মণিপুরের ‘এনকাউন্টার হত্যাকাণ্ড’: ২০০ টির বেশি মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

মণিপুরের ‘এনকাউন্টার হত্যাকাণ্ড’: ২০০ টির বেশি মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

এসএএম স্টাফ,
শেয়ার করুন

সুপ্রিম কোর্ট শুক্রবার মণিপুরের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে বিচার বহির্ভুত হত্যাকাণ্ডের ২০০টিরও বেশি মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। সরকার ও সেনাবাহিনীর আপত্তি খারিজ করে সুপ্রিম কোর্ট দুই সপ্তাহের মধ্যে এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় এজেন্সিটির রিপোর্ট চেয়েছে। সেনাবাহিনী, আসাম রাইফেলস এবং মণিপুর পুলিশ এর বিরুদ্ধে ২০০০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে মণিপুরে ১৫২৮টি ভুয়া এনকাউন্টার হত্যার অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।

বিচারপতি এম লোকউর এবং ইউ ইউ ললিতের সমন্বয়ে একটি বেঞ্চ, সিবিআই পরিচালককে এ ব্যাপারে তদন্তের জন্য কর্মকর্তাদের একটি দল গঠন করতে নির্দেশ দেন। এপ্রিল মাসে, ২৮২ টি মামলা যাচাইয়ের জন্য সুপ্রিম কোর্টে আসে।এর মধ্যে সেনা বাহিনী ও আসাম রাইফেলসসহ সশস্ত্র বাহিনীর সাথে সংশ্লিষ্টগুলোকে আলাদা করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিতে বেঞ্চকে বলা হয়। অনুরূপভাবে, মণিপুর সরকারকে স্থানীয় পুলিশ সংশ্লিষ্ট মামলা পরীক্ষা এবং আলাদা করার জন্য বলা হয়।

আদেশ অনুসারে, মণিপুর রাজ্য এই ২৬৫ টি মামলা পরীক্ষা করবে এবং মণিপুর পুলিশ সংশ্লিষ্ট মামলাগুলিকে পৃথক করবে। একইভাবে, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সেনাবাহিনী ও আসাম রাইফেলস সহ সশস্ত্র বাহিনীর সাথে সম্পর্কিত মামলাগুলিকে পরীক্ষা করে পৃথক করবে।

পিআইএল-এর উপর ভিত্তি করে, ২০১৬ সালে সুপ্রিম কোর্ট অভিযুক্ত হত্যার ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করার নির্দেশ দিয়ে বলে যে, সশস্ত্র বাহিনী (বিশেষ ক্ষমতা) আইন (আপ্সপা) এর অধীনে গোলযোগপূর্ণ এলাকায়  সশস্ত্র বাহিনী বা পুলিশ এর “অত্যধিক বা প্রতিশোধমূলক” ক্ষমতা ব্যবহার অনুমোদনযোগ্য নয় । সুপ্রিম কোর্ট আদেশে এটিও উল্লেখ করে যে, ” যদি কেবল সন্দেহের ভিত্তিতে নাগরিকদের রাষ্ট্রের শত্রু মনে করে হত্যা করা হয় তাহলে গণতন্ত্র অত্যন্ত মারাত্মক বিপদে পড়বে ।”

এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকার বলেছে যে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সেনা বাহিনীর মানবাধিকার বিভাগের মাধ্যমে পরিচালিত একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত ইতিমধ্যেই পরিচালিত হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট বলেছে যে গত ২০ বছরে এ পর্যন্ত ১৫২৮টি মামলায় সঠিক ও সম্পূর্ণ তথ্য এখান থেকে পাওয়া যায়নি।

সেনা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, জম্মু ও কাশ্মীর এবং মণিপুরের মত বিদ্রোহ-প্রবণ অঞ্চলে জঙ্গিবাদ বিরোধী অভিযান চালানোর জন্য এফআইআর এর আওতায় আনা যাবে না।