শ্রীলঙ্কায় বিচারমন্ত্রীর সাথে জাতিসঙ্ঘ কর্মকর্তার উত্তপ্ত বিতর্ক

শ্রীলঙ্কায় বিচারমন্ত্রীর সাথে জাতিসঙ্ঘ কর্মকর্তার উত্তপ্ত বিতর্ক

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন
বিজয়দাসা রাজাপাকসে(বামে) বেন ইমারসন (ডানে)

মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে শ্রীলঙ্কার বিচারমন্ত্রী ড. বিজয়দাসা রাজাপাকসে, পিসি, এর সাথে সফররত জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার ও সন্ত্রাসদমনবিষয়ক দূত বেন ইমারসন, কিউসি,-এর তীব্র বাদানুবাদ হয়েছে।

শ্রীলঙ্কা ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে ইউএন স্পেশাল প্রসিডিউয়ুস ম্যান্ডেট হোল্ডার্স অনুমোদন করে।

ইমারসন ১০ জুলাই থেকে পাঁচ দিনের সফরে শ্রীলঙ্কা রয়েছেন। তিনি সন্ত্রাসদমন এলাকায় যুদ্ধ-পরবর্তী উদ্যোগ হিসেবে জাতিসঙ্ঘ নির্দেশিকার আলোকে গৃহীত উদ্যোগ এবং এতে জনসাধারণের মধ্যে কী প্রভাব পড়েছে, সে সম্পর্কে প্রত্যক্ষ তথ্য সংগ্রহের জন্যই এই সফর করছেন।

মন্ত্রী রাজাপাকসে জাতিসঙ্ঘ কর্মকর্তার কার্যক্রম নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন। বিচার মন্ত্রণালয়ে দু’জনের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তারা তীব্র বাদানুবাদে জড়িত হয়ে পড়েন বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সূত্রটি জানিয়েছে, রাজাপাকসে উত্তেজিত হওয়ায় ইমারসন কিছুটা চমকে গিয়েছিলেন। অবশ্য শ্রীলঙ্কায় জাতিসঙ্ঘ হস্তক্ষেপ নিয়ে রাজাপাকসে যে নাখোশ, তা ইমারসন জানতেন। ইমারসন মন্ত্রী রাজাপাকসেকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেন, তিনি প্রকাশ্যে বলে দেবেন যে মন্ত্রী জাতিসঙ্ঘের সাথে সহযোগিতা করছেন না। মন্ত্রী বলেন, ইমরাসন মিডিয়ার সামনে যা খুশি বলতে পারেন।

শুক্রবার বিকেলে কলম্বোতে জাতিসঙ্ঘ অবস্থান নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করবেন বলে আগেই নির্ধারিত রয়েছে। সূত্র জানায়, বিচারমন্ত্রীর সাথে ‘সঙ্ঘাতের’ বিষয়টি নিশ্চিতভাবেই স্থান পাবে।

মন্ত্রী রাজাপাকসে বলেন, শ্রীলঙ্কায় জাতিসঙ্ঘের অবস্থান পক্ষপাতদুষ্ট এবং অগ্রহণযোগ্য। ইমারসন বিষয়টি জাতিসঙ্ঘকে অবগত করেছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার বিচারমন্ত্রীর সাথে জাতিসঙ্ঘ দূতের বাদানুবাদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ইমারসনের কলম্বো পৌঁছার আগে জেনেভা থেকে ইস্যু করা এক বিবৃতিতে জাতিসঙ্ঘ জানায়, শ্রীলঙ্কার সন্ত্রাসদমননীতি এবং আইনি কাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট আইন প্রণয়নের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করা হবে। সকরারি কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুযায়ী হচ্ছে কিনা সেটাও দেখা হবে বলে জাতিসঙ্ঘ বিবৃতিতে বলা হয়েছিল।

মন্ত্রী রাজাপাকসে সম্প্রতি সন্ত্রাস দমন বিল (পিটিএ) বাতিলের বিষয়টি পুন:বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ওই আইনটিকে খুবই কঠোর অভিহিত করে সেটি বাতিল করার অনুরোধ করেছিল। শ্রীলঙ্কা সরকারও সেটি বাতিল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

ইমারসন শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র, আইন, বিচার, প্রতিরক্ষা, অর্থ, মিডিয়া, কারা সংস্কার, পুনর্বাসন, হিন্দু ধর্ম ইত্যাদি বিষয়ক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথেও বৈঠক করবেন।