হেলমান্দের বাঁধ নিয়ে ইরানের বিরুপ মন্তব্যের সমালোচনা আফগানিস্তানের

হেলমান্দের বাঁধ নিয়ে ইরানের বিরুপ মন্তব্যের সমালোচনা আফগানিস্তানের

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন

আফগানিস্তানের জ্বালানি ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় বলেছে, হেলমান্দ নদী নিয়ে সম্মত দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী ইরানের প্রাপ্য পানির চার গুণ বেশী পানি ব্যাবহার করছে ইরান। আফগানিস্তানের বাঁধ প্রকল্প নিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির মন্তব্যের পর বুধবার আফগানিস্তানে পানি ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের পানির ব্যবস্থাপনা ও জাতীয় অর্থনীতিতে উন্নতির লক্ষ্যে  হেলমান্দ নদীর উপর বাঁধ নির্মাণের কাজটি হচ্ছে কাবুলের শীর্ষ অগ্রাধিকার।

মন্ত্রণালয়ের মতে, গত কয়েক বছরে ইরান হেলমান্দ নদী চুক্তির নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে চার গুণ বেশি পানি ব্যবহার করেছে যার প্রেক্ষাপট হিসেবে ইরান অজুহাত দিচ্ছে যে এটা আফগানিস্তানের আশেপাশের এলাকায় ব্যবহার হয়। আর অন্যদিকে  আফগানিস্তানে প্রবাহিত নদীগুলোর উপর ইরান ৩০টি বাঁধ নির্মাণ করেছে যা আফগানিস্তানে পানি প্রবাহ বন্ধ করে দিচ্ছে।

মন্ত্রণালয় দাবী করে, ইরান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফগানিস্তানের হেলমান্দ ও হরিয়রড ওয়াটার জোন থেকে পূর্বের চেয়ে অনেক বেশী পরিমাণ ব্যবহার করেছে। পানি সম্পদ ও জ্বালানি উপ-মন্ত্রী বাসীর আজিমী বলেন, “দেশের অভ্যন্তরে বাঁধ দেয়ার সাথে সাথে আমরা আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পারি”।

১৯৭৩ সালে আফগানিস্তান ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হেলমান্দ নদী চুক্তির ধারা ৫-এর কারণে ইরান এই চুক্তিতে বর্ণিত পরিমাণের চেয়ে হেলমান্দ নদীর অতিরিক্ত পানি দাবি করতে পারবে না। এমনকি হেলমান্দের নিম্ন অববাহিকায় অতিরিক্ত পরিমাণে পানি থাকলেও তা ইরানের কোন কাজে ব্যবহার করা যাবে না।

সোমবার তেহরানে মরুঝড় বিষয়ে একটি সম্মেলনে আফগানিস্তানের বাঁধ প্রকল্পের সমালোচনা করে ইরানের প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের পর আফগান মন্ত্রণালয়ের এই বিবৃতি আসে। রুহানি বলেছিলেন: “আমরা এমন কোন বিষয় সম্পর্কে নীরব থাকতে পারি না যা দৃশ্যত আমাদের পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। আফগানিস্তানের উত্তর ও দক্ষিণে কাশকি, কামাল খান এবং সালমাসহ বেশ কিছু বাঁধ দেয়া আমাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়।” তিনি বলেন, আফগানিস্তানে বাঁধ প্রকল্পের কারণে ইরান সীমান্তে বেশ কয়েকটি এলাকা হুমকির সম্মুখীন হবে।

আফগানিস্তানের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে,  তারা মনে করেন  ইতিহাসজুড়ে ইরানকে পানি ব্যাবহারে সুযোগ দেওয়ার জন্য আফগানিস্তানকে ধন্যবাদ জানানো উচিত ইরানের। বিশ্লেষকরা বলছেন যে, আফগানিস্তান যদি তার প্রতিবেশীদের সাথে পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনাগ্রহী থাকে তবে তারা জলবায়ু সংকটের সম্মুখীন হবে।

অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ এবং কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক সায়েদ মাসুদ বলেন, “আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুযায়ী,  আমরা বাঁধ দেয়ার অধিকার রাখি। জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী এই বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের দায়িত্ব আমাদের। ”

আফগান সংসদের প্রাকৃতিক সম্পদ কমিশনের প্রধান রমজান জামজাদা বলেন, “আন্তর্জাতিক কনভেনশনগুলির সাথে সঙ্গতিপূর্ণভাবে আফগান সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং ইরানকে বছরের পর বছর ধরে অতিরিক্ত পানি ব্যাবহার করতে দেওয়ার যথোপযুক্ত প্রতিদান দেওয়ার জন্য বলা যেতে পারে। ”

আফগানিস্তানে পানি সম্পদের মাত্রা প্রতি বছর গড় ভিত্তিতে প্রায় ৭০ বিলিয়ন কিউবিক মিটার বলে অনুমান করা হয়। তবে এর ৮০ শতাংশ পানি ইরান, পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলিতে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রতিবেশীদের মধ্যে ইরান আফগানিস্তানের প্রধান দুই ওয়াটার জোন হেলমান্দি এবং হরিরিড থেকে প্রচুর পানি সরবরাহ পায়।

print
SOURCEটলোনিউজ
শেয়ার করুন