ইসরাইল-ভারত বন্ধন ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কোন্নয়নের যৌক্তিকতা প্রমাণ করে

ইসরাইল-ভারত বন্ধন ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কোন্নয়নের যৌক্তিকতা প্রমাণ করে

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন

এই পত্রিকায় ৭ জুলাই লেখা এক সম্পাদকীয়তে বৈশ্বিক মৈত্রিজোটগুলোর মধ্যে পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানকে তার স্বার্থ নিয়ে ভাববার পরামর্শ দেয়া হয়েছিলো।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কে চিরস্থায়ী বলতে কিছু নেই। মৈত্রিজোটগুলো ক্রমাগত পরিবর্তন হচ্ছে। বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক যেমন তৈরি হচ্ছে, তেমনি ভেঙ্গেও যাচ্ছে।

বর্তমান বিশ্বের চিত্র এ থেকে আলাদা নয়।

বিশ্বের ঘটনাবলীতে টালমাটাল অবস্থা চলছে। এরই মাঝে ভারত-ইসরাইল সম্পর্কটি ক্রমাগতভাবে দৃঢ় হওয়া একটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এতে কেউ কেউ বিস্মিত হলেও অন্যরা বিগত কয়েক দশক ধরে তেল আবিব ও নয়া দিল্লি’র মধ্যে সম্পর্কটির ওপর নজর রেখেছেন।

মঙ্গলবার বেনগুরিয়ান বিমানবন্দরের টারমার্কে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে যেভাবে তার ইসরাইলী প্রতিপক্ষ বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুকে আলিঙ্গন করতে দেখা গেলো তাতে মনে হচ্ছে মোদির সফরের মধ্য দিয়ে দু’দেশের সম্পর্ক আগের চেয়ে অনেক বেশি জোরদার হয়েছে। তবে, এই সফরের ব্যাপারে ইরানের কাছ থেকে বেশ কৌতুহলজনক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। ইরানের সঙ্গে ভারতের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক থাকলেও ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক সাপে-নেউলে।

গত সোমবার (৩ জুলাই) ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি “ভারত অধিকৃত কাশ্মিরে নির্যাতিত মুসলমানদের প্রতি” সমর্থন দানের আহ্বান জানান। ঈদের খুতবাতেও খামেনি কাশ্মির প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন। আয়াতুল্লাহ খামেনি এই প্রতিক্রিয়া যে ইসরাইলের সঙ্গে ভারতের ক্রমবর্ধমান অন্তরঙ্গতার কারণে — তাতে সন্দেহের অবকাশ আছে সামান্যই।

ভারতের কংগ্রেস ইসরাইল ও ফিলিস্তিনকে সমান দৃষ্টিতে দেখার যে নীতি অনুসরণ করতো তা থেকে দেশটি এখন অনেক দূরে সরে এসেছে।

ভারত ১৯৯২ সালে ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। ফিলিস্তিন মুক্তি আন্দোলন – পিএলও প্রধান ইয়াসির আরাফাতের সঙ্গে ইন্দিরা গান্ধির ঘনিষ্ঠতা ছিলো সর্বজনবিদিত। গান্ধিকে ‘বোন’ বলে ডাকতেন তিনি।

দুই পক্ষকেই সমর্থনের সেই দিনগুলো গত হয়েছে, এটা স্পষ্ট। ফিলিস্তিনিদের প্রতি মোদির কোন ভালোবাসা নেই। মোদির সফরে ফিলিস্তিনি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের কোন কর্মসূচিও ছিলো না বলে জানা যায়।

তুলনাটি নয়াদিল্লির কাছে অত্যন্ত গর্হিত একটি কাজ বলে মনে হতে পারে। কিন্তু ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরাইলের নৃশংস আচরণের সঙ্গে কাশ্মিরিদের ওপর ভারতীয় বাহিনীর নৃশংসতার যে একটি সুস্পষ্ট মিল আছে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

সংকটগুলো শুরু হওয়ার পর কয়েক দশক পেরিয়ে গেলেও ফিলিস্তিন ও কাশ্মিরিরা তাদের নিজেদের ভূখণ্ডেই ক্রমাগত রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে চলেছে। তাদের ইচ্ছার স্বাধীনতা ও মর্যাদা বলতে কিছু নেই।

এসব ক্ষুব্ধ জনগোষ্ঠীকে কিভাবে দমিয়ে রাখা যায় তা নিয়ে তেল আবিব ও নয়াদিল্লির ডানপন্থী সরকারগুলো পরস্পরের মধ্যে নোট বিনিময় করে বলে মনে হচ্ছে। গাজায় শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি তৈরি করে রেখেছে ইসরাইল। আর, কাশ্মিরিদের পিষে মারতে জ্যাকবুট ব্যবহার করছে ভারত।

ভারত ও ইসরাইলের এই মাখামাখি সম্ভবত পাকিস্তানকে কাশ্মির ইস্যুটিকে ইরান ও অন্য দেশগুলোর কাছে তুলে ধরার সুযোগ এনে দিয়েছে। কাশ্মিরি ও ফিলিস্তিনিদের ওপর যে বর্বরতা চালানো হচ্ছে তার বিরুদ্ধে বিশ্বজনমত গড়ে তোলার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে।

শেয়ার করুন