মালয়েশিয়ায় ৩,৮০০ জনের মৃত্যুর পর এর কারণ অনুসন্ধান করছে নেপাল

মালয়েশিয়ায় ৩,৮০০ জনের মৃত্যুর পর এর কারণ অনুসন্ধান করছে নেপাল

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন

নেপালী অভিবাসী কর্মীদের জন্য, মালয়েশিয়ায় তাদের বাড়ির কথা মনে করতে পারার মতো প্রায় সবকিছু আছে। দক্ষিণপূর্ব এশীয় এ দেশটির জলবায়ু উপসাগরীয় দেশগুলোর তুলনায় অনেক আরামের। মালয়েশিয়ার স্থানীয় মালে এবং চীনা ও ভারতীয় বংশোদ্ভুত সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলির বৈশিষ্ট্য, খাবারের অভ্যাস এবং সংস্কৃতির সাথে নেপালিরা পরিচিত। নেপালের মতো চাল ও কারি মালয়েশিয়া জুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়।

তবুও, নেপালীরা উপসাগরীয় দেশগুলির তুলনায় মালয়েশিয়ার উচ্চতম হারে কেন মৃত্যুবরণ করছে? এই প্রশ্নটি দীর্ঘদিন ধরে নেপালি স্টেকহোল্ডারদের বিব্রত করেছে।  শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এখন এ প্রশ্নের  উত্তর পাবার নতুন প্রচেষ্টা নিয়েছে।

বর্তমানে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালা লামপুরে চিকিৎসকসহ নেপালি কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধিদল রয়েছে যারা অভিবাসী কর্মীদের জন্য নেপালের সবচেয়ে বড় কাজের গন্তব্য দেশটিতে নেপালিদের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান করবে । প্রতিনিধিদলটি পাটান একাডেমি অব হেলথ সার্ভিসের রেজিস্ট্রার ডা. কেদার বারাল, সানাড কেসির ডা. রমেশ কৈরালা এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের রাজু পোখারাল ও শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অর্জুন খানালের সমন্বয়ে গঠিত। প্রতিনিধিদলটি আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কাছে নেপালিদের মৃত্যুর হার নিচে নামিয়ে আনার জন্য সুপারিশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে ।

মালয়েশিয়ায় নেপালিদের মারা যাবার হার হতাশাজনক। কুয়ালা লামপুরের দূতাবাসের সাথে যাচাই করে নেয়া নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মাই  রিপাবলিকার প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে ২০০৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৩.৮০০ জন শারিরীক ও মানসিকভাবে কর্মক্ষম নেপালি মালযেশিয়ায় মৃত্যু বরণ করেছে।

নেপাল সরকার ১১০ টিরও বেশি দেশকে কাজের গন্তব্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লোক কাজ করে মালয়েশিয়ায় যা কাতারের প্রায় দ্বিগুণ।

মালয়েশিয়ার হাসপাতাল কর্তৃক প্রকাশিত পোস্টমর্টেম রিপোর্টগুলি বিশ্লেষণে দেখা গেছে হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকে বেশিরভাগ নেপালির মৃত্যু ঘটে। নেপালি মিশনের কর্মকর্তারা জানান, আকস্মিক ভাবে হৃদক্রিয়া বন্ধ হবার বিষয়টি বেশিরভাগই ঘুমের সময় ঘটে।

অন্যান্য মৃত্যু হয় কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা, সড়ক দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা, শারীরিক আক্রমণ এবং যক্ষ্মা, কিডনি ব্যর্থতা এবং নিউমোনিয়ার মতো ক্রনিক রোগের কারণে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, তারা আশা করেন মাঠ গবেষণায় অভিবাসী মৃত্যুর সাথে সম্পর্কিত অতীতের অজানা অনেক তথ্য পাওয়া যাবে। তারা বলেন,  গবেষণার একটি প্রধান উদ্দেশ্য হলো, মৃত্যু সংখ্যা কমাতে পরিকল্পনা, নীতি ও কর্মসূচীর বিকাশ সাধন করা।

print