ভুটানে পাঁচ মাসে ১২০ শিক্ষকের পদত্যাগ

ভুটানে পাঁচ মাসে ১২০ শিক্ষকের পদত্যাগ

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন

বর্তমান একাডেমিক সেশনের শুরু থেকেই ভুটানে প্রতিদিন গড়ে একজন শিক্ষক স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া তথ্যে বিষয়টি জানা যায়।

২০১৬ সালে পুরো বছরে পদত্যাগকারী শিক্ষকের সংখ্যা ছিল ২০০, সে তুলনায় এ বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই ১২০ জন শিক্ষক পদত্যাগ করেছেন। ২০১৫ সালে ১৪২ জন শিক্ষক পদত্যাগ করেছিলেন। গত পাঁচ বছরে ভুটানে মোট ১৪৬৪ জন শিক্ষকতা পেশা ছেড়ে দিয়েছেন।

শিক্ষা মন্ত্রী নরবু ওয়াংচুক দাবী করেন, মন্ত্রণালয়ের সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর পরিস্থিতির উন্নতি হবে। তিনি এও বলেন যে “তবে একাডেমিক সেশনের মাঝখানে শিক্ষক চলে যাওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ,”।

সামেসের একজন শিক্ষক নাম প্রকাশের না করার শর্তে কুয়েসেলকে বলেন যে, বেশিরভাগ শিক্ষককে অতিরিক্ত কাজের চাপ, নিচুমানের কর্মপরিবেশ এবং তুলনামূলক কম আয় ইত্যাদি কারণ চাকরি ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবিত করে।

তিনি বলেন, তার মত অনেকের কাছেই অস্ট্রেলিয়া চূড়ান্ত গন্তব্য। কাজের পরিস্থিতির উন্নতি, চাপ হ্রাস এবং পারিশ্রমিক বৃদ্ধি পেলেও অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার স্বপ্ন সবসময়ই থাকবে। আর উচ্চাভিলাষীরা আরও নতুন সুযোগের সন্ধানে থাকবে।

আয়ের দিক তুলনার ক্ষেত্রে নরবু ওয়াংচুক বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় যা উপার্জন করা সম্ভব ভুটান সরকার কোন সময়ই তা দিতে পারবে না।

তিনি বলেন, শিক্ষকদের জন্য পেশাদার উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসাবে গত বছরে শিক্ষানীতি রূপান্তরে ১০০ মিলিয়ন ন্যূ ব্যয় করা হয়েছিল। এই বছর মন্ত্রণালয় ইংরেজিতে কার্যকরী যোগাযোগের জন্য আরও ১০০ মিলিয়ন ন্যূ খরচ করবে। এছাড়া শিক্ষকদের উপর থেকে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কাজ সরিয়ে নেয়া হয়েছে,

নরবু ওয়াংচুক বলেন মন্ত্রণালয় এর বাইরেও শিক্ষকদের কাজের চাপ নিয়ে পর্যালোচনা করছে। প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশ্য বলেছিলেন যে সকল শিক্ষককে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি দেওয়ার জন্য ব্যবস্থা করা হবে, মন্ত্রণালয় এই ঘোষণা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে বলে জানানো হয়।

তবে, এই বছরের এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, এই বিষয়ে সরকারের খুব বেশী উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত হবে না কারণ সকল ভুটানির অধিকার রয়েছে তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ বেছে নেওয়ার।

তিনি বলেন যে “২০১৬ সালে স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে শিক্ষকরা মোট শিক্ষকসংখ্যার মাত্র ২.৪%। শতকরা হার হিসাব করলে, এটি সিভিল সার্ভিসে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।”

 

 

SOURCEকুয়েনসেল
শেয়ার করুন