জলবায়ু পরিবর্তন দক্ষিণ এশিয়ার পানি, জ্বালানি এবং খাদ্য লভ্যতার জন্য একটি চ্যালেঞ্জ

জলবায়ু পরিবর্তন দক্ষিণ এশিয়ার পানি, জ্বালানি এবং খাদ্য লভ্যতার জন্য একটি চ্যালেঞ্জ

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে খাদ্য উৎপাদনের জন্য জ্বালানি ও পানি সরবরাহের সম্ভাব্য উৎস থাকলেও জলবায়ু পরিবর্তন এক্ষেত্রে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। সার্ক অঞ্চলের পানি, জ্বালানি ও খাদ্য নেক্সাসের উপর ভুটানের রাজধানী থিম্ফুতে গত ৪ জুলাই আয়োজিত এক সভায় একথা বলা হয়। এতে পাকিস্তান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ু পরিবর্তন কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক মুহাম্মদ জুলফিকার (পিএইচডি) বলেন, “খাদ্য ও পানি অস্তিত্ব রক্ষার জন্য অপরিহার্য। আর জ্বালানি হলো মানব উন্নয়নের ভিত্তি। এসব সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা টেকসই উন্নয়নের প্রধান ভিত্তি।”

তিনি বলেন, ভুটানের ৩০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের ৭২ শতাংশ লোক এখনই বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে। ভুটানের গড়ে ৪ কিলোওয়াট সৌর বিদ্যুত উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

কৃষির বিভাগের পরিচালক, কিনলে তেহেরিং তার উপস্থাপনায় এর আগে বলেছিলেন, ভুটানে চাষের জন্য প্রচুর পানি আছে কিন্তু এটি আহরণে প্রযুক্তি এবং দক্ষতার অভাব রয়েছে।

ড. মুহাম্মদ জুলফিকার বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার বেশিরভাগ দেশই তাদের জ্বালানি উৎপাদনের ৫০ শতাংশের বেশি একক উৎসের উপর নির্ভর করে। এটা এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করে এবং এতে বৈচিত্র্য আনা প্রয়োজন।

তিনি বলেন ,. “জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষি জমি হ্রাস পাওয়া ছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তন দক্ষিণ এশিয়ায় খাদ্য, পানি ও জ্বালানি লভ্যতার জন্য একটি ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ হিসাবে আবির্ভত হচ্ছে।”

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে তুষার ও বৃষ্টিপাতের সময় পাল্টে যাচ্ছে। আগে যেটি ডিসেম্বর এবং জানুয়ারি ছিল সেটি এখন ফেব্রুয়ারী, মার্চ বা এপ্রিল পর্যন্ত চলে গেছে। শেষের মাসগুলোতে কম ধারণক্ষমতা এবং উচ্চ হারের বৃষ্টিপাতের বন্যা আর হিমবাহের হ্রদ থেকে সৃষ্ট বন্যা বেড়ে যাচ্ছে।

ড. জুলফিকার বলেন, “তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তান ছাড়া বাকি সকল সার্ক সদস্য দেশগুলির বৃষ্টিপাত হ্রাস পাবে”।

অধ্যাপক মুহাম্মদ জুলফিকার এর মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে খাদ্য ও জ্বালানি উৎপাদন কম হলে দীর্ঘ মেয়াদে পানি সরবরাহ কমবে। এ কারণে উচ্চ তাপমাত্রায় ফসলে পানির প্রয়োজনীয়তা বাড়বে, জ্বালানি ঘাটতি হবে, খরা, মরুকরণ এবং বন্যার তীব্রতা বাড়বে। এর ফলে বাস্তচ্যুতের সংখ্যাও বাড়বে।

এই অবস্থা মোকাবেলার জন্য তিনি জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি এবং স্থানীয়ভাবে গ্রহণীয় সহায়ক নীতিমালা এবং পানি, জ্বালানি ও খাদ্য খাতে বিনিয়োগের জন্য সার্ক দেশগুলোর প্রতি সুপারিশ রাখেন।

উল্লেখ্য, দক্ষিণ এশিয়ার এই অঞ্চলে বিশ্বের ৫৯ শতাংশ পানির ব্যবহার হয় আর জনসংখ্যার ৫১ শতাংশ খাদ্য এবং জ্বালানি স্বল্পতার সম্মুখিন। দক্ষিণ এশিয়ায় ১৬০ কোটি তথা বা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশের বাসস্থান। কিন্তু বিশ্বজুড়ে যে জমি তার মাত্র তিন শতাংশ রয়েছে এখানে।

SOURCEকুয়েনসেল
শেয়ার করুন