রামপালে আপত্তি তুলে নিয়েছে ইউনেস্কো: সরকার

রামপালে আপত্তি তুলে নিয়েছে ইউনেস্কো: সরকার

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন
রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রস্তাবিত নকশা

সুন্দরবনের কাছে রামপালে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে জাতিসংঘ সংস্থা ইউনেস্কোর উদ্বেগের প্রশমন ঘটেছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ সরকার।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটি সুন্দরবনের প্রান্তসীমায় ওই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে তাদের আগের আপত্তি তুলে নিয়েছে।

পোল্যান্ডে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটির ৪১তম অধিবেশন চলছে, সেখানেই এই ঘোষণা আসে বলে জানানো হয়েছে।

ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যে (ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ) থাকা প্রাকৃতিক নিদর্শনগুলোর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ তালিকা থেকে সুন্দরবনকে এখন বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের পাশে বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে আপত্তি জানিয়ে আসছে পরিবেশবাদীরা।

এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিরোধিতাকারীরা বলছে, এটি হলে পরিবেশ ও প্রতিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সঙ্কটে পড়বে সুন্দরবন। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সুন্দরবনের ক্ষতি না করেই এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে।

নিজেদের ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য নিয়ে এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যে ইউনেস্কোর পক্ষ থেকেও রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে গত বছর চিঠি দেওয়া হয় সরকারকে। সরকার সেই চিঠির জবাবও দেয়।

পোল্যান্ডে হেরিটেজ কমিটির যে বৈঠকে এসব নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়, তাতে বাংলাদেশের সরকারি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই ইলাহী চৌধুরী। তারা বৈঠকে সুন্দরবন ও রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।

২১ সদস্যের হেরিটেজ কমিটিই সিদ্ধান্ত নেয়, ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় কোন কোন প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক নিদর্শন থাকবে, কোনটি বাদ যাবে ইত্যাদি। কোন নিদর্শন ঝুঁকিতে রয়েছে, কোনগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশ উদাসীন, তাও তুলে ধরে এই কমিটি।

১৯৯৭ সালে সুন্দরবন ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় যুক্ত হয়। রামপাল নিয়ে বিতর্ক ওঠার পর ২০১৬ সালে ইউনেস্কোর একটি দল সরেজমিন পরিদর্শনে বাংলাদেশে এসেছিল।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘ আলোচনার পর হেরিটেজ কমিটি যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে সুন্দরবনের উপর ক্ষতিকর প্রভাব এড়িয়ে বাংলাদেশ সরকার পরিকল্পিত স্থান রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণকে অনুমোদন করেছে।

ভারতের সঙ্গে যৌথ উদ‌্যোগে বাগেরহাটের রামপালে যে স্থানে বিদ‌্যুৎ কেন্দ্রটি হচ্ছে, তা সুন্দরবনের প্রান্তসীমার চেয়ে ১৪ কিলোমিটার দূরে এবং বনের বিশ্ব ঐতিহ‌্যের অংশ থেকে ৬৭ কিলোমিটার দূরে।

এতে আরও বলা হয়, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় সরকার ২০১৬ সাল থেকে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, তার প্রশংসা করেছে হেরিটেজ কমিটি।

হেরিটেজ কমিটির অনুরোধে সরকার সুন্দরবনসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে একটি কৌশলগত পরিবেশ সমীক্ষা চালাতে রাজি হয়েছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

তৌফিক ইলাহী হেরিটেজ কমিটিকে বলেছেন, সুন্দরবনের সুরক্ষার বিষয়ে সরকার পুরোপুরি সচেতন রয়েছে।

হেরিটেজ কমিটির এই বৈঠকের দিকে চেয়েছিল রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রবিরোধীরাও। আন্দোলনকারীদের একটি সংগঠন সুন্দরবন বাঁচাও কমিটির সাম্প্রতিক এক সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, ইউনেস্কো সায় দিলেও বাংলাদেশের পরিবেশের কথা ভেবে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

আন্দোলনকারী অন্য সংগঠন তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটিও রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিরোধিতায় অনড় রয়েছে।

print