রাজনীতিতে উত্তেজনা তামিলদের দাবি নস্যাৎ করতে পারে

রাজনীতিতে উত্তেজনা তামিলদের দাবি নস্যাৎ করতে পারে

কলম্বো প্রতিনিধি,
শেয়ার করুন

নর্দার্ন প্রভিন্সিয়াল কাউন্সিলের (এনপিসি) একটি অংশের মুখ্যমন্ত্রী সি ভি বিগনেশরনের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবের জের ধরে কয়েক সপ্তাহ ধরে তামিল জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে যে বিভক্তির সৃষ্টি হয়েছে, তা এত দিন তামিল-সিংহলি রাজনৈতিক সঙ্ঘাতে ডুবে থাকা তামিল রাজনীতির দ্বন্দ্বকে স্পষ্ট করে তুলেছে।

বিরোধের জের ধরে বিগানেশরন দুর্নীতির অভিযোগে দুই মন্ত্রীকে পদত্যাগ এবং অপর দুই মন্ত্রীকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে যেতে নির্দেশ দেন। তবে তামিল ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স (টিএনএ) নেতা আর সাম্পানথন হস্তক্ষেপ করেন। তিনি বিগানেশরনকে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখার ব্যবস্থা করেন।

তামিল রাজনীতির বর্তমান অস্থিরতার মূলে রয়েছে কলম্বো সরকারের সাথে জটিল লেনদেন সম্পর্ক এবং যুদ্ধপরবর্তী তামিল প্রশ্নের সমাধানের বিষয়গুলো। তাছাড়া সাবেক প্রেসিডেন্ট রাজাপাকসের আমলের চেয়ে বর্তমান প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা যে ভিন্ন, সেটা উপলব্ধি করা নিয়েও তামিল দলগুলোর মধ্যে ঝামেলা চলছে।

টিএনএ নেতারা শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় সরকার এবং সিংহলি প্রাধান্যবিশিষ্ট সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির সাথে সামঞ্জস্য রেখেই এগিয়ে যেতে চায়। কিন্তু নর্দার্ন মুখ্যমন্ত্রী এলটিটিইর প্রচার করা আদর্শকেই বিস্তৃত পরিসরে রূপ দিতে চান বলে মনে করা হয়ে থাকে। তবে শ্রীলঙ্কার তামিলদের বেশিরভাগই এনপিসি মুখ্যমন্ত্রী এবং তার অনুসারীদের অনুসরণ করতে চায় না।

এটি ভালোভাবেই প্রমাণিত হয়েছে ২০১৫ সালের আগস্টের পার্লামেন্ট নির্বাচনে। এতে কট্টরপন্থী তামিল ন্যাশনাল পিপলস ফ্রন্টের (টিএনএফপি) সমর্থিত বিগনেশরনের সমর্থিত প্রার্থীরা কেন্দ্রীয় সরকারপন্থী টিএনএর কাছে শোচনীয়ভাবে হেরে গিয়েছিল।

এনপিসি চাচ্ছে, ২০১৫ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কায় ক্ষমতায় আসা সরকার তামিলদের দুর্দশা লাঘবের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেটা বাস্তবায়নের প্রয়াস চালানো। এই লক্ষ্যে নতুন সরকার কিছু ব্যবস্থাও গ্রহণ করেছে।

তবে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, বর্তমানে যে অবস্থা চলছে, তাতে করে শ্রীলঙ্কার তামিলদের মধ্যে বিরাজমান বিভেদ সহসাই দূর হওয়ার নয়। এতে করে তামিলদের দুর্দশাই কেবল বাড়তে থাকবে।

শেয়ার করুন