সন্ত্রাসবিরোধী সম্মিলিত লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ওবিওআর

সন্ত্রাসবিরোধী সম্মিলিত লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ওবিওআর

ডিং গং,
শেয়ার করুন

অঞ্চল ও সড়ক উদ্যোগ পুরোপুরি বোঝার জন্য প্রথম ধারণাটি হলো কানেকটিভিটি। ধীরগতির অভিযাত্রার মাধ্যমে প্রাচীন সিল্ক রোডগুলো স্থুল ও নৌপথে বহু জাতি ও জনপদের মধ্যে সংযোগ ঘটিয়েছিলো। এসব সড়ক পথে শুধু পণ্য পরিবাহিত হয়নি, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ধারণার বিস্তার ঘটেছে। এই সড়কগুলো ধরেই পূর্ব ও পশ্চিম ঘনিষ্ঠ হয়েছে, বিশ্ব ছোট হয়ে এসেছিলো।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসবিদ পিটার ফ্রাঙ্কোপান তার ‘দি সিল্ক রোডস : এ নিউ হিস্ট্রি অব দ্যা ওয়ার্ল্ড’ বইয়ে লিখেন: সিল্করোডগুলোর আশেপাশে থাকা সংস্কৃতি, নগর ও জনগোষ্ঠীগুলোর উন্নতি ও অগ্রগতির ভালো কারণ ছিলো। কারণ, তারা পরস্পরের কাছ থেকে শেখা ও ধার করা ধারা সরবরাহ ও বিনিময় করতো। এতে দর্শন, বিজ্ঞান, ভাষা ও ধর্মের আরো বিস্তার ঘটেছে।

প্রাচীন সিল্ক রোডগুলোর অবদানকে সামনে এগিয়ে নিতে অঞ্চল ও সড়ক উদ্যোগ নেয়া হলেও এর ধরন কিছুটা ভিন্ন। এতে স্বার্থগুলো, তথা অন্তর্ভুক্ত সকল দেশের সুফলগুলো সংযুক্ত করার ওপর অনেক বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সন্ত্রাস-বিরোধী দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা অভিন্ন স্বার্থের গুরুত্বটি উপলব্ধি করতে পারি। চীনের রূপকল্প ‘ওবিওআর’ উদ্যোগ আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এই উদ্যোগের সম্প্রসারণ মধ্য এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে চরমপন্থী ও সন্ত্রাসীদের অবিরাম তৎপরতায় টান ধরাবে। এর ফলে এই উদ্যোগ সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধে সহযোগিতা বিস্তৃত করতে সহায়ক হবে।

কার্যকর ও ইতিবাচক সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতার জন্য চাই স্বার্থের সংযোগ। ওবিওআর প্রকল্প যতই এগিয়ে যাবে, ক্রমবর্ধমান সংখ্যক রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানকে আকর্ষণ করবে; তখন অভিন্ন স্বার্থগুলো তাদের মধ্যে পারষ্পরিক আস্থা তৈরি করবে, যা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ভিত্তি স্থাপন করবে।

অতীতে সিল্করোডগুলোর লাগোয়া দেশ, অঞ্চল ও গোষ্ঠীগুলোর খুব বেশি ঘনিষ্ঠতা গড়ে না ওঠা ও তাদের অভিন্ন স্বার্থগুলোর মধ্যেও মিল কম থাকায় সন্ত্রাস ও চরমপন্থী তৎপরতা বিস্তারের সুযোগ সৃষ্টি হয়। তারা পরষ্পরের সঙ্গে যুক্ত হলে দৃশ্যপট পুরোপুরি ভিন্ন হবে। এই উদ্যোগে যে পাঁচ ধরনের সংযোগের কথা বলা হয়েছে তার একটি প্রতিষ্ঠিত হবে অবকাঠামোর মাধ্যমে। অবকাঠামোতে প্রবেশ সুবিধা বাড়লে জনগণ অভিন্ন স্বার্থগুলো দেখতে পাবে। উন্নয়নকে সম্ভব করা গেলে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে নিরাপত্তা বিধানের জন্য শক্তিশালী চাহিদা তৈরি হবে।

যেমন নির্মাণাধিন ‘চীন-পাকিস্তান ইকনমিক করিডোর’ বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পকে সংযুক্ত করছে। এর মধ্য দিয়ে সহযোগিতা ও অভিন্ন উন্নয়নের ভিত্তি রচিত হচ্ছে। তখন এতে যুক্ত দেশগুলো সন্ত্রাসীদের মোকাবেলার কথা ভাববে এভাবে – আমার সমস্যা একইভাবে তোমারও সমস্যা।

এই অঞ্চল সন্ত্রাসবাদের গুরুতর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে। তাই আমরা যখন একই সড়ক, মহাসড়ক ও রেলপথ ব্যবহার করবো তখন সেগুলো বাধাহীন রাখতে আমাদেরকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ লক্ষ্যে চীন ও পাকিস্তান ইতোমধ্যে প্রচেষ্টা শুরু করেছে।

এ কথা একইভাবে চীন ও ভারতের মধ্যে সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতার ক্ষেত্রেও সত্য। বহু বছর আগে দু’দেশ ক্রমবর্ধমান সন্ত্রাসী হুমকি মোকাবেলা নিয়ে আলোচনা শুরু করে। কিন্তু ওই আলোচনা তেমন ফলপ্রসু হয়নি। এর সবচেয়ে বড় কারণটি ছিলো পারষ্পরিক আস্থার অভাব।

নয়াদিল্লি ওবিওআর উদ্যোগের উন্নয়নে অংশগ্রহণ করে, একটি আঞ্চলিক বড় শক্তি হিসেবে পুরোপুরি ভূমিকা রাখে এবং এর প্রভাব বিস্তার করে তাহলে তারা বেইজিংয়ের তরফ থেকে আরো বেশি মাত্রায় পারষ্পরিক আস্থা অর্জন করতে পারবে। তখন সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যের ভিত্তিতে যৌথ সামরিক মহড়ার চাহিদা তৈরি হবে এবং সন্ত্রাস-বিরোধী প্রয়াসের উন্নয়ন ঘটবে। ফলে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি অধিকতর কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার আশাবাদ তৈরি হবে।

অঞ্চল ও সড়ক উদ্যোগের মূল কথা হলো স্বার্থের সংযোগ। এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে অধিকতর অভিন্ন স্বার্থ খুঁজে বের করা ও স্বার্থের উন্নয়ন ঘটানো গেলে দেশগুলোর মধ্যে আরো অনেক কঠিন প্রশ্নে সহযোগিতা জোরদারের সুযোগ তৈরি হবে।

লেখক পিপলস ডেইলির সিনিয়ন এডিটর এবং বর্তমানে চীনের রেনমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের চংইয়াং ইন্সটিটিউট অব ফিন্যান্সিয়াল স্টাডিজের সিনিয়র ফেলো

print
শেয়ার করুন