রোহিঙ্গা শিশুদের মধ্যে মারাত্মক অপুষ্টি

রোহিঙ্গা শিশুদের মধ্যে মারাত্মক অপুষ্টি

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি বুধবার জানিয়েছে, গত বছর মার্কিন সামরিক বাহিনীর দমন অভিযানের পর থেকে ৮০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে। তাদের চিকিৎসা প্রয়োজন বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

গত অক্টোবরে মিয়ানমার সীমান্ত ফাঁড়িতে সন্ত্রাসীদের হামলার পর মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে ওই অভিযান শুরু করে। এতে অনেক রোহিঙ্গা নিহত হয়। এছাড়া অনেকে ধর্ষিতা হয়, তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া হয়।

প্রায় ৭৫ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে চলে যায়। নোবেল পুরস্কারজয়ী আঙ সান সুচির শাসনকাজের প্রথম বছরটি এই ঘটনাই ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। জাতিসঙ্ঘ জানিয়েছে, মিয়ানমার বাহিনী যেভাবে ধর্ষণ, হত্যাকাণ্ড এবং ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে, তা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের শামিল।

সামরিক বাহিনীর অভিযানের পর গত মার্চ ও এপ্রিলে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি রোহিঙ্গাদের অবস্থা যাচাই করার চেষ্টা করে। তারা মাংডুতে ৪৫টি গ্রামের ৪৫০টি পরিবারের সাক্ষাৎকার নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

এতে দেখা যায়, অত্যন্ত অরক্ষিত এলাকাগুলোতে খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটেছে। যেসব এলাকায় জরিপ চালানো হয়েছে, তার এক তৃতীয়াংশ এলাকায় চরম অবস্থা বিরাজ করছে। অনেকে সারা দিনেও এক বেলা খেতে পাচ্ছে না।

এতে বলা হয়, জরিপ চালানো এলাকায় একটি শিশুও ‘ন্যূনতম পর্যাপ্ত খাবার’ পাচ্ছে না। এছাড়া ৮০,৫০০ শিশুর আগামী বছর মারাত্মক অপুষ্টিজনিত রোগের চিকিৎসার প্রয়োজন হবে।

সু চির প্রশাসন নিরাপত্তা বাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি তদন্তে জাতিসঙ্ঘ ম্যান্ডেট পাওয়া মিশনকে অনুমতি দিতে রাজি হচ্ছে না। তারা সেখানে সাহায্য যেতেও দিচ্ছে না। মাংডুকে অবস্থান করা রোহিঙ্গাদের কৃষিকাজ ও মাছ ধরার পেশাতেও অংশ নিতে দেয়া হচ্ছে না।

মিয়ানমার দাবি করছে, রোহিঙ্গারা আসলে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া মুসলমান।
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির প্রতিবেদনে বলা হয়, সবচেয়ে নাজুক এলাকগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনী সবচেয়ে সক্রিয়।

তবে সু চির মুখপাত্র জাও হতে এই প্রতিবেদন অস্বীকার করে বলেছে, তারা এ ধরনের অবস্থা সম্পর্কে অবগত নয়।

print
SOURCEরয়টার্স
শেয়ার করুন