এনসিএ স্বাক্ষরকারীদের “শান্তির পথ” এর পুনঃপর্যালোচনার প্রস্তাব

এনসিএ স্বাক্ষরকারীদের “শান্তির পথ” এর পুনঃপর্যালোচনার প্রস্তাব

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন

দেশব্যাপী যুদ্ধবিরতি চুক্তি-এনসিএর বাস্তবায়নের আগে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে এর  পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে দাবী করছেন এনসিএ স্বাক্ষরকারীদের নিয়ে গঠিত শান্তি প্রক্রিয়া স্টিয়ারিং কমিটির (পিপিএসটি) সদস্যরা। বর্তমান প্রক্রিয়াকে তাদের কল্পিত পথ থেকে অনেকটাই আলাদা বলেছে এই কমিটি।

২৮ জুন থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত আটটি সশস্ত্র জাতিগত সংগঠনের প্রতিনিধিত্বকারী পিপিএসটি থাইল্যান্ডের চিয়াং মাইয়ে শান্তি প্রক্রিয়ার পর্যালোচনাতে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠান করে। আলোচনায় বর্তমান প্রক্রিয়ার শক্তি এবং দুর্বলতাগুলি বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। বিশেষ করে শান ও রাখাইন রাজ্যের জাতিগুলোর সাথে জাতীয় পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত না হওয়ার কারণে ২১ শতকের পাংলং শান্তি সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে যে সকল সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে তা নিয়ে বিশ্লেষণ হয়। শিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের চেয়ারম্যান এবং পিপিএসটির নেতা পু যিং চুং বলেছেন, “বর্তমান পরিস্থিতি এনসিএর চেতনা থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং শান্তি প্রক্রিয়ায় ট্র্যাক রাখার বিষয়টি স্বাক্ষরকারীদের জন্য “সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ” ছিল।

২ জুলাই অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, রাজনৈতিক সংলাপের কাঠামো চূড়ান্ত করতে হবে। বর্তমানে দুটি কাঠামো বিদ্যমান: সরকার ও এনসিএ স্বাক্ষরকারীর মধ্যে তৈরি খসড়া নিয়ে একটি, এনসিএ স্বাক্ষর করা এবং না করা উভয় গোষ্ঠীর সাথে সরকারের আরেকটি খসড়া কাঠামো। সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য উভয় কাঠামোই ব্যবহার করা হচ্ছে। যদিও কোন কাঠামোই ব্যাপক ও চূড়ান্ত অবস্থায় পৌঁছেনি। পিপিএসটি সদস্যরা বলেছে, তারা শান্তির প্রক্রিয়া নিয়ে এগিয়ে এসে ইউনিয়ন শান্তি সম্মেলন অধিবেশনে যোগদান করে অবদান রাখার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন।

পিপিএসটি প্রতিনিধিরা বলেন, পরবর্তী আরও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে ফেডারেল রাজ্যের ভূমিকা, ইউনিয়ন এবং রাজ্যগুলির মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগি, রাষ্ট্রীয় সংবিধান এবং শান্তি চুক্তির যৌথ অভিযোজন। মতবিরোধ সত্ত্বেও, শান্তি সম্মেলনের সাম্প্রতিক অধিবেশনে ৩৭টি মৌলিক নীতিমালায় সকলে সম্মত হয়েছিল। তবে ফেডারেল নীতিগুলি যেমন সমতা,  স্বায়ত্তশাসন এবং রাষ্ট্রীয় সংবিধানের খসড়া তৈরি ইত্যাদি সদ্য স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় আসে নি।

ইউনিয়ন পিচ এন্ড ডেভলপমেন্ট জয়েন্ট কমিটি (ইউপিডিজেসি) বলছে যে, শান্তি পরিষদের মাধ্যমে তারা ইউনিয়ন সমিতির সকল অংশকে একত্রিত করবে এবং অনুমোদনের জন্য সংসদে পেশ করবে; তারপর ২০০৮ সালের সামরিক-প্রণীত সংবিধান সংশোধিত হতে পারে। এনসিএ স্বাক্ষরকারী নির্বিশেষে জাতীয় স্তরের সংলাপের ধারণার গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছে যার মাধ্যমে মৌলিক নীতিমালাগুলির জন্য সুপারিশ করা হবে এবং তারপর তা ইউনিয়ন শান্তি সম্মেলনে উপস্থাপন করা যেতে পারে। এতে আরসিএসএস এবং আরাকান লিবারেশন আর্মি/পার্টি (এএলএ/পি) তাদের দাবী-দাওয়ার কথা পেশ করতে পারবে। তারা মে মাসে শান্তি সম্মেলনে অংশ নিতে পারেনি। সরকার প্রতি ছয় মাসে বা বছরে দুই বার ইউনিয়ন শান্তি সম্মেলন করার পরিকল্পনা করছে।

SOURCEদি ইরাবতী
শেয়ার করুন