জাতিসঙ্ঘ দূতের সফরকালে রাখাইনে বিক্ষোভ

জাতিসঙ্ঘ দূতের সফরকালে রাখাইনে বিক্ষোভ

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন

মানবাধিকারবিষয়ক জাতিসঙ্ঘ বিশেষ দূতের রাখাইন অবতরণের বিরুদ্ধে প্রায় দুই হাজার লোক বুধবার রাজ্যটির রাজধানীর সিত্তুই বিমানবন্দরে প্রতিবাদ জানায়। স্থানীয় অধিবাসী ও পুলিশ এ খবর জানিয়েছে।

রাখাইনের মানবাধিকার পরিস্থিতি যাচাইয়ের জন্য জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকারবিষয়ক দূত ইয়াংহি লি এবং তার দল ১০-১১ জুলাই মিয়ানমার সফর করছে। জাতিসঙ্ঘ তদন্তকারীদের এটা মিয়ানমারে ষষ্ট সফর।

স্থানীয় বৌদ্ধ এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় মঙ্গলবার উগ্র জাতীয়তাবাদী সন্ন্যাসী উ বিরাথুও রাখাইন পৌঁছেছেন। রাখাইনের উত্তরের গ্রামগুলোতে হামলা চালানো এবং ৪ জুলাই রাজ্যের রাজধানী সিত্তুইয়ে বৌদ্ধ দুর্বৃত্তরা এক রোহিঙ্গা মুসলিমকে হত্যার পর ওই এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক সতর্কতায় রয়েছে।

কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরে প্রতিবাদ জানানোর অনুমতি দিয়েছে বলে রাখাইন পুলিশ কর্মকর্তা চো লিউন জানিয়েছেন। এই প্রতিবাদের পেছনে কোন ব্যক্তি বা সংগঠন রয়েছে, তিনি তা জানাতে অস্বীকার করেন। তবে স্থানীয় মিডিয়া জানিয়েছে, স্থানীয় ক্ষুদ্র গ্রুপ রাখাইন আহলিন টাকার এই বিক্ষোভের আয়োজন করে।

সিত্তুই অধিবাসীরা ইরাবতীকে জানিয়েছে, কর্তৃপক্ষ প্রায় ১০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করেছিল। তাদের অনেকে অ্যাসাল্ট রাইফেলসজ্জিত ছিল।

বিক্ষোভকারীরা ‘উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার সমন্বয় চাই’ দাবি জানায়। উত্তর কোরিয়ার সাথে লির দেশ দক্ষিণ কোরিয়ার বৈরি সম্পর্কের রেশ টেনে তারা এই দাবি জানায়। তাছাড়া তারা লির মনোযোগ অন্যত্র সরানোরও প্রয়াস চালায় এর মাধ্যমে।

বুধবার বিকেলে লি এবং তার প্রতিনিধিদলের বুথিদাঙ টাউনশিপে যাওয়ার কথা ছিল। সেখানেও আরেকটি বিক্ষোভের ব্যবস্থা ছিল।
লি মঙ্গলবার রাখাইনের কিয়াকপু টাউনশিপে নাগরিক সমাজ, বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের (আইডিপি) এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে কয়েকটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছে।

কিয়াকপু টাউনশিপের পল্লী উন্নয়ন সমিতির সমন্বয়কারী উ তুন কিয়া স্থানীয় হোটেলে লি’র সাথে বৈঠক করেছেন। তিনি ইরাবতীকে জানিয়েছেন, তারা দূতের সাথে চারটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। এগুলো হলো, কিয়াকপু বিশেষ অর্থনৈতিক জোন; মাদয় আইল্যান্ড গভীর সমুদ্রবন্দরের কারণে জেলেদের মাছ ধরার এলাকা কমে যাওয়া; চীনা ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের তেল পাইপ লাইন (এর শুরু কিয়াকপু থেকে) নিয়ে বিরোধ এবং মুসলিম আইডিপি ও রাখাইনের বৌদ্ধদের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি।

কিয়াকতালুন ক্যাম্পের আইডিি উ মঙ হলা মঙ্গলবার লি’র সাথে বৈঠ করেছেন। তিনি বলেন, তারা তাদের মূল বাড়িতে তাদের ফিরে যাওয়ার বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। এছাড়া চলাচলের স্বাধীনতা, পূর্ণ নাগরিকত্ব সূচক গোলাপি জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানে বিলম্ব বেকারত্ব, স্বাস্থপরিচর্যাগত সমস্যা এবং শিশুদের শিক্ষার মতো বিষয়গুলো নিয়েও তারা আলোচনা করেন।

উগ্রজাতীয়তাবাদী উ বিরাথু দাবি করেছেন, তার রাখাইন সফরের সাথে জাতিসঙ্ঘ দূতের আগমনের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি গ্রামবাসীদের খাবার বিতরণ করবেন বলেও জানিয়েছেন।

 

শেয়ার করুন