পশ্চিমবঙ্গের দাঙ্গায় বাংলাদেশের একদল মানুষের মদতের অভিযোগ মমতার 

পশ্চিমবঙ্গের দাঙ্গায় বাংলাদেশের একদল মানুষের মদতের অভিযোগ মমতার 

কলকাতা প্রতিনিধি,
শেয়ার করুন

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সীমান্তবর্তী বাদুড়িয়াসহ বসিরহাটের সর্বত্র গত কয়েক দিয়ে যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়েছে তাতে বাংলাদেশ থেকে মদত দেওয়ার বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

শনিবার রাজ্য সচিবালয় নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বলেছেন, বাদুড়িয়ার হাঙ্গামার পেছনে বাংলাদেশ থেকে আসা লোকজনের মদত রয়েছে বলে তিনি খবর পেয়েছেন সেই সঙ্গে তাঁর আরও অভিযোগ, সেইসব অনুপ্রবেশকারীদের সঙ্গে কেন্দ্র তথা বিজেপির সম্পর্ক খুব ভালো।  স্বাভাবিকভাবেই মমতার তীর বিজেপির দিকে।  

কলকাতা থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বাদুড়িয়া। আর বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে এলাকাটির দূরত্ব মাত্র কয়েক কিলোমিটার।  

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন,  বাদুড়িয়ার ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্ত হবে। কারা এর সঙ্গে যুক্ত তা খুঁজে বের করা হবে। কিভাবে হিংসা ছড়িয়েছে তা খতিয়ে দেখে দোষীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেছেন,  ফেসবুকের মাধ্যমে কয়েকটি ভূয়া ভিডিও পোস্ট করে বাদুড়িয়ায় নতুন করে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে বিজেপি।  

গত সোমবার থেকে গোষ্ঠী সংঘর্ষে অশান্ত উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া বসিরহাট এলাকায় শুক্রবার থেকে শান্তি ফিরে এলেও পরিস্থিতি এখনো থমথমে। পুলিশ আধা সামরিক বাহিনীর টহল চলছে।

সাম্প্রদায়িক  সংঘর্ষে  ইতিমধ্যেই মৃত্যু হয়েছে একজনের। আহত হয়েছেন পুলিশসহ প্রায় ৪০ জন। 

স্থানীয় দুই সম্প্রদায়ের মানুষ জানিযেছেন, হিংসার আগুনকে ছড়িয়ে দিতে বহিরাগতদের আনা হয়েছিল। হাঙ্গামাকারীরা বোমা, গুলিও ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ। মঙ্গলবার ফেসবুকে কাবাঘর নিয়ে একটি আপত্তিকর ছবি যে ছাত্রটি পোস্ট করেছিল তার বাড়িতে যে খানেক যুবক আগুন দিতে গিয়েছিল তাদের স্থানীয় মানুষ চেনে না বলেই প্রশাসনকে জানিয়েছেন। বাধা দিলেও তারা কথা শোনেনি। এমনকি গ্রামের মাতব্বররা এগিয়ে গেলেও তাদের সরে যেতে বলা হয়েছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের কর্তারাও মনে করছেন, উত্তর ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে অশান্তির পিছনে কট্টরপন্থীদের মদত রয়েছে। পুলিশ তদন্ত করে দেখছে, ছাত্রটিকে আপত্তিকর ছবিটি পোস্ট করতে কে বা কারা উস্কানি দিয়েছিল। 

তবে সরকারিভাবে বলা হয়েছে, দাঙ্গা ছড়ানোর লক্ষ্যে ভোজপুরি সিনেমার দাঙ্গার দৃশ্য এবং বাংলাদেশের কুমিল্লায় মন্দিরে হামলার ছবিকে কৌশলে বসিরহাটের ছবি বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ইচ্ছাকৃতভাবে প্রচার করা হয়েছিল।  

১৭ বছরের এক ছাত্রের আপত্তিকর একটি  ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করেই এই অশান্তির সূত্রপাত বলে জানা গেছে। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারও  করেছে। সোশ্যাাল মিডিয়ার মাধ্যমে যাতে গুজব মিথ্যা রটনা করা না হয় সেজন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে গত কয়েক দিন ধরে বন্ধ রাখা হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা। 

বৃহস্পতিবারই নিষিদ্ধ করা হয়েছে হিন্দু মুসলিমদের দুটি কট্টরপন্থী সংগঠনকে। দুটি হল, হিন্দু সংগঠন হিন্দু সংহতি এবং হায়দরাবাদের সাংসদ আসাদুদ্দিন ওয়েইসির সংগঠন অল ইন্ডিয়া মজলিসইত্তেহাদুল মুসলিমিন  

পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই কট্টরপন্থী দুটি সংগঠনের সভা বা সমাবেশ রাজ্যে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এরা রাজ্যের কোথাও কোনও মিটিংমিছিল করতে পারবে না বলে প্রশাসনের সর্বত্র নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থতার অভিযোগে বদলি করা  হয়েছে দক্ষিণবঙ্গের আইজি অজয় মুকুন্দ রানাডেকে। সরানো হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখার্জিকেও। এর আগে সরানো হযেছে বাদুড়িয়া থানার আইসিকেও। 

শনিবার  বসিরহাটে যাওয়ার পথে গ্রেপ্তার করা হয়েছে  বিজেপির সংসদ সদস্যকে। এদিন সকালে সংসদ সদস্য মীণাক্ষী লেখি, সত্যপাল সিংহ, ওম মাথুর বসিরহাটে যাওয়ার পথে বিরাটিতে তাঁদের আটকে দেয় পুলিশ। পরে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।  

বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ’র কাছে এদের পরিস্থিতি নিয়ে রিপোর্ট দেবার কথা ছিল বলে জানা গেছে। গত শুক্রবারও বাম, বিজেপি কংগ্রেসের  আলাদা আলাদা তিন প্রতিনিধি দলকে বসিরহাটে যেতে দেওয়া হয়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বসিরহাটে না যাওয়ার জন্য রাজনৈতিক দলগুলির কাছে আর্জি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

print
শেয়ার করুন