দোহার সাথে গ্যাস আমদানি চুক্তি ঢাকার

দোহার সাথে গ্যাস আমদানি চুক্তি ঢাকার

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো কাতারের সাথে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির চুক্তি করেছে। প্রাকৃতিক গ্যাসের বিপুল চাহিদা পূরণের জন্য বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো এই জ্বালানি আমদানি করতে যাচ্ছে।

কাতারের রাসগ্যাস এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়াত্ত পেট্রোবাংলা এই চুক্তিতে সই করে। নগরীর পেট্রোসেন্টারে সই হওয়া বহুপ্রতীক্ষিত এই প্রাথমিক চুক্তি অনুযায়ী ১৫ বছরের ধরে বছরে প্রায় ২.৫ মিলিয়ন টন এলএনজি আমদানি করবে বাংলাদেশ। পেট্রোবাংলার এক সিনিয়র কর্মকর্তা ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসকে তথ্যটি নিশ্চিত করেন।

চুক্তিতে সই করার জন্য বুধবার রাসগ্যাসের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকায় আসে। গত সপ্তাহেই চুক্তিটি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মূল্য নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তখন চুক্তিটি হয়নি বলে পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পেট্রোবাংলা কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দুই পক্ষ আবারো মূল্য-বিষয়ক বিভিন্ন ফরমুলা নিয়ে আলোচনা করে। পরে অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক মূল্যের আলোকে গ্যাসের দাম নির্ধারণ করার ব্যাপারে উভয় পক্ষ একমত হয়।

বৃহস্পতিবারের বৈঠকে দাম পরিশোধের পদ্ধতি, চুক্তির মেয়াদ, গ্যাসের মান ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা হয়।

ওই কর্মকর্তা এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু বলেননি। তিনি এগুলোকে ‘গোপন’ বিষয় হিসেবে অভিহিত করেন।

গত জুনে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আবুল মনসুর মো. ফাইজুল্লাহ বলেছিলেন, কাতার সফরকালে কাতারের রাসগ্যাসের সাথে সরকারি পর্যায়ে প্রাথমিক আলোচনা চূড়ান্ত করেছেন। তারা মূল্য ছাড়া সব ইস্যুর সমাধান করেছেন।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদেনর পর আগস্টে চুক্তিটি চূড়ান্ত হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

বাংলাদেশের এটাই প্রথম দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি চুক্তি।

বাংলাদেশ ২০১১ সালে প্রথম রাসগ্যাসের সাথে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছিল। তখন বছরে প্রায় ৪ মিলিয়ন টন এলএনজি আমদানের কথা ছিল। এ নিয়ে ২০১৫ সালে একটি সমঝোতা হয়।

এছাড়া পেট্রোবাংলা সুইজারল্যান্ডভিত্তিক এওটি এনার্জির সাথে এলএনজি আমদানি নিয়ে সমঝোতা স্মারকে সই করেছিল। এ ব্যাপারে চূড়ান্ত চুক্তি হতে পারে বছরের শেষ নাগাদ।