সই করার কথা স্বীকার এমপি রাশিদের

সই করার কথা স্বীকার এমপি রাশিদের

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন

মালদ্বীপে ক্ষমতাসীন প্রগ্রেসিভ পার্টি অব মালদিভসের (পিপিএম) এমপি আহমদ রাশিদ মঙ্গলবার প্রকাশ্যে পার্লামেন্টের স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে সই করার কথা স্বীকার করেছেন। ইতোপূর্বে তিনি অভিযোগ করেছিলেন, তার সই জাল করা হয়েছে।

গত সপ্তাহে বিরোধী জোট স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনে। এতে ক্ষমতাসীন দল পিপিএমের ১০ জন এমপির সই ছিল। রশিদ জোর দিয়ে বলেছিলেন, তিনি সই করেননি। তিনি তার সই জাল করার বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করার জন্য পার্লামেন্ট সচিবালয়ের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

কিন্তু মঙ্গলবার বিকেলে ক্ষমতাসীন জোটের এক সংবাদ সম্মেলনে রাশিদ বলেন, পিতৃতুল্য (তিনি তার নাম প্রকাশ করেননি) এক ব্যক্তির নির্দেশক্রমে তিনি সই করেছিলেন।

রাশিদ বলেন, তিনি ‘চিন্তা-ভাবনা’ না করেই সই করেছিলেন। তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে এখন বিষয়টি পুন:বিবেচনা করছেন।

তিনি বলেন, আমি ওই লোককে বলেছিলাম, আমি এতে অংশ নিতে পারি না। আমি এমন কাজ করতে পারি না। তা-ই আমার নাম এতে রাখবেন না।

তাকে এক দিন আগে আশ্বস্ত করা হয়েছিল, প্রস্তাবটি দাখিল করার সময় তালিকা থেকে তার নাম বাদ যাবে।

মালদ্বীপস ইন্ডিপেন্ডেন্ট তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও রাশিদ মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তিনি বলেন, আমি সবকিছু পরিষ্কার করেছি। আমি এ নিয়ে আর কিছু বলতে চাই না। আমি অপ্রয়োজনীয় কোনো কথা বলতে চাই না।
রাশিদ অনাস্থা প্রস্তাবে সই করার কথা অস্বীকার করার পর বিরোধী দল এমপি ফারিস মামুনের উপস্থিতিতে একটি নথিতে সই করার ছবি প্রকাশ করে।

তার সাবেক পিপিএম সহকর্মী এমপি মোহাম্মদ মোস্তফাও দাবি করেছেন, দুই সাক্ষীর সামনে প্রস্তাবটিতে সই করার আগে রাশিদ নামাজ পড়ে নিয়েছিলেন। সই করার ছবি তোলা হয়েছিল।

ওই প্রস্তাবে সইকারী পিপিএমের অপর ৯ এমপি দল ত্যাগ করেছিলেন। তাদের সদস্যপদ খারিজ করার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা চাওয়ার পর তারা ওই সিদ্ধান্ত নেয়।

স্পিকার আবদুল্লা মাসিহ মোহাম্মদের বিরুদ্ধে এবার ক্ষমতাসীন দলের যে ১০ সদস্য অনাস্থা প্রস্তাবে সই করেছেন, তাদের সবাই গত মার্চে পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। ওইসময় বিরোধী দলের ১৩ এমপিকে বলপূর্বক বের করে দিয়ে বিতর্কিত রোল কল করা হলে বিরোধীদের উদ্যোগ ভ-ুল হয়ে গিয়েছিল।

স্পিকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারলে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিনের ক্ষমতা ব্যাপকভাবে হ্রাস পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। তার সৎভাই এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট মামুন আবদুল গাইয়ুম বিরোধীদের সাথে যোগ দেওয়া পর ইয়ামিন জটিল অবস্থায় পড়ে গেছেন। ক্ষমতা হ্রাস করার পর গাইয়ুম বিরোধী শিবিরে যোগ দিয়েছেন।

এবারে ৪৫ জন সদস্য স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে সই করেছেন। ৮৫ সদস্যবিশিষ্ট পার্লামেন্টে স্পিকারকে পদচ্যুত করার জন্য এই সংখ্যক ভোটই যথেষ্ট।

২০১৪ সালের মার্চে মালদ্বীপে পার্লামেন্ট নির্বাচন হয়েছিল।