সাংবাদিকদের বাধা দেওয়া হবে না রাখাইনে; মিয়ানমার সরকারের অঙ্গীকার 

সাংবাদিকদের বাধা দেওয়া হবে না রাখাইনে; মিয়ানমার সরকারের অঙ্গীকার 

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন

মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে কোন রকমের বাধা দেওয়া হবে না এরূপ অঙ্গীকার নিয়ে মিয়ানমার এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিত্বকারী বিদেশী সাংবাদিকরা বুধবার রাখাইন রাজ্যের সমস্যাগ্রস্ত অঞ্চলের পরিদর্শনের জন্য সেখানে পৌঁছেছে। এএফপি, নিক্কেই, ভিওএ, কিয়োডো নিউজ, সিনহুয়া, এপি, ফ্রন্টিয়ার, সিএনএ, টিভি আসাহী, আরএফএ, এবিসি, বিবিসি, এনএইচকে, রয়টার্স, এমআইটিভি এবং এমএনএ এর সাংবাদিকরা রাখাইন রাজ্যে তৃতীয় বারের এই সাংবাদিক সফরে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। গণমাধ্যমের কয়েকটি স্বাধীন গোষ্ঠী ১৯ থেকে ২২ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে প্রথমবার এবং পর্যন্ত ২৮ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল ২০১৭ তারিখে দ্বিতীয় বারের মত রাখাইনের মাউংতাও পরিদর্শন করেছে। বুধবার এসে পৌঁছানো ১৮ জন মায়ানমারের নাগরিক ও বিদেশী সাংবাদিক ১২ থেকে ১৬ জুলাই রাখাইন রাজ্যে অবস্থান করবেন। তারা সরকারের একটি সহায়তাকারী দলের সাথে বুচিডং ও মাউংতাও এর উত্তর এলাকায় পৌঁছায়। উ থাত সুই নামে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ ও পর্যালোচনার বিষয়ক একজন পরিচালক বলেন, “আপনাদের রিপোর্ট করার জন্য কোন ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হবে না। আপানাদের খবর সংগ্রহের জন্য আমরা কোন ‘শো’করছি না।”

গত বছর, মায়ানমারের সেনা সীমান্ত পোস্টে হামলায় নয় পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পরে এলাকাটিতে বেশ কয়েক দফা “ক্লিয়ারেন্স অপারেশন” পরিচালনা করে সেনাবাহিনী। জাতিসংঘের মতে, প্রায় ৭৫ হাজার মানুষ সীমান্তে আশপাশের অঞ্চল থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে যায়, যারা অপারেশন শুরু হওয়ার পর থেকেই সেনাবাহিনী দ্বারা নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ এবং হত্যার শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে।

সরকার বেশিরভাগ অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং জাতিসংঘের নিরপেক্ষ মিশনকে এ অভিযোগে তদন্ত করে দোষীদের খুঁজে পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা দিয়েছে। সরকার তাদের নিজস্ব নিরাপত্তার জন্য গত নয় মাসের জন্য তাদের উত্তরের এই রাজ্য থেকে স্বাধীন সাংবাদিক ও মানবাধিকার মনিটর টীমকে ঢোকার অনুমতি দেয় নি। স্টেট কাউন্সিলার আং সান সু চি বলেছেন, জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনটি এই অঞ্চলে উত্তেজনা আরো বাড়িয়ে তুলবে।
মিয়ানমারের কর্মকর্তারা বলেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট ইউ মিন্ট সুই নেতৃত্বে একটি কমিশনের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ তদন্ত এবং জাতিসংঘের সাবেক প্রধান কফি আনানের কমিশনের তত্তাবধানে রাখাইন রাজ্যে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

print