ইউএনএইচসিআর প্রধানের রাখাইনে অবাধ চলাচলের সুযোগ দেয়ার আহ্বান

ইউএনএইচসিআর প্রধানের রাখাইনে অবাধ চলাচলের সুযোগ দেয়ার আহ্বান

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন
ফিলিপো গ্রান্ডি

জাতিসঙ্ঘ উদ্বাস্তুবিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপো গ্রান্ডি রাখাইন রাজ্যে চলাচলের অবাধ সুযোগ এবং বাস্তুচ্যুত লোকজনের কাছে সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন। ওই অঞ্চলে সহিংতার পর প্রথমবারের মতো মিয়ানমার সফর শেষে তিনি এই আহ্বান জানান।

জাতিসঙ্ঘের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এগুলো জটিল বিষয়, তবে অসম্ভব কাজ নয়। তিনি আরো বলেন, নাগরিকত্ব প্রত্যয়ন বাড়ানো এবং দারিদ্র্য বিমোচনও সমাধানের অংশ।

জাতিসঙ্ঘ প্রতিনিধি বলেন, সাবেক মহাসচিব কফি আনানেন নেতৃত্বাধীন রাখাইন বিষয়ক উপদেষ্টা কমিশনের সুপারিশমালার মধ্যে ছিল অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতদের ক্যাম্প গুটিয়ে ফেলা, বাংলাদেশ থেকে উদ্বাস্তু ফিরিয়ে নেয়া এবং এগিয়ে যাওয়ার রোডম্যাপ প্রণয়ন।

পাঁচ দিনের সফরকালে গ্রান্ডি ইয়াঙ্গুন, রাখাইন রাজ্যেল সিত্তুই, মাংডু টাউনশিপ পরিদর্শন করেন। এছাড়া তিনি নেপিয়াতাউয়ে স্টেট কাউন্সিলর দাও আঙ সান সু চি, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী, শ্রমমন্ত্রী, সীমান্ত নিরাপত্তামন্ত্রীর সাথেও সাক্ষাৎ করেন।

তারা কাচিন ও রাখাইন রাজ্যের ক্যাম্পগুলোতে মানবিক সহায়তা সরবরাহ নিয়ে আলোচনা করেন। এই দুই রাজ্যের ক্যাম্পগুলোতে যথাক্রমে এক লাখ এবং এক লাখ ২০ হাজার লোক অবস্থান করছে।

হাই কমিশনার থাইল্যান্ড থেকে কোচিন জাতিগোষ্ঠির লোকজনকে ফিরিয়ে আনার সুপারিশ করেন। তবে তিনি বলেন, প্রত্যাবর্তন হতে হবে স্বেচ্ছায় ও স্থায়ীভিত্তিতে।

চলতি সপ্তাহে গ্রান্ডির প্রতিনিধিদল মাংডুতে সীমান্ত পুলিশপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল থুরা সান লউনির সাথে সাক্ষাৎ করেন। তারা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানের সময় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলোও পরিদর্শন করেন।

ক্যাম্পের এক বাসিন্দা উ স লইউন ইরাবতীকে বলেন, প্রতিনিধিদলের সাক্ষাতের সময় তারা অবাধ চলাচলের সুযোগ না থাকার কথা বলেন। এছাড়া ক্যাম্পে তারা পাঁচ বছর ধরে শিক্ষা স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন না বলেও জানান। ২০১২ সালের দাঙ্গার সময় তাদের যেসব সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে, সেগুলোর ক্ষতিপূরণ তরা পাবেন বলে এখনো তারা বিশ্বাস করেন।

গত ১ জুলাই স্টেট কাউন্সিল অফিসের তথ্য কমিটি জানায়, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা উ থাঙ তুন ওই এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনী এবং সন্দেহভাজন জঙ্গিদের মধ্যে সঙ্ঘাত বেড়েছে।

এতে বলা হয়, ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত মাংডু জেলায় ৩৮ বেসামরিক লোক নিহত এবং ২২ গ্রামবাসী অপহৃত বা নিখোঁজ হয়েছে। হতভাগ্যদের অনেকে গ্রাম প্রশাসনের কর্মকর্তা। তারা সরকারের সাথে সহাযোগিতা করছিল।

SOURCEইরাবতী
শেয়ার করুন