শ্রীলংকায় আর্থিক সহায়তা দ্বিগুণ করল বিশ্বব্যাংক

শ্রীলংকায় আর্থিক সহায়তা দ্বিগুণ করল বিশ্বব্যাংক

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন

বিশ্বব্যাংকের একটি গ্রুপ থেকে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তার জন্য ১৩৪০ মিলিয়ন ডলার (২০৭ বিলিয়ন রুপী) পাবে বলে জানিয়েছেন অর্থ মন্ত্রনালয় । ১ জুলাই থেকে শুরু তিন বছরের মেয়াদের জন্য ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এসোসিয়েশন আইডিএ এর ট্রান্সিশনাল সাপোর্ট ফ্যাসিলিটির অধীনে এই অর্থ পাবে শ্রীলঙ্কা। এর আগে শ্রীলংকার ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সময়ের জন্য ৬৬০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা পেয়েছিল আইডিএ থেকে। আইবিআরডি (পুনঃনির্ধারণ ও উন্নয়ন ব্যাংকের জন্য আন্তর্জাতিক ব্যাংক) থেকে আসা আনুমানিক ৩০০ মিলিয়ন ডলার প্রতি বছর শ্রীলংকার জন্য বরাদ্দ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আইডিএ এবং আইবিআরডি উভয়ই বিশ্ব ব্যাংক গ্রুপের সদস্য প্রতিষ্ঠান। এই তহবিলটি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য আর্থিক সহায়তা এবং বিশ্লেষণী ও উপদেষ্টা সেবাগুলির জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য দেওয়া হবে।

শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকে অর্থ ও গণমাধ্যম মন্ত্রী মংলা সামারাবিরাকে মঙ্গলবার এই তথ্য জানান। বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর ইদাহ জেড রিদ্দিহফ বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় দেশের চলমান এবং প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলির অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি এসময় শ্রীলংকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে বলেন যে, উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও শ্রীলংকার পারফরম্যন্স ২০১৬ এবং ২০১৭ সালের প্রথম দিকে যথেষ্ট সন্তোষজনক ছিল।

বিশ্বব্যাংক ২০১৬ সালে শ্রীলংকার গৃহীত সংশোধনী নীতির স্বীকৃতি দেয় এবং স্থিতিশীলতার প্রথম লক্ষণ হিসাবে পূর্ববর্তী বছরে বাস্তবায়িত সম্প্রসারণমূলক রাজস্ব এবং আর্থিক নীতির প্রশংসা করে। অর্থ ও গণমাধ্যম মন্ত্রণালয়ের মতে, রাজস্বের বৃদ্ধি এবং ব্যয়বৃদ্ধি কৌশলগতীকরণের ফলে ২০১৫ সালের রাজস্ব ঘাটতি যেখানে জিডিপির ৭.৬ শতাংশ, তা ২০১৬ সালে জিডিপির ৫.৪ শতাংশে নেমে আসে। রাষ্ট্র মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের আয় ও লভ্যাংশ বৃদ্ধি সার্বিক রাজস্ব বৃদ্ধিতে প্রধান অবদান রাখে। এর পাশাপাশি ২০১৬ সালের শেষের দিকে ভ্যাট আইনে পরিবর্তন ও উন্নত রাজস্ব প্রশাসনব্যবস্থা কর সংগ্রহকে আরও শক্তিশালী করে বলে জানানো হয়। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী শ্রীলংকার রাজস্ব ঘাটতি ২০১৭ সালে জিডিপি’র ৫.২ শতাংশে নেমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি ভ্যাট নীতি পরিবর্তনের প্রথম বছরেই এর পূর্ণাঙ্গ প্রভাব বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। খরচের দিকে বিশ্বব্যাংকের বর্ধিত রাজস্ব প্রকল্পগুলি প্রাথমিকভাবে সরকারি বিনিয়োগে সহায়ক করবে। এই ভিত্তিরেখা অনুযায়ী, রাজস্ব ঘাটতি ২০২০ সালের মধ্যে জিডিপির ৩.৫ শতাংশে নেমে আসবে। ২০১৭ অর্থবছরে প্রাথমিকভাবে অর্থনৈতিক ব্যয়ের অনুপাত নেতিবাচক থেকে ইতিবাচক হবে বলে মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে।

print
SOURCEডেইলি এফটি
শেয়ার করুন