দল পাল্টানো এমপিদের সংসদ পদ বাতিলের আহ্বান সুপ্রিম কোর্টের কাছে

দল পাল্টানো এমপিদের সংসদ পদ বাতিলের আহ্বান সুপ্রিম কোর্টের কাছে

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন

অন্য দলে যোগদান করা বা পার্টি থেকে বহিষ্কৃত করা হয়েছে কিংবা অন্য কোন কারণে নির্বাচনকালীন দল ছেড়ে চলে যাওয়া সংসদ সদস্যদের আসন বাতিলের জন্য  সুপ্রিম কোর্টের কাছে আহ্বান করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ অনিল।

সোমবার সকালে  সাংবিধানিক মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের এজেন্ডায় হঠাৎ করে অন্তর্ভুক্ত করার পর ঐদিন বিকালেই এই বিষয়ে প্রথম শুনানি ঘটে।

ক্ষমতাসীন দলের দশজন সংসদ সদস্য স্পিকার আবদুল্লা মাসীহ মোহামেদকে অপসারণের জন্য বিরোধী দলীয় জোটের সঙ্গে যোগ দেওয়ার পরে এধরণের আহ্বান এলো। গত সপ্তাহে ৮৫ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৪৫ জনের স্বাক্ষরসহ একটি অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়, এতে করে সংসদে প্রেসিডেন্ট আবদুল্লা ইয়ামিনের সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হুমকির মুখে পড়ে গিয়েছে।

সম্প্রতি এই দশজন ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যদের মধ্যে ৮জন মালদ্বীপের ক্ষমতাসীন প্রগ্রেসিভ পার্টি ছেড়ে দিয়েছেন। এর মধ্যেই গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল যে অ্যাটর্নি জেনারেল জুলাই ২৪ এর অনাস্থা ভোট প্রতিহত করতে সুপ্রিম কোর্টের রায় পাওয়ার চেষ্টা করবেন।

মোহাম্মদ অনিল সুপ্রিম কোর্টকে বলেন, যে সকল এমপি দলীয় টিকেটে নির্বাচন করে পরবর্তীতে দল পরিবর্তন করে তারা ভোটারদের সাথে তাদের সামাজিক চুক্তি ভেঙ্গে, ভোটারদের সমর্থিত মতাদর্শ পরিত্যাগ করে। সংসদ সদস্যদের এক দল থেকে দলে লাফ দেওয়া অগণতান্ত্রিক পদ্ধতি যা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। কারণ এতে আইনপ্রণয়নকারীরা বাহ্যিক প্রভাবের প্রতি উন্মুক্ত হয়ে পড়ে বলে তিনি যুক্তি দেন। ভারত, সিঙ্গাপুর, বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ডের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন যে এই দেশগুলিতে দল পরিবর্তন করলে তাদের আসন হারাতে হয়।

প্রেসিডেন্ট ইয়ামিনকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য বিরোধীদলীয় নেতাদের অনেককেই অভিযুক্ত করেছেন আনিল, যার মধ্যে আছে ২০১৫ সালের মে দিবসের গণ বিক্ষোভ, ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরের রাষ্ট্রপতির স্পিডবোটের কাছে বিস্ফোরণ এবং প্রেসিডেন্টকে মিথ্যা ওয়ারেন্ট দিয়ে গ্রেফতারের চেষ্টা। এটা এখনও পরিষ্কার নয় যে অ্যাটর্নি জেনারেলের এবারের আহ্বান বিবেচনায় তার আগের কাজগুলোকে আমলে নেওয়া হবে কিনা।

২০১৪ মার্চের সংসদীয় নির্বাচনের পর জুমহুরি পার্টি থেকে ৯ জন সংসদ সদস্য,  প্রধান বিরোধীদল মালদ্বীপের ডেমোক্রেটিক পার্টির চারজন এবং ৪ জন স্বতন্ত্র এমপি পিপিএমে  যোগ দান করে। পিপিএম প্রাথমিকভাবে ৩৩ টি আসনে জয়লাভ করে কিন্তু ২০১৬ এর শেষ নাগাদ তাদের সংসদীয় দলকে ৪৮ এ উন্নীত করতে সক্ষম হয়।

সুপ্রিম কোর্টের মামলাটি পিপিএম দল ছেড়ে যাওয়ার একটি ধারা শুরু করে যেখানে সংসদ সদস্য আবদুল্লা সিনান, সৌদুল্লা হিলি, আবদুল্লা আহমেদ, এবং আহমেদ তৌরাক দল থেকে তাদের পদত্যাগ ঘোষণা করেন। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের শুনানি শেষে পিপিএমের সাবেক সভাপতি মামুন আব্দুল গাইয়ুম অংশের দুই সংসদ সদস্য সৈয়দ হুসাইন ও মোহাম্মদ মোস্তফায় দল ছেড়ে যান।

পার্টির নেতৃত্বের বিতর্কের মধ্যে গাইয়ুম-পুত্র এমপি ফারিসসহ মামুন গাইয়ুমের সমর্থক তিন পিপিএম এমপি ইতিমধ্যে দলীয় শৃঙ্খলা কমিটির দ্বারা বহিষ্কার হয়েছেন। গাইয়ুম তার সৎভাই ইয়ামিন এর সাথে ক্ষমতা নিয়ে দ্বন্দ্বের পরিপ্রেক্ষিতে পিপিএম দুটি দলে বিভক্ত হয়েছে। মে মাসের শেষের দিকে, রাষ্ট্রপতি, ভাইস প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রী, বিচারক, অডিটর জেনারেল, প্রসিকিউটর জেনারেল এবং স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের অপসারণের বৈধতা নির্ধারণে সুপ্রিম কোর্ট নিজেই নিজেকে চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে।