শ্রীলংকা সরকারের গুরুতর সাংবিধানিক মাথাব্যাথা

শ্রীলংকা সরকারের গুরুতর সাংবিধানিক মাথাব্যাথা

শেয়ার করুন

২০১৫ সালের নির্বাচনের পর থেকে বিদেশি সহায়তায় চলা প্রকল্পগুলিতে ট্রেড ইউনিয়নের ডাকা ধর্মঘট, একটি বিতর্কিত বেসরকারি মেডিকেল কলেজের বিরুদ্ধে ডাক্তারদের ধর্মঘট এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসের ছায়া গুরুতরভাবে শ্রীলংকা সরকারের মাথাব্যাথার কারণ হয়ে উঠেছে। “মহানায়েক” হিসেবে পরিচিত দেশের বৌদ্ধ ধর্মের প্রধানরা একযোগে দেশের সংবিধান নতুন করে লেখা বা সংশোধন করার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সরকারের মাথাব্যাথা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বৌদ্ধধর্মের প্রধান তিনটি শাখার প্রধানরা কঠোরভাবে দাবি করেছেন যে, সরকার দেশের সংবিধান নতুন করে লেখার পরিকল্পনা পরিত্যাগ করুক। এমনকি বর্তমান সংবিধানকে সংশোধনের চেষ্টাও পরিত্যাগ করুক। তারা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, এই দুটি বিষয়েই বর্তমান সরকার নির্বাচনে জয় লাভের আগেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। গত সপ্তাহে ক্যান্ডিতে আয়োজিত এক বিশেষ বৈঠকের পরই নিকায়া হিসাবে পরিচিত তিনটি শাখার প্রধান মহানায়েকেরা এই আহ্বান জানিয়েছেন। তবে তাঁরা জানিয়েছেন, একমাত্র নির্বাচনী ব্যবস্থার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা যেতে পারে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান প্রেসিডেন্ট এবং তাঁর সরকারের প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে যেভাবে মহানায়েকেরা প্রকাশ্যে ঘোষণা দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তার পিছনে সাবেক প্রেসিডেন্ট ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রভাব কাজ করেছে। গত নির্বাচনে হেরে যাবার পর থেকে  রাজাপাকসে ও তাঁর ভাইয়েরা, বিশেষ করে প্রভাবশালী সাবেক প্রতিরক্ষা সচিব গোতাবায়া রাজাপাকসে বেশি সময় দেশের মন্দিরে মন্দিরেই কাটিয়েছেন। বৌদ্ধগুরু, বিশেষ করে তিনটি শাখার প্রধান সন্ন্যাসীদের সঙ্গে তিনি নিয়মিত বৈঠক করেছেন।

বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের নতুন সংবিধান রচনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে অনেক সিংহলীরাও সামিল হয়েছেন।

গত সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে সাবেক নৌবাহিনীর প্রধান রিয়ার এডমিরাল সারথ উইরাসেকেরা ঘোষণা দিযেছেন যে, ২০১৫ সালের অক্টোবরে জেনেভা ভিত্তিক জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের(ইউএনএইচআরসি) বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে গৃহীত বিতর্কিত ৩০/১ সিদ্ধান্তে সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে দেশের কাছে দ্রুত ইউএনপি-এসএলইপি জোটকে জবাবদিহি করতে হবে। এই সিদ্ধান্তে জাতিগত বিরোধ নিয়ে মধ্যস্থতাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, যুদ্ধকালীন সময়ের দায় এবং মানবাধিকার ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের কথা বলা হয়েছে।

জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের প্রধানের কাছে এক আবেদন দাখিল করার পরই রিয়ার এডমিরাল উইরাসেকেরা এই মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, সংবিধান সংস্কারে শ্রীলংকাকে বাধ্য করা এবং যুদ্ধাপরাধে যুক্ত অপরাধীদের বিচার করার জন্য সকলকে নিয়ে আদালত গঠনের জন্য দেশের উপর চাপ সৃষ্টি করতে কাউন্সিলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক। তিনি আবেদনে উল্লেখ করেছেন যে, সমস্ত সেনাবাহিনী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত ছিলেন।

তিনি আরও বলেছেন যে, সম্প্রতি বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যদি মানবাধিকার আইন বাধা তৈরি করে তবে তা পরিবর্তনের যে আহ্বান জানিয়েছেন সেই প্রসঙ্গে মানবাধিকার সংক্রান্ত জাতিসংঘের হাইকমিশনার জেইডরাদ আল হুসেন তাঁর আবেদনের কথা উল্লেখ করেছেন।

শ্রীলংকার বহু মানুষ সংবিধান সংশোধনে দৃঢ়ভাবে আপত্তি জানানোর কারণ হলো তারা মনে করেন, এটা পশ্চিমারা দেশটির উপর চাপিয়ে দিয়েছে। সেইসঙ্গে তারা আতঙ্কিত যে, এই পদক্ষেপ দেশের সার্বভৌমত্ব এবং সিংহলী বৌদ্ধ দেশ হিসেবে শ্রীলংকার পরিচিতিকে বিপদগ্রস্ত করে তুলবে।

তবে লঙ্কাবাসীদের কাছে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিলেও, সরকার দুই বছর আগে জেনেভাতে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রূতি মানতে বাধ্য।

এক্সিকিউটিভ হিসেবে প্রেসিডেন্টের হাতে ক্ষমতা না দিয়ে সংসদকে ক্ষমতা প্রদান এবং ঐক্যবব্ধ শ্রীলংকার মধ্যে দেশের উত্তর ও পূর্ব অংশকে স্বায়ত্তশাশনের অধিকার দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে সেখানকার প্রদেশগুলিতে পর্যাপ্ত স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার লক্ষে নতুন গণতান্ত্রিক সংবিধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মৈত্রিপালা সিরিসেনা ও রণিল বিক্রমাসিংঘে   দেশের প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। উত্তরাঞ্চলের প্রদেশে তামিলরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। আর দেশের পূর্ব অংশে তামিল, মুসলিম এবং সিংহলীদের মিশ্রণ রয়েছে। তবে কিছু কিছু অংশে তামিল এবং মুসলিমরাই বেশি।

সংখ্যালঘুদের দ্বারা প্রধানত নির্বাচিত হওয়া সত্ত্বেও বর্তমান সরকার আতঙ্কে রয়েছে যে, সংখ্যালঘুদের দিকে ঝুঁকে থাকলে দেশের বৌদ্ধ জনসংখ্যার(শ্রীলঙ্কায় ৭৫ শতাংশই বৌদ্ধ)কাছে তারা অপ্রিয় হয়ে পড়বে। তারা আরও মনে করছে যে, এর ফলে তারা রাজনৈতিকভাবেও মাহিন্দা রাজাপাকসে এবং তাদের নিয়ন্ত্রিত জোটের কাছে হেরে যাবে। কেননা, এদের রয়েছে শক্তিশালী জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ অনুগামী ।

তবে জাতিসংঘের কাছেও সরকার বাধিত এবং দায়বদ্ধ। জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে, যেখানে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ রয়েছে, সেখান থেকে বেরিয়ে আসার জন্য ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে সরকার ইনটারন্যাশনাল কনভেনশন ফর দ্য প্রোটেকশন অব ওয়ার পারসনস ফ্রম এনফোর্সড ডিসা্পিয়ারেন্স স্বাক্ষর করেছিল। আর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, এটাকে দেশের অভ্যন্তরীণ আইনে অর্ন্তভুক্ত করবে।

গত সপ্তাহে এক কঠোর বার্তা দিয়ে মাহিন্দা রাজাপাকসে সতর্ক করে বলেছেন, এই আইনের ফলে শ্রীলংকায় সংগঠিত যে কোনও অপরাধের ক্ষেত্রে বিদেশিদের হাতে শ্রীলংকার নাগরিকদের গ্রেপ্তার করার অনুমতি থাকার বিপদ নিয়ে শ্রীলংকার মানুষ ক্রমশ জেগে উঠছে। রাজাপাকসে আরও সতর্ক করিয়ে দিয়েছেন যে, ২০০৯ সালে এলটিটিই-র বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিজয়ী শ্রীলংকার সেনাবাহিনী এর ফলে সবচেয়ে বিপদে পড়বে।

সাবেক প্রেসিডেন্ট বলেন, নিখোঁজ কথাটির মধ্যে খুঁজে বার করার চেষ্টার প্রতিফলন রয়েছে। কিন্তু প্রস্তাবিত আইনের উদ্দেশ্যই হল নিখোঁজ ব্যাক্তিকে খুঁজে বের করা নয়, বরং যারা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হয়েছে তাদের খুঁজে বের করে শাস্তি দেওয়া।

রাজাপাকসের এই সতর্কতার পরেই দেশের প্রধান বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা সংবিধান সংশোধনের বিরুদ্ধে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন।

তবে আন্তর্জাতিক কনভেনশনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বলপূর্বক নিখোঁজ নিষিদ্ধ করে সরকার যে বিলের খসড়া তৈরি করেছিল সেটি গত বুধবার পেশ করার জন্য নির্ধারিত থাকলেও তা করা হয় নি। সভার নেতা লক্ষ্মন কিরিয়েল্লা বলেছেন, সরকারি দলের অনেক এমপি বিলটি পর্যালোচনার জন্য সময় চাওয়াতেই নির্ধারিত থাকা সত্ত্বেও খসড়া বিলটি সংসদে পেশ করা হয়নি।

বিলম্বিত হওয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন সাব কমিটি তৈরি করে ২০১৫ সালেই সংবিধান রচনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল্। কিছু প্রাথমিক দূরদর্শী রিপোর্ট তৈরি হওয়া সত্ত্বেও বর্তমানে তা সমস্ত সংসদীয় দলের প্রধানদের সমন্বয়ে গঠিত স্টিয়ারিং কমিটিতে আটকে রয়েছে।

ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ, রাষ্ট্রের চরিত্র নির্ধারণ (এটি যুক্তরাষ্ট্রীয় হবে না ইউনিটারি হবে) এবং বৌদ্ধ ধর্ম ও অন্যান্য ধর্ম, যেমন হিন্দু, খ্রীশ্চান ও ইসলাম ধর্মের সঠিক অবস্থান কি হবে, সে সব নিযে মতভেদ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন দল ভিন্ন ভিন্ন মত দেওয়ার ফলে কিভাবে সংস্কার প্রক্রিয়া চালানো হবে তা নিয়ে কোনও অগ্রগতি হয়নি। সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি যা তাতে আগামী ২০১৯ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে পর্যন্ত সংবিধান তৈরির প্রক্রিয়া বিলম্বিত হবে। নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসবে এবং মাহিন্দা রাজাোকসে ও গোতাবায়া রাজাোকসে পর্দার আড়ালে প্রচার অভিযান শুরু করে দেওয়ায়, এটা মনে করার যথেষ্ট কারণ রযেছে যে, শ্রীলংকার রাজনীতির বাস্তবতায় সংবিধান তৈরির প্রক্রিয়া দৃষ্টির বাইরে ঠেলে দেওয়া হবে। আসলে নতুন সংবিধানের খসড়া তৈরি এবং নিখোঁজ সংক্রান্ত বিল পেশ করার ক্ষেত্রে বিলম্ব হওয়ার প্রধান কারণ হলো, সংখ্যাগরিষ্ঠ সিংহলী বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে এটি প্রবল বিতর্কিত বিষয় হয়ে উঠেছে। এছাড়া যারা ভোট দিয়ে নতুন সরকারকে এনেছিল প্রস্তাবিত সুশাসন এবং যুদ্ধপরবর্তী সমঝোতা নিয়ে তাদের আস্থা কমার কারণেও এগুলি পিছিয়ে গিয়েছে।

তবে রাজাপাকসের মত ব্যাক্তিরা যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছেন তা প্রতিহত করতে প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংঘে গত বুধবার সংসদে প্রতিশ্রুতি দিযেছেন যে, সংবিধনের নবম ধারা সংশোধনের কোন পদক্ষেপ করা হবে না। এই ধারায় বৌদ্ধ ধর্মকেই সবার উপরে স্থান দেওযা হয়েছে। এও বলা হয়েছে রাষ্ট্রের দায়িত্বই হল বৌদ্ধ ধর্মকে রক্ষা করা এবং প্রসারের জন্য কাজ করা। অবশ্য সংবিধানের ১০ এবং ১৪ (১)ঘ ধারায় অন্যান্য ধর্মকেও সমান অধিকার দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেছেন,“এখন পর্যন্ত বিভিন্ন প্রস্তাবের যে সংক্ষিপ্তসার পাওয়া গিযেছে সেগুলিই স্টিয়ারিং কমিটির কাছে পেশ করা হযেছে। স্টিয়ারিং কমিটি এখন পর্যন্ত কোনও খসড়া তৈরি করেনি। আর আমি যতদিন পর্যন্ত স্টিয়ারিং কমিটির চেয়ারম্যান রয়েছি ততদিন পর্যন্ত নবম ধারা সংশোধন হবে না।”

নতুন সংবিধান তৈরির আসল উদ্দেশ্যই হল, তামিল জাতিগত বিরোধের পরিণতিতে  তিরিশ বছর ধরে চলা গণযুদ্ধের অবসান এবং  তামিল অধ্যুষিত উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের মধ্যে ক্ষমতার বণ্টনের সমাধানের মাধ্যমে তামিল জাতিগত প্রশ্নের স্থায়ী মীমাংসা করা। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ সিংহলীরা মনে করে যে, পশ্চিমা শক্তির সঙ্গে যুক্ত তামিল রাজনীতিবিদরা চাইছে সংবিধানের বৈপ্লবিক পরিবর্তন। অথচ পশ্চিমারা এই অভিযোগের ব্যাপারে নাছোড়বান্দা যে, শ্রীলংকার নিরাপত্তা বাহিনী যুদ্ধাপরাধ করেছে এবং সরকার গণহত্যা চালিয়েছে। এদিক থেকে দেখলে সংবিধান তৈরির উদ্দেশ্য হল এলটিটিই যুদ্ধের মাধ্যমে যা চেয়েছে সেই আলাদা হওয়ার মানসিকতাকেই উৎসাহিত করার পদক্ষেপ নেওয়া।

মজার ব্যাপার হল, প্রধান বৌদ্ধ ধর্মগুরুরা সম্প্রতি দেওযা তাদের বিবৃতিতে প্রিভেনশন অব টেরোরিজম অ্যাক্ট সংশোধনের চেষ্টারও বিরোধিতা করেছেন। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের জিএসপি প্লাস কর সুবিধা পাওয়ার জন্য সরকারের অন্যতম শর্তই ছিল এই সংশোধন আনা। গত মে মাসেই শ্রীলংকার ক্ষেত্রে এই সুবিধা পুনরায় বলবৎ করেছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের বাজারে শ্রীলংকার রপ্তানী পণ্য সস্তা করার লক্ষ্যে আকর্ষণীয় কর সুবিধা দেবার নাম করে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এই দ্বীপরাষ্ট্রের যুদ্ধ পরবর্তী অবস্থা নিষ্পত্তির সঙ্গে বিপর্যন্ত অর্থনীতিকে শক্ত করে জুড়ে দিয়ে কঠিন শর্ত আরোপ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এর ফলে এক অদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শ্রীলংকা সরকার বিপথগামী স্থানীয় ও বিদেশী স্বার্থের জাতাকলে পড়েছে। জণগণের রাজনৈতিক রায়ের মুখোমুখি হওয়ার আতঙ্কে সরকার স্থানীয় নির্বাচন এবং আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য প্রাদেশিক কাউন্সিলের নির্বাচনকে পিছিয়ে নিয়ে চলেছে। তবে আইন অনুয়ায়ী স্থানীয় সরকারের নির্বাচন সরকার করবে কি করবে না তা ঠিক করার অধিকারী হলেও একটি নির্দ্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রাদেশিক কাউন্সিলের নির্বাচন করা সরকারের জন্য বাধ্যতামূলক।

এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে শ্রীলংকার ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু এবং পশ্চিমাদের চক্রান্তে দেশের উপর গোপনে অগ্রহণযোগ্য সংবিধান চাপিয়ে দেবার অভিযোগ থেকে মুক্ত করার ক্ষেত্রে সরকারের সামনে ভাল পথ হলো গণভোটের সুযোগকে কাজে লাগানো।