পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ন্ত মানে শঙ্কিত শিক্ষাবিদরা

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ন্ত মানে শঙ্কিত শিক্ষাবিদরা

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন

বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মান কমে যাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদগণ। গড়ে প্রায় ৯৫ শতাংশ শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সফলভাবে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করে।  কিন্তু গত চার বছরের বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় তাদের পারফরম্যান্স ভয়াবহভাবে নিচে নেমে গেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিং এ বাংলাদেশী বিশ্ববিদ্যালয়গুলির অবস্থানের মারাত্মক অবনতি নিয়েও শিক্ষাবিদরা হতাশা প্রকাশ করছেন। এই অবনতিকে ৩৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিচে নামার নির্দেশক বলে মনে করা হচ্ছে।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, প্রতিযোগিতামূলক বিসিএস পরীক্ষায় নিম্ন পাসের হার প্রমাণ করে যে শিক্ষার্থীরা তাদের সিলেবাসের বাইরের বিষয়ে জ্ঞানার্জনে ব্যর্থ হচ্ছে এবং সবমিলিয়ে তাদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কম। ২০১৫ সালের ইউনিভার্সিটি গ্রান্টস কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদনে অনেক প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকদের গুণগতমানকে ‘সন্দেহজনক’ হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে। এই পরিস্থিতির জন্য শিক্ষাবিদগণ শিক্ষক এবং ছাত্র উভয়ের মধ্যে অনুপ্রেরণার অভাবকে দায়ী করেছেন যা রাজনৈতিক বিবেচনায় শিক্ষকদের নিয়োগের কারণে বহুগুণে বেড়ে গিয়েছে। অন্যদিকে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে গবেষণা কর্মসূচির সংখ্যা কমে যাওয়া, গ্রন্থাগারের সুবিধা হ্রাস এবং অপর্যাপ্ত গবেষণাগার ইত্যাদি কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে রাঙ্কিংও পিছিয়ে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান এ কে আজাদ চৌধুরী বলেছেন, ‘বাংলাদেশে উচ্চতর শিক্ষার মান কমে যাওয়া বেশ দুর্ভাগ্যজনক।’ মঞ্জুরি কমিশনের আরেক সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, “গত দশকে উচ্চ শিক্ষায় ভর্তির সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও, শিক্ষার গুণগত মান উদ্বেগের একটি গুরুতর কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।’

ইউজিসি চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, তিনি আশা করেন যে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য আরো পরিকল্পিত পদক্ষেপের প্রতি মনোযোগী হবে। ২০১৬ সালের জন্য বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে, ২০১৬ সালের জুন মাসে ৩৭তম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে পরীক্ষার জন্য আবেদনকারীদের পাশের সংখ্যা পূর্ববর্তী ৪ বছরের ব্যবধানে ৩.৫ শতাংশে নেমে এসেছে। ২০১৩ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত ৩৪তম পরীক্ষায় এই হার ছিল ২০.৮৭ শতাংশ। ৩৪ তম বিসিএসের প্রাথমিক পরীক্ষার ২.২২ লক্ষ আবেদনকারীর ২০.৮৭ শতাংশ পাস করেছিল। ৩৫ তম পরীক্ষায় পাশ করে ২.৪৪ লাখের মধ্যে ৮.৩৫ শতাংশ, ৩৬ তম পরীক্ষায় ২.১১ লাখের মধ্যে ৬.৫৪ শতাংশ, ৩৭ তম পরীক্ষায় ২.৪৩ লাখের মধ্যে ৩.৫ শতাংশ পাশ করেছে। সাইমন্ডস র‌্যাংকিং অনুযায়ী জুন ২০১৭ তে, পৃথিবীর শীর্ষ ৭০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটিও বাংলাদেশী বিশ্ববিদ্যালয় নেই।  ২০০৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬৫তম এবং ২০১০ সালে ৫৫০ থেকে ৬০০ এর মধ্যে স্থান পায়। জানুয়ারি ২০১৭ এর র‌্যাঙ্কিং এ বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ২০২৫তম স্থান পেয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২৮৩তম এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ৩২৪৩তম অবস্থান পেয়েছে।

 

SOURCEনিউএজ
শেয়ার করুন