সংবিধান পরিবর্তনের বিরোধিতা করছেন শ্রীলংকার শীর্ষ বৌদ্ধভিক্ষুরা

সংবিধান পরিবর্তনের বিরোধিতা করছেন শ্রীলংকার শীর্ষ বৌদ্ধভিক্ষুরা

কলম্বো প্রতিনিধি,
শেয়ার করুন

শ্রীলংকার বৌদ্ধভিক্ষুদের শীর্ষ সংগঠন ‘মহানায়াকস’ সরকারের প্রতি নতুন সংবিধান প্রণয়নের চেষ্টা পরিহারের আহ্বান জানিয়েছে। এমনকি, বর্তমান সংবিধান সংশোধনের চেষ্টা না করতেও সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।

বৌদ্ধ দর্শনের তিনটি ধারা বা ‘নিকায়াস’ মিলে এই ‘মহানায়াকস’ গঠিত।

সংগঠনের নেতারা মঙ্গলবার (৪ জুলাই) ক্যান্ডিতে মিলিত হন এবং দেশের সংবিধান নতুন করে প্রণয়নের প্রয়োজন নেই বলে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেন।

তাদের মতে, বর্তমান সংবিধান সংশোধনেরও প্রয়োজন নেই। তবে, প্রয়োজন হলে নির্বাচন প্রক্রিয়া সংশোধন করা যেতে পারে বলে মনে করেন তারা।

গুম-সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক কনভেনশন দেশের আইনে অন্তর্ভুক্ত করতে পার্লামেন্টে যে বিল উত্থাপন করা হবে তারও বিরোধিতা করে মালবাত্তি, আসগিরিয়া ও রামান্নায়া নিকায়াস মিলে গঠিত ‘মহানাকায়স’।

শ্রীলংকার বিরোধী দলগুলো আশংকা করছে, এই কনভেনশন অনুমোদন করা হলে পশ্চিমা বিভিন্ন দেশের আদালত এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে শ্রীলংকার সামরিক বাহিনীর সদস্যদের যুদ্ধাপরাধের দায়ে বিচার করার পথ সুগম হবে। এ ব্যাপারে একটি বিল বুধবার (৫ জুলাই) পার্লামেন্টে উত্থাপনের কথা রয়েছে।

সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বিরোধী দলীয় নেতা মাহিন্দা রাজাপাকসা এই কনভেনশন গ্রহণের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। রাজাপাকসার নেতৃত্বাধিন যৌথ বিরোধী দল দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সংবিধান প্রণয়ন ও গুম-সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক কনভেনশন গ্রহণের বিরুদ্ধে ‘মাহানায়াকস’ ওই বিবৃতি দেয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকারের একটি অংশও বৌদ্ধভিক্ষুদের বিবৃতিকে সমর্থন করছে।

শ্রীলংকা ফ্রিডম পার্টি (এসএলএফপি)’র সিরিসেনা-পন্থীরাও শুধু নির্বাচন প্রক্রিয়া সংশোধন চান। তারা উত্তরের তামিল প্রদেশকে অধিকতর ক্ষমতা দিয়ে নতুন সংবিধান চান না।

তবে, জাতীয় সংলাপ ও জাতীয় ভাষা বিষয়ক মন্ত্রী মানো গনেশান বলেন যে, সরকার নির্বাচনী অঙ্গীকার থেকে পিছিয়ে যাবে না। যুদ্ধোত্তর পুনর্মিলনের জন্য সংবিধান নতুন করে লেখা হবে বলেও তিনি জানান।

মন্ত্রী বলেন, নির্বাহী প্রেসিডেন্সি বিলোপ, সংবিধান পরিবর্তন ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০১৫ সালে এই সরকার ক্ষমতায় আসে। এই প্রতিশ্রুতির কারণে সংখ্যাগুরু সিনহলী ও সংখ্যালঘু তামিল ও মুসলমানরা এই সরকারের নেতৃবৃন্দকে সমর্থন দেয়। এই তিনটি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হবে বলে বিশেষ করে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীগুলো আশা করে। এসব প্রতিশ্রুতির খণ্ডিত বাস্তবায়ন তারা মেনে নেবে না।

শীর্ষ বৌদ্ধভিক্ষুরা যদি এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় তাহলে কি হবে — এমন প্রশ্নের জবাবে গনেশান বলেন, বল এখন সরকারের কোর্টে।

print
শেয়ার করুন