ক্রমবর্ধমান টেকসই উন্নয়নে বাধা দিচ্ছে”

SOURCEকুয়েনসেল
শেয়ার করুন