আইএস’র সাথে লড়তে আফগান সরকার তোরা বোরায় অস্ত্র দিচ্ছে গ্রামবাসীদের

আইএস’র সাথে লড়তে আফগান সরকার তোরা বোরায় অস্ত্র দিচ্ছে গ্রামবাসীদের

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন

পূর্ব আফগানিস্তানের একদা ওসামা বিন লাদেনের আশ্রয় নেয়া তোরা বোরা পাহাড়ের এক দূরবর্তী জেলার, ইসলামিক স্টেটের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত শত শত স্থানীয় গ্রামবাসীকে সন্ত্রাসী গ্রুপটির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য একটি মিলিশিয়া বাহিনী গঠন করে তাদের অস্ত্র দিচ্ছে সরকার।  প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।

আফগান ন্যাশনাল ডাইরেক্টরেট অব সিকিউরিটি (এনডিএস) পাকিস্তান সীমান্ত অদূরে নানগারহার প্রদেশের পিকাইরাগ্রাম জেলার কয়েক ডজন স্থানীয় লোককে অস্ত্র দিচ্ছে। এই এলাকা থেকে মার্কিন সমর্থনপুষ্ট আফগান সামরিক বিমান হামলার মাধ্যমে সম্প্রতি আইএস যোদ্ধাদের বহিষ্কার করার পর এই পদক্ষেপটি নেয়া হয়েছে।

নানগারহার গভর্নরের মুখপাত্র আতাউল্লাহ খোগিয়ানি বলেন, “আমরা পিকিরাগাম জেলার ৩00 জন স্থানীয় সদস্যকে তালিকাভুক্ত করেছি যাদের শীঘ্রই অস্ত্র সজ্জিত করা হবে এবং তারা কার্যক্রম শুরু করবে”। তিনি বলেন, “জাতীয় নিরাপত্তা অধিদপ্তর তাদের অর্থ  এবং অস্ত্র সরবরাহ করবে।”

আতাউল্লাহ খোগিয়ানি আরো বলেন, স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠদের সাথে সমন্বয়ে গঠিত এই মিলিশিয়া এই অঞ্চলের নিরাপত্তা বজায় রাখবে এবং উপসাগরীয় আইএস যোদ্ধাদের এই এলাকা আসতে দেবে না।

২০১৭ সালের ২৩ এপ্রিল আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় নানহারহার প্রদেশের আচিন জেলায় মোয়াব  বোমা আঘাত হানার পর আফগান বিশেষ বাহিনী এই অঞ্চলে টহল শুরু করে।

তোরা বোরা

গত মাসে, এই অঞ্চলে গ্রামগুলিতে আফগান তালেবানদের অবস্থানে আইএস হামলা চালায়। এরপর আইএস জঙ্গিদের তাদের অঞ্চলের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে দেখা বাসিন্দাদের অস্ত্র তুলে নিয়ে তালিবানদের বাহিনীর সাথে যৌথভাবে আইএসআইএসকে বহিষ্কার করার অনুরোধ করে।

২০০১ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে সামরিক অভিযানের স্থান হিসেবে পরিচিত তোরো বোরো একটি পাহাড় গুহা এবং রুক্ষ ভূখণ্ড। এখানে মৃত-আল-কায়েদার নেতা ওসামা বিন লাদেন নিকটবর্তী পাকিস্তানে ঢুকে পড়ার আগে আত্বগোপনে ছিলেন।

আফগানিস্তানে চলমান তালেবান বিদ্রোহীদের অগ্রাভিযানে সারা দেশের বেশ কয়েকটি ফ্রন্ট লাইনের প্রতিরোধ ব্যবস্থা শিথিল হয়ে পড়েছে। তোরো বোরো এলাকার নিরাপত্তা স্থানীয়রা তাদের নিজেদের হাতে তুলে নিয়ে এবং আফগানিস্তানের সামরিক অনুপস্থিতিতে তাদের অঞ্চলের রক্ষার জন্য চাপ দিচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে এলাকাটির অংশ বিশেষ তালিবানদের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।

print